ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

কে হচ্ছেন মাইক্রোসফট প্রধান?

Rate this item
(0 votes)

প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক সামলে সব সময় সাফল্যের ধারায় রাখবেন, এমন প্রতিষ্ঠানপ্রধান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট পড়েছে সে দুর্ভাবনায়। স্টিভ বলমারের পর কে হচ্ছেন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী?

মাইক্রোসফট করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্টিভ বলমার এক বছরের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

মোবাইল পণ্য ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার ব্যর্থতার কারণে বিনিয়োগকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন বিল গেটসের পর এক দশক ধরে মাইক্রোসফটের দায়িত্বে থাকা স্টিভ বলমার।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রযুক্তি বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ৮-এর জনপ্রিয়তায় ধীরগতি, হার্ডওয়্যার বিভাগে মাইক্রোসফটের দূরদর্শিতার অভাব, এ ধরনের সমালোচনায় বিতর্কিত হয়ে পড়েছিলেন মাইক্রোসফটের বর্তমান প্রধান।

প্রধান নির্বাহী হিসেবে কারা আছেন আলোচনায়

এর আগে মাইক্রোসফটের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বলমার জানিয়েছিলেন, মাইক্রোসফটে নতুন মুখ প্রয়োজন। এখানে এমন একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার প্রয়োজন, যিনি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন।

মাইক্রোসফট নতুন সিইও খোঁজার জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও রয়েছেন। সম্ভাব্য সিইওর একটি তালিকা তৈরি করেছে এই কমিটি। তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন মাইক্রোসফট কর্মকর্তা সত্য নাদেলা, টনি বেটস, ট্যামি রেলার, কেভিন টার্নার, নকিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ইলোপ, উইন্ডোজের সাবেক প্রধান স্টিভেন সিনোফস্কি ও জুনিপারের সাবেক সিইও কেভিন জনসন। ২০০০ সালে বিল গেটস মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর স্টিভ বালমার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।  ১৯৮০ সালে বলমার মাইক্রোসফটে যোগ দেন।

তালিকার বাইরে কারা আছেন আলোচনায়?

মাইক্রোসফটের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তার ভার সব সময় তালিকা মেনে হবে, এমন তো কথা নেই। তালিকার বাইরেও হয়তো মেধাবী ও কর্মদক্ষ কাউকে নতুন মুখ হিসেবে মাইক্রোসফটে দেখা যেতে পারে। আবার হয়তো বিল গেটসও ফিরে আসতে পারেন কিছুদিনের জন্য।

বিল গেটসের ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

অস্ট্রেলিয়ার ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বিল গেটসের মাইক্রোসফটে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে বলা হয়, বিল গেটসের ফিরে আসা সম্ভব। তবে, অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষক এমনকি বিল গেটস নিজেও এ ধরনের গুঞ্জন বাতিল করে দিয়েছেন| বিল গেটসের মতো দক্ষ ও ঝানু প্রযুক্তিবিদের পক্ষে আবারও মাইক্রোসফটের হাল ধরা হয়তো কঠিন কিছু নয়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০০৮ সালে যে মাইক্রোসফটের দায়িত্ব ছেড়েছেন তিনি, সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন আর সে রকম নেই। প্রতিযোগিতা বেড়েছে, নতুন নতুন উদ্ভাবনের চাহিদা বেড়েছ, ভোক্তাদের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে। তাই স্টিভ বলমারের বিদায়ের পর আবার পুরোনো ধারায় মাইক্রোসফটকে ফিরিয়ে নিতে বিল গেটসের ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। হয়তো মাইক্রোসফটে নতুন মুখ দেখা দিতে পারে।

আলোচনায় ছিলেন জুলি

বর্তমানে গুগল থেকে ইয়াহুতে গিয়ে ভালোভাবেই ইয়াহুকে সামলাচ্ছেন মারিসা মেয়ার। নারী নেতৃত্বে ইয়াহু আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ইয়াহুর মতো মাইক্রোসফট যদি ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করে, তবে এ মুহূর্তে মাইক্রোসফটের মধ্যেই রয়েছেন একজন নারী কর্মী, যাঁর কাঁধে উঠতে পারে মাইক্রোসফট দেখাশোনার ভার। এ কর্মকর্তার নাম জুলি লারসন গ্রিন। বর্তমানে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ বিভাগের দেখাশোনা করছেন তিনি। মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে জুলির সম্ভাবনাও নাকচ করে দিচ্ছেন না প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।