ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

অনলাইন ডেস্ক

হ্যাকিং: সোনালী ব্যাংকের ২ কোটি টাকা উধাও


ঋণ নিয়ে হাপিস, সিঁদ কেটে চুরির পর এবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের দুই কোটি টাকা লোপাট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেল।


সরকার মালিকানাধীন বৃহত্তম এই বাণিজ্যিক ব্যাংকটি থেকে অর্থ উধাও হওয়ার এই খবর শনিবার দিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম।

সোনারগাঁও হোটেলে ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি যখন এই তথ্য দেন, তখন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এবং সচিব দুজনই সোনালী ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

আসলাম আলম বলেন, “গত বছর ব্যাংকটির একটি হিসাবের পাসওয়ার্ড হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে একটি ট্রান্সজেকশনে আড়াই লাখ ইউএস ডলার ক্ষতি হয়েছে।”

“এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকটির পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্টে বিরাট ঘাটতি রয়ে গেছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বলতে কিছুই নেই ব্যাংকটির।”

হল-মার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারিতে ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকটির কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে সম্প্রতি সিঁদ কেটে চুরি হয়।

হল-মার্ক গ্রুপ আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত করে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। কিশোরগঞ্জে চুরি হওয়া টাকার অধিকাংশ অবশ্য উদ্ধার হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরতে গিয়ে সচিব কিশোরগঞ্জের ঘটনাটিও তুলে ধরেন।

“কিশোরগঞ্জে ব্যাংকের শাখায় সুড়ঙ্গ কেটে চুরির যে ঘটনা ঘটেছে, এর আগে বিষয়টি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায়নি। ৫ মে রাতে হেফাজতের তাণ্ডবের সময় সোনালী ব্যাংকের ভেতরে হাজার হাজার লোক ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু এর কোনো ভিডিও ফুটেজ সোনালী ব্যাংক সংরক্ষণ করতে পারেনি।”

এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যাংকটিকে অনলাইন নিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেন আসলাম আলম।

অর্থমন্ত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলতে গিয়ে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির বিষয়টি তুলে ধরেন।

 “ব্যাংকের প্রতি সকলের আস্থা-বিশ্বাস রাখতে হলে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। ২০১২ সালে হল-মার্ক ঘটনার পর ব্যাংকটি যে বিপদে পড়ল, সেই বিপদ কিন্তু এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সেই বিপর্যয়ের কারণ ছিল কিন্তু একান্তই অভ্যন্তরীন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা।”

শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে প্রসারমান ব্যাংক খাতকে এখন মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন মুহিত।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ এইচ এম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় ব্যাংকের ২০১৩ সালের আর্থিক বিবরণ তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত।

তিনি বলেন, গত বছর (২০১৩ সালে) ৫ হাজার ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালকে ‘ব্যবসা উন্নয়ন ও খেলাপি ঋণ আদায় বছর’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংককে তার ব্যবসা পদ্ধতি পরিবর্তন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দেয়ার পরামর্শ দেন আসলাম আলম।

“কেননা, বড় বড় উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়ে ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না, বরং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।”

২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা। ২০১৩ সালে তা কমে ৩৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

২০১২ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে পরিচালন মুনাফা ৭৭৩ কোটি টাকা কমে ৩৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

‘পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিকায়ন চাই’


দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সমসাময়িক বিশ্ব বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতের আধুনিকায়নের পরামর্শ দিয়েছেন উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিডিপি) আয়োজিত এক ‘নীতি সংলাপ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এই পরামর্শ দেন।

রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জ অব ইকোনোমিক ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড গ্রোথ :ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এগ্রিকালচার’ শীর্ষক এই সংলাপের প্রথম পর্বে পোশাক খাত এবং দ্বিতীয় পর্বে কৃষি খাত নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল মঈন খান।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ব বাজারের চাহিদা পূরণ করতে পোশাক খাতের শ্রমিকের মান উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

এক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব শিল্প মালিকদের বললেও সরকার নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল।

তিনি বলেন, পোশাক শিল্পে প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সনাক্ত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।

“পোশাক শিল্প কম দামের পোশাকের, না বেশি বেশি দামের পোশাকের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে তা শিল্প মালিকদের ঠিক করতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পুনরায় পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তোফায়েল বলেন, “যদি রাজনীতি সম্পৃক্ত না হয়, তা হলে আগামী শুনানিতেই জিএসপি ফেরত পাব বলে আশা করছি।”

পোশাকি শিল্পে শ্রম পরিবেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৬টি শর্তের মধ্যে ২ থেকে ৩টি বাদে সব পূরণ হয়েছে দাবি করে এই আশার কথা জানান তিনি।

সাবেক মন্ত্রী মঈন খান পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশ উন্নয়নে সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে উদ্যোক্তাদের নিজেদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে আলোচনায় বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম এক্ষেত্রে সরকারি ভূমিকার ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন।

“পোশাক শিল্পের প্রযুক্তি উন্নয়নে বাংলাদেশে সরকারি কোনো ফান্ড নেই। কিন্তু প্রতিযোগী দেশ ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশে তা রয়েছে।”

“আগামীতে পোশাক শিল্পের জন্য সবুজ পরিবেশ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বিজিএমইএ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, আমরা আশা করছি সরকার এগিয়ে আসবে।”

পোশাক শিল্প মালিকদের প্রধান সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজও বলেন, সরকারের উচিত ভাবমূর্তি ও শ্রমিক উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া।

বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি বাসেদ রহমান পোশাক শিল্পের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের আহ্বান জানান।

সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম পোশাক শিল্পকে টেকসই করতে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

“নতুন প্রযুক্তি, নতুন বিনিয়োগ, শ্রম ও পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। শ্রমিক ও উদ্যোগ উভয় পর্যায়ে ট্রেনিং দরকার আছে।”

একই মত জানিয়ে ট্যারিফ কমিশনের প্রধান আবিদুর রহমান পোশাক শিল্পে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্পের ওপর গ্লোবাল ফাইন্যান্স ম্যাচুরিটিজের নিখিল ত্রিবুহুন, আজম মোহাম্মদ, চ্যারিস উডরুফ আলাদা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সম্মানী নিতে অনুমোদন লাগবে না


বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেতন বা সম্মানী নিতে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।


বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশে নিবন্ধিত নয় এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট হিসেবে কর্মরতরা এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বেতন বা সম্মানী ও প্রতিষ্ঠানের খরচ নিতে পারবে।

“গ্রাহক স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থা উদারীকরণের ধারাবাহিকতায় এজেন্সি সার্ভিসের বিপরীতে অন-অফ বেসিসে প্রাপ্ত অন্তর্মুখী রেমিটেন্স নগদায়নে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

এক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট, কারিগরী বা ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা বা কর্মকর্তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকর কাছে ইনভয়েস ও চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক এসব কাগজপত্রে সন্তুষ্ট হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ নগদায়ন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশি নাগরিকরা বিদেশে নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এজেন্ট বা ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা বা কর্মকর্তা হতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

আগে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের খরচ বা কর্মকর্তাদের জন্য বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করতে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাধারণ বা বিশেষ অনুমোদন নিতে হতো।

নির্বাচনী অস্থিরতা প্রবৃদ্ধি কমাবে: এডিবি


রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।


বুধবার বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে ত্রৈমাসিক (ডিসেম্বর পর্যন্ত) প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার আভাস দিলেও সুনির্দিষ্ট কোনো হার উল্লেখ করেনি ম্যানিলাভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নীকারী সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ভোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হওয়ায় প্রবৃদ্ধি কম হবে।”

এডিবি বলছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ও নির্বাচন পর্যন্ত দীর্ঘ অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ২০১৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ- দুই ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং অবস্থা থাকলেও বাংলাদেশ ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যাকে ভাল বলেই বিবেচনা করছে সংস্থাটি।

“কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশমুখী রেমিটেন্স প্রবাহ কমেছে।”

এছাড়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিও কমবে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে।

জিডিপি কমে যাওয়ার কথা বললেও কৃষি ও রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় ভালো হবে।

“রেমিটেন্স কমে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে রপ্তানির ওপর।”

এডিবি বলছে, নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনা, ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক অস্থিরতা আবার ফিরে এলে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সাভারে কারখানা ভবন ধসে মানবিক বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তা ও শ্রমমান বিষয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করাই এখন দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমুলক প্রবেশাধিকার সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহার করলে সামগ্রিক রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হলেও জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ষান্মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি হবে না।

এর আগেই গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত এডিবির ষান্মাসিক প্রতিবেদনেও ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়।

বিদ্যুতের সঙ্গে গ্যাসেরও দাম বাড়াতে উদ্যোগ


গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আগে থেকেই ছিল বিইআরসির কাছে, এ নিয়ে শুনানিও হয়েছিল, তবে ভোটের আগে এনিয়ে আর এগোয়নি সরকার।


এখন বিদ্যুতের দাম নিয়ে নতুন করে শুনানির উদ্যোগের মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি সদস্য সেলিম মাহমুদ মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খুচরা বিদ্যুতের দামের বিষয়ে এই মাসের মধ্যে শুনানি হবে। আর গ্যাসের দাম নিয়ে শুনানি দুই মাসের মধ্যে হতে পারে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এই খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরেন। গ্যাসের ক্ষেত্রে সিস্টেম লস ও দাম সমন্বয়ের কথা বলেন তিনি।

অপেক্ষাকৃত বেশি মূল্যের তেলভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ার পর গত পাঁচ বছরে খুচরা ও পাইকারি মিলিয়ে ১১ দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়।

তারপরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

সর্বশেষ ২০১২ সালে ডিসেম্বরে খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।

২০১২ সালে সেপ্টেম্বরে খুচরা বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ এবং পাইকারির দাম ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়।

পুনরায় দাম বাড়লে বিদ্যুতের ২৬ লাখ ৫৪ হাজার গ্রাহককে বাড়তি অর্থ গুণতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিইআরসির কাছে প্রস্তাব জমা আছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে একমাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে।

“এখন বিদ্যুতের অবস্থা ভালো, বিদ্যুৎ যাচ্ছে না। আমরা লস দিচ্ছি, ভর্তুকি দিচ্ছি। এ কারণেই এটাকে একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা দরকার।”

আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্য সংযোগসহ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের শুনানিও ‘অদূর ভবিষ্যতে’ হবে বলে জানিয়েছেন সেলিম মাহমুদ।

“পেট্রোবাংলার একটা প্রস্তাব আমাদের কাছে আছে, হয়ত আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে হতে পারে।”

গ্যাসের বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেন, “গ্যাসের বিষয়েও একটা চিন্তাভাবনা আছে। দুই চুলা ৪৫০ টাকা। অনেকে অবৈধ কানেকশন নিচ্ছে। ওদিকে সিলিন্ডারের গ্যাসেরও দাম বেশি।

“একটা সমন্বয় করা যায় কি না, দেখা দরকার,” বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়। বাণিজ্যিক সংযোগেও দাম বাড়ে।

এবার পাইপ লাইনে গ্যাসের দাম বাড়াবেন, না কি সিলিন্ডারের দাম কমাবেন- জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা দুইটাই চিন্তাভাবনা করছি। কী করা যায়।

“আল্টিমেটলি তো গ্রাহককে সেবা দিতে হবে, তাদের ওপর যেন প্রেসার না পড়ে।”

তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা দুই-এক মাসের মধ্যে করে ফেলতে চান প্রতিমন্ত্রী।

বিদেশি প্রশিক্ষণ-পরামর্শের ফি পাঠানো সহজ হল


বিদেশ থেকে নেয়া পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ফি পাঠাতে এখন থেকে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না ।


তবে ওই ফি হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আয়কর বিবরণীতে উল্লিখিত বার্ষিক বিক্রির সর্বোচ্চ ১ শতাংশ। 

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এক সার্কুলারে এ ঘোষণা দিয়েছে।

আগে শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধা পেত জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সম্প্রতি কিছু প্রকৌশল সেবা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে, তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য তাদের প্রায়ই বিদেশি পরামর্শ বা প্রশিক্ষণ নিতে হয়। পরামর্শ বা প্রশিক্ষণের ফি বিদেশে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

যেহেতু একই কাজে বারবার ফি পাঠাতে হয়, তাই এক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়ার বিধান শিথিল করার দাবি ছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই শিল্প খাতের মত সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বিক্রির সর্বোচ্চ ১ শতাংশ অর্থ বিদেশী প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের ফি হিসেবে পাঠাতে অনুমোদন না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘অবৈধ’ কারখানা ব্যবহারে অনুমোদন দেবে রাজউক


বিধি না মেনে গড়ে ওঠা গার্মেন্টস কারখানাগুলো শিগগিরই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে ব্যবহারের অনুমোদন দেবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনয়ার মোশাররফ হোসেন।


মঙ্গলবার বিজিএমইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পূর্তমন্ত্রী বলেন, “অনেক গার্মেন্টস কারখানা ড্যাপের নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে স্থাপন করা হয়নি। সেগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করা যাবে না। ড্যাপ প্রণয়নের আগেই ঢাকা শহরে অনেক স্থাপনা গড়ে ওঠে।

“তাছাড়াও ড্যাপের মেয়াদ ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এ পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করার জন্য ইতোমধ্যেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ক্রেতাদের পক্ষ থেকে পোশাক শিল্প পরিদর্শনের জন্য যে প্রকৌশলীরা আসছেন, তারা যাতে আমাদের দেশীয় প্রকৌশলীদের সাথে দল গঠন করে পরিদর্শন কাজ করেন, তার ব্যবস্থা করা হবে।”

এজন্য বুয়েটসহ প্রকৌশলীদের পেশাভিত্তিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ‘শেয়ারিং ভিউজ অন বিল্ডিং, ফায়ার অ্যান্ড ইলেক্ট্রিক সেফটি অ্যাসেসমেন্ট ইন আরএমজি ফ্যাক্টরিজ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বিজিএমই’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজউকের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী শামিমুজ্জামান বসুনিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. ইশতেয়াক আহমেদ তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানার নির্মাণ ত্রুটিজনিত ঝুঁকি, অধ্যাপক ড. মাকসুরুল হেলাল অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং অধ্যাপক ড. আবুল হাসিব চৌধুরী বৈদ্যুতিক সংযোগ সংক্রান্ত ঝুঁকির উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

উইন্ডোজের দাম ৭০% কমাচ্ছে মাইক্রোসফট

 

সাইবার অস্ত্র বানাবে দক্ষিণ কোরিয়া

 
 
 
 
 
 
 
 
 

এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অস্ত্র হিসেবে স্টাক্সনেটের মতো কম্পিউটার ভাইরাস ব্যবহার করবে। স্টাক্সনেট সফটওয়্যার তৈরি হয়েছিল ইরানের শক্তিশালী পারমাণবিক প্ল্যান্টে আক্রমণ করার জন্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীও একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ সম্পর্কে একজন কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের বরাতে বিবিসি উল্লেখ করেছে, সাইবার অস্ত্র হবে ‘খুবই বিপজ্জনক’।

“সাইবার অস্ত্র এতটাই বিপজ্জনক, এটা সম্পর্কে পূর্বানুমান বা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এমনকি সাইবার অস্ত্র ব্যবহার করে শক্তিশালী অবকাঠামো ধ্বংস করে ফেলা যায়।”- জানালেন, ইউনিভার্সিটি অফ সুরির কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর অ্যালান উডওয়ার্ড।

তিনি আরও জানান, কম্পিউটার ভাইরাস স্টাক্সনেট তৈরি হয়েছিল ইরানের পারমানবিক শক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে তোলার জন্য।

১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে সাইবার অস্ত্র বানানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।

তৈরি হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক ‘অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়্যার’