ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Saturday, 08 March 2014 13:52

নক্ষত্ররাজির সংঘর্ষের ফলেই সোনা!

Rate this item
(0 votes)

উচ্চ ঘনত্বসম্পন্ন মৃত নক্ষত্রগুলোর মধ্যে মহাজাগতিক সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সোনার মতো একধরনের পদার্থ গঠিত হয়। আর সেই পদার্থই হয়তো পৃথিবীতে চলে এসেছে। আর আমরা সেটিকে মূল্যবান ধাতু হিসেবে ব্যবহার করি। নতুন এক গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। মহাবিশ্বে সোনার উৎপত্তির উৎস নিয়ে রহস্য রয়েছে। কারণ, এ পদার্থ কোনো নক্ষত্রের অভ্যন্তরে কার্বন বা লোহার মতো হালকা বস্তুর সমন্বয়ে তৈরি হয় না। এবার হয়তো সেই রহস্যের একটা সমাধানে পৌঁছানো যাবে। নতুন এক গবেষণায় বলা

হচ্ছে, দুটি নিউট্রন তারকার সংঘর্ষের ফলে মূল্যবান ধাতুটির উৎপত্তি হতে পারে। বিস্ফোরিত নক্ষত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র ও উচ্চমাত্রায় ঘন পদার্থের সমন্বয়ে হয়তো সোনা তৈরি হয়।যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের গবেষক এডো বার্গার বলেন, তাঁদের আনুমানিক হিসাবে দুটি নক্ষত্রের মধ্যে সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণ সোনা তৈরি হয়, যার পরিমাণ ১০টি চাঁদের ভরের কাছাকাছি। প্রয়াত মার্কিন জ্যোতির্বিদ কার্ল সেগানের মতে, আমরা সবাই নক্ষত্র থেকে উদ্ভূত। আর একাধিক নক্ষত্রের সংঘর্ষ থেকে আমাদের অলংকারগুলো তৈরি হয়েছে। বার্গার ও তাঁর সহযোগী গবেষকেরা গামা রশ্মির ক্ষুদ্র বিকিরণ ও বিস্ফোরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। এ বিস্ফোরণে মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) একটি নভোযান পৃথিবীকে আবর্তনকালে গত মাসে সেই দীপ্তি পর্যবেক্ষণ করে। ওই গামা-বিস্ফোরণ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৯০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে সম্পন্ন হয়। এর স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক সেকেন্ডের ১০ ভাগের দুই অংশেরও কম। আর সেই বিস্ফোরণের ফলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অবলোহিত রশ্মির দ্যুতি। গবেষকেরা মনে করেন, ‘অদ্ভুত কোনো তেজস্ক্রিয় বস্তুই’ ওই দ্যুতির উৎস। আর সেই বস্তু নিউট্রনসমৃদ্ধ নক্ষত্ররাজির সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয় এবং মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীতে সোনার পরিমাণ সীমিত হওয়ার কারণ মহাবিশ্বেও বস্তুটির মোট পরিমাণ কম। গামা-রশ্মির বিস্ফোরণে সৌরভরের ১ শতাংশ পরিমাণ বস্তু নির্গত হয়, যার কিছু অংশ সোনায় রূপ নেয়।অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য গবেষণাটির ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ফক্সনিউজ।