আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা বিস্ফোরণে হত্যার চেষ্টায় দায়ের করা মামলায় রায়ের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে শেখ হাসিনাকে হত্যার করার চেষ্টা চালানোর এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) আসামি বনাম রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের জুলাই মাসের ২০ তারিখ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান কলেজ মাঠে এক সমাবেশে যোগদান করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশস্থলের উত্তর পাশে একটি চায়ের দোকানের পেছনে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা পুঁতে রাখা হয় বিস্ফোরণের জন্য।

এই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার এসআই নূর হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই এই বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল।

পরের বছরের ৮ এপ্রিল এ বিষয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ৮ বছর পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরও ৯ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। পরের বছর ২০১০ সালে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার ২ নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

তারও ৭ বছর পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ঢাকা-২ এর বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় আরও ৪ জনকে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন ওয়াসিম আকতার, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।

এ ছাড়া মেহেদি হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আনিসুল ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান এবং সরোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়।