মাদারীপুরের শিবচরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার পাঁচ্চর সোনার বাংলা প্লাজা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করার পরে আখি (২৫) নামের এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজারচর মোল্যাকান্দি এলাকার ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে পূর্বেই পরিচিত ছিল জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী আখি। অভিযুক্ত আখি দেহব্যবসা করতো বলে অভিযোগ আছে। মাস তিনেক আগে শিবচর পৌর এলাকায় বসবাস করার সময় ওই নারীকে দেহ ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন আখি। এমন কুপ্রস্তাবের কথা জানতে পেরে আখিকে মারধর করেন ওই নারীর পরিবারের লোকজন। এরপর আখি বাসা পরিবর্তন করে বাখরেরকান্দি প্রজেক্টের মধ্যে বাসা ভাড়া নেন।

সেখানে সুমন মোল্লা নামে এক ব্যক্তির সাথে বসবাস শুরু করেন। শনিবার জরুরী কেনাকাটার জন্য টাকা ধার আনতে ঐ নারী পাঁচ্চর সোনারবাংলা প্লাজার কাছে যান। পূর্বের ঘটনার জের ধরে আখি তার লোকজন দিয়ে দুপুরের দিকে ওই নারীকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান বাখরেরকান্দি প্রজেক্টের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত ঘরে। সেখানে তাকে মারধর করার পরে সোহেল, এসকান ও সুমন মোল্লা নামের তিন ব্যক্তি দিয়ে ধর্ষণ করান।

পরে বিকালে আবারও ইজিবাইকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ইজিবাইকটির পথরোধ করে। এ সময় ইজিবাইকে থাকা আসামিরা দ্রুত পালিয়ে গেলে গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী শিবচর থানায় শিবচর থানায় আখি আক্তার (২৫), সুবল মণ্ডল ওরফে সুমন মোল্যা (৩২), সোহেল (৩৫), এসকান (৩৭) ও অটোরিকশা চালক সোহাগ হাওলাদারের (৩৫) নামে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন, ‘মামলা দায়েরের পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। আখি মূলত দেহ ব্যবসায়ী। পূর্ব শত্রুতার জেরে আখিই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।