সোম থেকে মঙ্গল। মাত্র দুইদিন। এর মাঝেই রাজধানীর ৩ বস্তিতে হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন পুড়ে গিয়েছে। শুরুটা হয়েছিল মহাখালীর ৭ তলা বস্তিতে। সোমবার রাতে সাততলা বস্তি ছাই হলে মঙ্গলবার দিনের আলোয় পুড়েছে মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্প। আর গভীর রাতে ঘুমে মগ্ন মিরপুরের বাউনিয়া বাঁধের বস্তি পুড়েছে গতরাতে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলো ঘর পুড়ে যাওয়ার প্রশ্ন জাগছে মানুষের মনে। অসহায় বস্তিবাসীর চোখের মণিতে গোপন প্রশ্ন ‘তবে কি উচ্ছেদের জন্য এই আয়োজন?’।বারবার বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বস্তিবাসীরা জানায়, এসব ঘটনার পেছনের গোপন কথা। দখলদার, চাঁদাবাজ আর উচ্ছেদের সহজ কৌশল আগুন লাগানো। প্রতি বছরই থেমে থেমে তারা এসব হিংস্রতার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু সরকারও তাদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসছে না।

তবে বস্তিতে আগুনের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ভিন্ন কথা বলছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বস্তিতে আগুনের পেছনে অবৈধ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দায়ী। তবুও তারা এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করবে বলে জানায়।

এসব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে মূল কারণ বের করে আনার তাগিদ দিয়ে নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, সাধারণত বস্তিগুলো সরকার বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে ওঠে। অনেক সময় ভূমি মালিক জমি খালি করার জন্য বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।তাই সিটি করপোরেশন, থানা-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বের করতে হবে।