• সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
 বিতর্কে মুখ খুললেন সাবিলা, অভিযোগ বাংলাদেশকে ছোট করার

হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘সুইসাইড স্কোয়াড’-এর অস্কার জয়ী হলিউড অভিনেতা-সংগীতশিল্পী জেয়ার্ড লেটোর সাথে বাংলাদেশের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরের কথোপকথনকে ঘিরে বিতর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। সম্প্রতি এই বিখ্যাত অভিনেতার সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে লাইভ আড্ডা দেয়ার সুযোগ হয় সাবিলার। কিন্তু সেখানে সাবিলার কথায় বাংলাদেশকে নিয়ে হীনমন্যতা প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেটিজেন।

লেটোর দারুণ ভক্ত সাবিলা। ইনস্টাগ্রামে লাইভের শুরুতে লেটো সাবিলার কাছে জানতে চান, কোথায় থেকে যুক্ত হয়েছেন সাবিলা? উত্তরে সাবিলা বলেন, ‘বাংলাদেশ।’ কিছুটা সময় নিয়ে আবার বলেন, ‘তুমি সম্ভবত বাংলাদেশের নাম শোনোনি? রাইট?’ উত্তরে লেটো বলেন, ‘বাংলাদেশ! তুমি কি মনে করো আমি এতটাই বোকা!’ সাথে সাথে হেসে উঠেন সাবিলা, জানতে চান, ‘তুমি সত্যিই চেনো? উত্তরে আবারও লেটো বলেন, ‘‌অবশ্যই, সবাই বাংলাদেশকে চেনেন।’ এমন প্রত্যুত্তরে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান সাবিলা। সাবিলাকে আশ্বস্ত করতে লেটো বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জায়ান্ট দেশ।’ এরকম জবাবে সাবিলা খুশি না হয়ে বরং হলিউডের এই অভিনেতাকে বোঝাতে শুরু করেন, ‘বাংলাদেশ জায়ান্ট দেশ নয়। অনেকে মনে করেন ইন্ডিয়ার একটি অংশ বাংলাদেশ।’ তারপর লেটো বলেন, ‘এটা তোমার সমস্যা, আমার নয়। সবাই বাংলাদেশকে চেনেন। সুন্দর সব মানুষ সেখানে থাকেন। বাংলাদেশ যথেষ্ট বড় একটি দেশ। আয়ারল্যান্ড, বার্মা, ভুটানের চেয়ে বড় দেশ। এটা ঠিক, বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে মিল আছে। তোমাদের ওখানে ডাল, নানরুটি পাওয়া যায়!’ সাবিলা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা সেটাকে ছোলা বলি।’ লেটোর উত্তরে কিছুটা অপ্রস্তুতই যেন হয়ে পড়েন সাবিলা। এরপর এই পশ্চিমা তারকা সাবিলাকে বিদায় জানান। বিদায় নেয়ার আগে বলেন, ‘লং লিভ বাংলাদেশ’।

এদিকে এ কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, সাবিলাকে অন্য দেশের শিল্পী বাংলাদেশ চিনিয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন। কেউ কেউ এর পেছনে দেশ নিয়ে সাবিলার হীনমন্যতাকে কারণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তবে, এমন সমালোচনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবিলা নূর। একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের আচরণগুলো কতটা ভয়ংকর ও আক্রমণাত্মক হয়ে যাচ্ছে। পান থেকে চুন খসলেই এতই অসহনশীল হয়ে যাচ্ছি, যে কাউকে ভয়ংকর অপরাধীর তকমা দিয়ে দিচ্ছি। আমরা সবাই যেন রোবটের মত নির্ভুল জীবনযাপন করি। সকল মানবিক উচ্ছ্বাস প্রকাশেও আমরা যেন দাঁড়ি কমা সেমিকোলন মেপে কথা বলি।’

আরএএস/সাএ