শীত পড়তেই শুরু হয় নানারকম রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে সর্দি কাশি, বুকে কফ জমা খুবই স্বাভাবিক। জটিল আকার না নিলে ঘরোয়া উপায়েই এই রোগগুলো থেকে আরাগ্য লাভ করি। রোগ সারাতে বিভিন্ন টোটকায় থাকে আমাদের পরিচিত কিছু উপকরণ। এগুলো সারা বছরই বাড়িতে থাকে। এর মধ্যে একটি অন্যতম হলো মধু।

মধুর গুণ প্রায়ই সবারই জানা। নিয়মিত মধু খেলে ঋতু পরিবর্তনের সময় জীবাণু সংক্রান্ত রোগ সহজে কাবু করতে পারে না। একাধিক গুণের কারণে এটি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বেশ কিছু রোগের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শুধু রোগ সারাতে নয়, রান্নার স্বাদ বাড়াতে বেশ কিছু পদ মধু দিয়ে গার্নিশ করা হয়। এতে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই বেড়ে যায় পুষ্টিগুণ।

আসুন দেখে নেই মধুর গুণ

গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে: ঠান্ডায় প্রায়ই গলা ব্যথা, সর্দি ও কাশি হয়। মধু এই সমস্যাগুলো সহজে দূর করে। এর সঙ্গে ফুসফুসের বেশ কিছু সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। শীতের সকালে মধু দিয়ে এক কাপ গরম চা বা হালকা গরম জল খাওয়া শরীরের জন্য ভালো অভ্যাস।

ডায়াবিটিস ও ত্বকের বার্ধক্য রোধ করে: ডায়াবিটিস ও ত্বকে বলিরেখা ফুটে ওঠার প্রধান কারণ হল শরীরের বেশি পরিমাণে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হওয়া। এই স্ট্রেস শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। মধুর মধ্যে ফেনোলিক অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভনয়েড নামের দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই দুটি শরীরের অতিরিক্ত স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে টাইপ টু ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ছাড়াও প্রিম্যাচিউর বলিরেখার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: চল্লিশ বছরের বেশি বয়স এমন ৪৫০০ মহিলার উপর একটি সমীক্ষা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, নিয়মিত মধু খাওয়ার ফলে তাদের উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। এ ছাড়া রক্তে কোলেস্টেরল না বাড়ার কারণে হৃদযন্ত্রও ভালো ছিল।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: মধু নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মধুর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রপলিস শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।