>> গত অর্থবছর ঋণ নেয়া হয় ২৬৪৪৬ কোটি টাকা
>> চলতি অর্থবছর ৮৪৯৮৩ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য
>> ‘সরকারের এই ঋণ নির্ভরতায় বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে’

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অচল হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে সরকারের রাজস্ব আহরণ কমেছে। একদিকে বেড়েছে খরচ অন্যদিকে কমেছে আয়ের পরিমাণ। ফলে ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে ব্যাংক খাত থেকে অস্বাভাবিক হারে ঋণ নিয়েছে সরকার। সদ্য সমাপ্ত (২০১৯-২০) অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয় ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর আগে কোনো সময় সরকার ব্যাংক থেকে এত ঋণ নেয়নি। এর আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছর সরকার ঋণ নিয়েছিল ২৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার প্রতি বছর বাজেট ব্যয় ব্যবস্থাপনার জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত থেকে অর্থ ধারের লক্ষ্য ঠিক করে। কিন্তু চলমান করোনা সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হয়নি। এ ছাড়া নানা শর্তের কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে। ফলে সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নিয়েছে।

সরকারের এভাবে ব্যাংক ঋণ নির্ভরতায় বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার নিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অর্থবছরের শুরু থেকে সরকারের ব্যাংক ঋণের চাহিদা বাড়তে থাকায় পরে এটি বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ৩০ জুন শেষে ব্যাংক থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোসহ ঋণের এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ১০ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে ৬১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে সরকারের পুঞ্জীভূত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকায়।