সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্বামীর সামনেই গৃহবধূকে অপহরণচেষ্টা ও হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনের নাম বাদ দিয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে।

যে তিনজনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও অভিযুক্তদের নির্দেোষ বলে দাবি করছেন এএসপি (তাহিরপুর সার্কেল) মো. বাবুল আকতার।

মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ভিকটিম গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের শ্যালকসহ তিন বখাটের নাম বাদ দিয়ে আগে নতুন করে এজাহার লিখে বুধবার রাত ১২টা ২৫ মিনিটে দুজনের নামে মামলা নেয় পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের ওয়ারিস মিয়ার ছেলে আয়নাল হক (২১) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে নজির হোসেন (২২)।

তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এ মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর তিন আসামির নাম নেই বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ভিকটিম গৃহবধূ।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, বুধবার রাতে আমাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ওসির কক্ষে বড় স্যার (এএসপি, তাহিরপুর সার্কেল) আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি ঘটনার সঙ্গে পাঁচজন জড়িত থাকার কথা বারবার বলি। কিন্তু বড় স্যার আমাকে ধমকাতে থাকেন। ঘটনার দিন অভিযুক্ত রহিম আমার স্বামীর শার্টের কলার ধরে মারধর করেছে। কিন্তু রহিমসহ তিনজন জড়িত নয় বলতে থাকেন তিনি।

‘এর পর আগের এজাহার বাদ দিয়ে নতুন এজাহার লিখে নিয়ে এসে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। কিন্তু রহিমসহ তিন আসামির নাম কেন বাদ দিছে তা বড় স্যার বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসপি (তাহিরপুর সার্কেল) মো. বাবুল আকতার বলেন, ভিকটিমের অভিযোগ অসত্য। প্রধান দোষী হলেন আয়নাল ও তার সহযোগী নজির। ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অন্য তিনজন নিরাপরাধ ছিলেন, তারা ঘটনার সময় ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, গত রোববার তাহিরপুরে স্বামীর সামনেই গৃহবধূকে অপহরণচেষ্টা ও হামলার ঘটনায় উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের আয়নাল, নজির ইউপি সদস্যের শ্যালক আব্দুর রহিম, একরাম, বাবুলের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত থানায় তা মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বুধবার দুপুরে তাহিরপুর থানার এসআই পাপেল রায় বলেন, ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বিষয়টি আপস করে দেবেন বলায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়নি।

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের বখাটে আয়নাল সহযোগীদের নিয়ে একই গ্রামের দরিদ্র পরিবারের এক তরুণীকে প্রায়ই আপক্তিকর প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার হাত থেকে রক্ষা পেতে দরিদ্র অভিভাবক গত পাঁচ মাস আগে ওই তরুণীকে পাশের খলিশাজুরী গ্রামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেন।

এর পর মাস তিনেক আগে আয়নাল তার সহযোগীদের নিয়ে ওই তরুণীর স্বামীর বাড়িতে বখাটেপনা করতে গিয়ে গ্রামবাসীর গণধোলাইয়ের মুখে পড়ে ফিরে আসে।

ঈদুল ফিতরের পর গত রোববার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসার পথে খেয়াঘাটের অদূরে মোটরসাইকেল থেকে নামামাত্র আয়নাল সহযোগীদের নিয়ে স্বামীর সামনেই ওই গৃহবধূকে অপহরণচেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই গৃহবধূর স্বামীকে বেধড়কভাবে মারধর করে বখাটে চক্র।

এদিকে ঘটনার রাতে গৃহবধূর স্বামীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ নিয়ে ১৯ মে ‘স্বামীর সামনে স্ত্রীকে অপহরণচেষ্টা, মামলা নেয়নি পুলিশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএমের নির্দেশনায় নড়েচড়ে বসে থানা পুলিশ।

এর মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচ বখাটেকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনজনকে থানা থেকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।