বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের মূল আনুষ্ঠানিকতা। তবে বৃহস্পতিবার বাদ আসর থেকে মাওলানা আব্দুস সাত্তারের জিম্মাদারিতে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্বেও দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিদেশি মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। এবারের ইজতেমার শুরুর দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় যান চলাচলে নেই বাড়তি চাপ। রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, মৎস্য ভবন, কাকরাইল, শাহবাগ, সাইন্সল্যাব এলাকায় যানচলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এসব এলাকায় ঘুরে এমন পরিস্থিতি চোখে পড়ে।

আরও পড়ুন: ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব: বন্ধ-ডাইভারশন থাকবে যেসব সড়ক

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে গত মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এবারের ইজতেমায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৪ দেশের প্রায় চার হাজার বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সাধারণত ইজতেমাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সড়কে থাকে যানবাহনের বাড়তি চাপ। তবে আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাজধানীর সড়কে যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। সড়কে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক। ফলে ইজতেমার ময়দানে জুমার নামাজে অংশ নিতে যাওয়া মুসল্লিরা আজ ভোগান্তি ছাড়াই সড়কে যাতায়াত করতে পারছেন।

আরও পড়ুন: আমবয়ানে শুরু বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ময়দান

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঝেমধ্যে কিছু বাস আসছে। এ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বাসে উঠে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছেন।

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মিরপুর ১০ নম্বরে যেতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সজীব। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই সদরঘাট থেকে আসা এক বাসে ওঠেন তিনি। এর আগে  সজীব বলেন, যানজটের কারণে সাধারণত বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সড়কে বাস কম। এ কারণে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীজুড়ে যানজট, বিমানবন্দর সড়কে ঘুরছে না গাড়ির চাকা

ধানমন্ডি থেকে শাহবাগ আসা মাহবুব নামের অপর এক যাত্রী বলেন, রাস্তাঘাট ফাঁকাই আছে। ছুটির দিনে বাড়তি চাপ নেই। ইজতেমা তো আর এইদিকে না যে গাড়ির বেশি চাপ থাকবে।

জানা গেছে, আজ ইজতেমার ময়দানে জুমার নামাজ পড়াবেন দিল্লির মাওলানা সা’দ কন্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কন্ধলভী। পরে বয়ান করবেন ওয়াসিফুল ইসলাম। আসর বাদ নিজামউদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাঈদ বিন সা’দ বয়ান করবেন এবং তার তরজমায় থাকবেন মুফতি আজিমুদ্দিন। মাগরিব বাদ বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সা’দ এবং তা বাংলায় তরজমা করবেন সাওলানা ইউসুফ।