রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক চতুর্থবারের মতো ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উদ্‌যাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘টেকসই উন্নয়ন-সমৃদ্ধ দেশ, নিরাপদ খাদ্যের বাংলাদেশ’ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণে ক্যান্সার, কিডনিরোগ, বিকলাঙ্গতাসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জণসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো বেগবান করা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত ১৩টি বিধিবিধান তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নিয়মিত মনিটরিং ও ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন খাদ্য উৎপাদনে নিরাপদ প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

সকলের জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসকল কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অভীষ্ট উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। মেধামননে উৎকর্ষ ও কর্মক্ষম একটি জাতি গঠনে সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই হোক জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসে আমাদের সকলের অঙ্গীকার।

আমি ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“দেশে চতুর্থবারের ন্যায় ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানাই। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘টেকসই উন্নয়ন-সমৃদ্ধ দেশ, নিরাপদ খাদ্যের বাংলাদেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী
হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন করেছে এবং ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে দুর্বার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি দৃঢ় অবস্থানে আছে। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের পাশাপাশি জনগণের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

ভেজাল ও দূষণমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে আমরা ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করে ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়নসহ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভেজাল ও দূষণ বিরোধী অভিযান পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে
সমন্বয় করে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার সার, বীজ ও সেচের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছে। এতে করে খাদ্যের অপচয় এবং অনিরাপদতার ঝুঁকি হ্রাস পাচ্ছে। সুস্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস ও দুধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এ সকল খাবারের নিরাপদতাও নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে খাদ্যের বহুমুখীতা এবং এর নিরাপদতার বিকল্প নেই। বিশেষ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের নিরাপদতার
ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই খাদ্য নিরাপদতার দিকে আমাদের সকলের অধিক গুরত্ব প্রদান করতে হবে।

খাদ্য উৎপাদন হতে ভোগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খাদ্যের নিরাপদতা ও পুষ্টিমান বজায় রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্যের নিরাপদতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এক্ষেত্রে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমি আশা করি, জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা

সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো। গড়ে তুলবো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ।

আমি ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২১’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”