সাইনাসাইটিস কিংবা সাইনাস ইনফেকশনের সমস্যাটি প্রবল মাথাব্যথার অন্যতম একটি বড় কারণ। ভাইরাসজনিত এই সমস্যাটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা ফাংগাসের ফলেও দেখা দিতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত ঠান্ডার সমস্যা থেকে সাইনাসের ব্যথা দেখা দিলেও, দীর্ঘদিন সমস্যাটি রয়ে গেলে ক্রনিক হয়ে যেতে পারে।

মাথাব্যথাসহ, বন্ধ নাকের সমস্যা, কাশি, চোখ ফোলাভাব, খাবারের গন্ধ না পাওয়ার মত লক্ষণগুলোও দেখা দিতে পারে সাইনাসাইটিসের জন্য। এই সমস্যায় ব্যথাভাব দ্রুত কমাতে সাহায্য যে পদ্ধতিগুলো সেটা তুলে আনা হয়েছে আজকের ফিচারে।

গরম ভাপ নেওয়া

নাকের সাহায্যে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে গরম ভাপ টেনে নেওয়ার পদ্ধতিটি সাইনাসের ব্যথা কমাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। এর ফলে সহজেই নাসারন্ধ্র খুলে যায়, যা ব্যথা কমিয়ে আনে।

এর জন্য একটি বড় বাটিতে গরম পানি নিতে হবে। বাটির সরাসরি উপরে অন্তত এক হাত দূরত্বে মাথা রেখে মাথার উপরে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে করে গরম পানির ভাপ সরাসরি নাকে প্রবেশ করবে। এভাবে ১০ মিনিট থাকতে হবে। সাইনাসের তীব্র ব্যথা কমাতে প্রতিদিন ২-৩ বার এই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

গরম তোয়ালের ভাপ নেওয়া

সাইনাসের সমস্যায় অনেকেই গরম পানির ভাপ নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। যেহেতু গরম ভাপ সাইনাসের সমস্যা দ্রুত কমাতে সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে, তাই গরম ভাপ নেওয়ার আরেকটি পদ্ধতি হল গরম তোয়ালের ভাপ নেওয়া।

এর জন্য ছোট হ্যান্ড তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে আলতোভাবে নিংড়ে নিতে হবে। তবে সম্পূর্ণ নিংড়ানো যাবে না, অল্প পানি থাকলে গরমভাব বেশিক্ষণ থাকবে। এবারে মুখের ত্বকের ক্ষতি হবে না এমন তাপমাত্রায় আসলে তোয়ালেটি ভাঁজ করে নাকের উপর আড়াআড়িভাবে দিয়ে দিতে হবে। এতে করে নাক, চোখের নিচের অংশ ও গালের মাংসল অংশ গরম ভাপ পাবে। পাঁচ মিনিট এভাবে রেখে তোয়ালে সরিয়ে নিতে হবে এবং পুনরায় গরম পানিতে চুবিয়ে এমন নিয়মের পুনরাবৃত্তি করতে হবে।

ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েলে থাকা মনোটারপেনাস, জিরানিওলস, লাইনেলুল নামক প্রদাহ বিরোধী ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান সাইনাসাইটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে জানাচ্ছে ২০১৩ সালের একটি গবেষণার তথ্য। গরম এক কাপ পানিতে ৩-৪ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে পানির ভাপ নাকের সাহায্যে টেনে নিতে হবে। এছাড়া তুলার বলে এই এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নাকের কাছে রাখতে হবে তুলার বলটি।