করোনা সংক্রমণ রোধে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে গণপরিবহন। এমন অবস্থায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে নিজ কর্মস্থল বা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর খিলখেত এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন যাত্রীরা।

খিলক্ষেত থানার ডিউটি অফিসার (উপ-পরিদর্শক) মো. আশিক বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আসনের ৫০ ভাগ যাত্রী পরিবহন করছে গণপরিবহন। ফলে অনেকেই নিজ গন্তব্যে
যথাসময়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। এমন কিছু যাত্রী খিলক্ষেতে সড়কের যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (৩১ মার্চ) থেকে মোট আসনের ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে। এতে করে রাজধানীর গণপরিবহনে করে যারা কর্মস্থলে যাতায়াত করেন তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

যাত্রীরা বলছেন, শতভাগ আসনে যাত্রী পরিবহনের সময়ই যেখানে অফিস যেতে অনেককে বাসে ঝুলতে হতো সেখানে ৫০ শতাংশ আসন কমানোয় চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা।

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার পর যানবাহন সংকট দেখা গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছু কিছু জায়গায় সড়কে কম সংখ্যক যান চলাচল করছে। আবার কিছু গাড়ি সরকারি নির্দেশনা মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করায় যাত্রীরা যানবাহন সংকটে পড়েছেন।

এছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও অনেকক্ষেত্রেই দ্বিগুণ ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মিরাজ ফকির বুধবার বলেন, কাজলা থেকে কলাবাগান বাস ভাড়া ২৫ টাকা। কিন্তু আজকে ভাড়া নিল ৫০ টাকা। এক সিট খালি রেখে বসা সাপেক্ষে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ালেও গাড়িতে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর গাড়ির সংকটও অনেক বেশি। অন্যদিন কোনোভাবে দাঁড়িয়ে যেতে পারলেও আজ আধা ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়েও গাড়িতে উঠতে পারিনি। তাই বাধ্য হয়ে এই গাড়িতে উঠলাম।

আরেক যাত্রী মো. কামরুল ইসলাম গতকাল বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে গাড়ি পাচ্ছিলাম না। কিছুক্ষণ আগে গাড়ি পেলেও ভাড়া দিগুণ। আসলে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনে সরকার নির্দেশ দিলেও যানবাহন তো দ্বিগুণ হয়নি, ফলে গাড়ির সংকট বেড়েছে। আসলে এভাবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলের চেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব সিটে যাত্রী পরিবহন করা যায়। কারণ সাধারণ সময়ই আমরা দাঁড়িয়ে বা ঝুলে চলাচল করি, সেখানে অর্ধেক যাত্রী নিলে গাড়ি সংকট হওয়া স্বাভাবিক।

তিনি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মার্কেট, বাজারে তো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই; সব স্বাস্থ্যবিধি গণপরিবহনে পালন হলেই তো করোনা চলে যাবে না।

এ প্রসঙ্গে নীলাচল পরিবহনের হেলপার সাগর বলেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছি। তবে লোকাল কিছু যাত্রী নিলে সেক্ষেত্রে এই হিসাব রাখা যায় না, তখন একটু বেশিই ভাড়া নিচ্ছি। তবে আমার ওয়েবিলের হিসাব অনুযায়ী যারা যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ ভাড়াই বাড়তি নিচ্ছি, বেশি নিচ্ছি না। নইলে আমার জরিমানা হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করায় গণপরিবহনে ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বুধবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহ তা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।