প্রবাদ আছে ‘কর্মেই মুক্তি’। তাই, কর্মের খোঁজে থাকে হাজারো মানুষ। সারাদিনের কাজের চাপ, ব্যস্ততা, হার-জিৎ, আনন্দ-দুঃখর মাঝে হারিয়ে যায় জীবনের সত্যিকারের আনন্দ। যা পাওয়ার জন্য এত ব্যস্ততা, এত উদ্দ্যমতা থাকে,তা পাওয়ার পরও ক্লান্তি পিছু ছাড়ে না। হটাৎ করে প্রচণ্ড আনন্দ বা প্রচণ্ড হতাশা যখন ধেয়ে আসে, তখন দৈনন্দিন  জীবনের গতি থমকে যায়। সারাদিনের ক্লান্তি,হতাশা,মলিনতাকে পিছনে ফেলে পৌঁছে যেতে পারেন সুস্থ-শান্ত পরিবেশে। শুধুমাত্র সঠিক ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুমই কাফি নয়। যদি, নিয়ম করে রোজ সকালে বা সন্ধ্যেবেলায় সামান্য সময় দিতে পারেন, নিজের মনের সঠিক বিশ্রামের জন্য, তবে, সাফল্য-সুখ-শান্তি ও সুস্বাস্থ্য থাকবে সমপরিমানে।

মেডিটেশনের পূর্বে
সুতির আরামদায়ক যে কোন পোষাকই মেডিটেশনের জন্য উপযোগী।
পরিষ্কার পাজামা-পাঞ্জাবী পরে করতে পারেন মেডিটেশন।
ট্রাউজার বা ট্রাক স্যুটও চলবে।
যেকোনো ঢিলেঢালা পোষাক পরতে পারেন।
শরীরে যেকোন অলংকার না রাখাই ভাল।

মেডিটেশন করার পদ্ধতি–
মেডিটেশন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে সহজ হল ব্রিদিং মেডিটেশন। দিনে যদি আপনি দুই থেকে তিন বার ১০-১৫ মিনিট সময় বার করতে পারেন তা হলেই ব্রিদিং মেডিটেশন করা সম্ভব। সাধারনত মেডিটেশন করতে হয় পদ্মাসন, সুখাসন, অর্ধপদ্মাসন, স্বস্তিকা আসনে বসে।

দুই হাত থাকবে দু’ধারে, ধ্যান মুদ্রায়। কোমর, কাঁধ, মাথা একটি সরল রেখায় থাকবে। শিথিল করে রাখতে হবে কাঁধ। এই ভঙ্গিতে বসে কিছুক্ষন অন্য সব চিন্তা দূরে সরিয়ে মনকে কেন্দ্রীভূত করুন। দুর্বল, অসুস্থ শরীর মেডিটেশনের জন্য উপযোগী নয়। তাই সুস্থ হতে হবে আগে। বাদ দিতে হবে অতিরিক্ত ভোজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম পরিহার করতে হবে। একটি শান্ত জায়গা খুঁজে নিন যেখানে আপনি আরামে বসতে পারেবেন।  দুই পা একটির উপর আরেকটি তুলে ক্রুস করে বসুন। তবে পিঠ ও শিরদাঁড়া সোজা রেখে আপনি যে কোন পজিশনে বসতে পারেন। আসলে পিঠ সোজা করে না বসলে ঘুম পেয়ে যাওয়ার প্রবনতা দেখা যায়। দু চোখ আধা বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করুন। স্বাভাবিক ভাবে নিশ্বাস নিন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করবেন না। বোঝার চেষ্টা করুন কিভাবে হাওয়া নাকের ভিতর দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে যাচ্ছে। কি ভাবে ফুসফুসে হাওয়া ভরছে আর আপনার বুক উঠা নামা করছে। একই ভাবে যখন শ্বাস ছাড়ছেন সেই ব্যাপারটাও অনুভব করার চেষ্টা করুন। কিভাবে হাওয়া আপনার নাকের ভেতর দিয়ে আবার আপনার শরীরের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে , এটা বোঝাও মেডিটেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শ্বাস-প্রশ্বাসের এই প্রক্রিয়া ছাড়া আর কোন কিছুর উপরই মনোযোগ দেবেন না। আপনার চারপাশের পরিবেশে কি হচ্ছে তা বিন্দু মাত্র ভাবার চেষ্টা করবেন না।

মনে রাখুন-   সারাদিনের কাজের চাপের কারনে আপনার মনে হতেই পারে যে মেডিটেশন আপনাকে আরও ব্যস্ত করে তুলেছে। তবে বাস্তব চিত্রটা একটু অন্যরকম। মেডিটেশন আসলে ভাবনার প্রতি আমাদের সচেতনতা বাড়ায়। মেডিটেশন করার সময় যতবার আপনার মন অন্যদিকে যাবে ততবার শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করবেন। যত দিন যাবে দেখবেন যে আপনার মন সংযোগ বাড়বে এবং আপনি আরও বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করবেন।
মেডিটেশন আপনাকে দেবে

আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব:
রোজ  নিয়ম করে মেডিটেশন করলে টেনশন নার্ভাসনেস ভয়-ভীতি হতাশা বিষণ্নতা অতি সহজেই দূর হয়।ফলে, এক আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্বর প্রকাশ পাবে আপনার মধ্যে। রাগ-ক্ষোভ ও বদমেজাজ থেকে মুক্তি পাবেন। প্রশান্তভাবে কীভাবে সমস্যার মোকাবেলা করবেন সেই সূত্র আপনি পাবেন।
সম্পর্ক উন্নয়ন-  ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, পারিবারিক, পেশাগত, সামাজিক
সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।

আত্মশক্তির বিকাশ:
আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, সাহস, মনোযোগ, একাগ্রতা, মানসিক দৃঢ়তা, মেধা ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি হয়।
সুস্বাস্থ্য : রোগ নিরাময়ে মনের ক্ষমতা বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা
বিজ্ঞানের এক স্বীকৃত সত্য। মনের শক্তি দিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়
ক্ষমতা বাড়িয়ে পেতে পারেন রোগ-ব্যাধিমুক্ত সুস্থ, সুন্দর, দীর্ঘ জীবন।
লেখাপড়ায় সাফল্য :  লেখাপড়া নিয়ে অল্পবয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে ভীতি থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে, বহুক্ষণ পড়লেও পড়া মনে থাকে না। পরীক্ষ্যায় কম নম্বর আসে। সেই সমস্ত স্কুলের ছেলে মেয়েরাও যদি রোজ অল্প সময় করে মেডিটেশন করে থাকে তবে, মেধার বিকাশ ঘটবে।
অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি-প্রতিপত্তি : ব্রেনের ডান ও বাম বলয়কে সমন্বয়
এবং ব্রেনকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করে পেশাগত সাফল্য, পদোন্নতি, ব্যবসা,
অভিনয়, ক্রীড়া ও জনপেশায় জনপ্রিয়তা ও অর্থ-বিত্ত-খ্যাতি-প্রতিপত্তি
লাভ হয়। যা, মেডিটেশনের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

বদ-অভ্যাস দূর:  ধূমপান অ্যালকোহল ড্রাগ নেশা ও মাদকদ্রব্য বর্জন এবং যেকোনো বদ-অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
অতিচেতনা :  অতিচেতনা, প্রজ্ঞা অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মুক্ত বিশ্বাস ও প্রশান্ত প্রত্যয় জাগে মেডিটেশনের মাধ্যমে।