কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের (বাঘা যতীন) ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তাতীলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা তিনজন হলেন, উপজেলার কয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও তাতীলীগের কেন্দ্রীয় কমিডির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু, অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ ও নৈশ প্রহরী খলিলুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রহস্য উদঘাটনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্যে হামলা চালায়। তখন নাক ও মুখের কিছু অংশ ভেঙে তারা পালিয়ে যায়।

এর আগে কুষ্টিয়া সদরে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এরপর এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। তারা হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, বাঘহা যতীন ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মান যুবরাজের সাথে সাক্ষাত করে তিনি সরাসরি অস্ত্র ও রসদ সংগ্রহ করেছিলেন। বাঘের সাথে হাতাহাতি করে কুপোকাত করে দেওয়ার ফলে তার নাম বাঘা যতীন হয়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে।

১৮৭৯ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্ম নেওয়া এই বিপ্লবী মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে মারা যান। তার স্মরণে ভারতীয় দূতাবাস থেকে দেয়া ভাস্কর্যটি কয়া কলেজের সামনে স্থাপন করা হয়েছিল।