ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Saturday, 08 March 2014 04:39

কম্পিউটার মডেলে জলবায়ু পরিবর্তন ছক!

Rate this item
(0 votes)

ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি স্থানেই মাঝে মাঝে আঘাত হানে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার আগে তার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না। বিজ্ঞানীরা এখনও এ ব্যাপারে সফল হতে পারেননি। তবে আশার কথা, টাইফুন বা হারিকেনের মতো সামুদ্রিক ঝড় বা জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রযুক্তি ক্রমাগতই আরও পরিশীলিত হচ্ছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এমন কিছু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অর্থাৎ শক্তিশালী কম্পিউটার মডেল তৈরি করেছেন যা দিয়ে এসব দুর্যোগকে আরও নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।যুক্তরাস্ট্রের আরগন ল্যাবরেটরিজের কম্পিউটেশনাল জলবায়ু বিজ্ঞানী রবার্ট জ্যাকব

ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে তিনি আমাদের পৃথিবীর পুরো বায়ুমণ্ডলের একটি কম্পিউটার মডেল তৈরি করেছেন। এখানে বিশাল বিশাল কম্পিউটার স্ক্রিনের ওপর পুরো বায়ুমণ্ডলই একটা মডেল আকারে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'এর আগে যেসব মডেল ছিল তাতে একটা বিন্দু ছিল ১০০ মাইল বা তার বেশি দূরে দূরে। কিন্তু এই মডেলটাতে দুটি বিন্দুর দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। তার মানে আবহাওয়ামণ্ডল থেকে পাওয়া তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি অনুমান করতে পারছি।'
রবার্ট জ্যাকব আরও বলেন, 'বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাস বা কার্বন নির্গমন বেড়ে গেলে প্রকৃতিতে কী প্রভাব পড়বে এর মাধ্যমে তাও অনুমান করা সম্ভব। আমরা যেটা করতে পারছি, এই মডেলে কার্বনের মাত্রাটা বাড়িয়ে দিয়ে দেখতে পারছি যে, এর পরিণতিতে টাইফুনের সম্ভাব্য তীব্রতা কতটা বৃদ্ধি পায়। আমরা এই মডেলে কৃত্রিমভাবে সামুদ্রিক ঝড়ের পরিবেশ তৈরি করতে পারছি। আগে যেসব দুর্যোগ ঘটেছে, তার উপাত্তগুলো এতে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করতে পারছি। ভবিষ্যতে বাস্তব জগতে যদি এ রকম দুর্যোগ হয়_ তাহলে তা কী চেহারা নিতে পারে এবং কেন দুর্যোগ হয়, তা দেখতে পারছি।' সহজ কথায়, বিজ্ঞানীরা যেটা তৈরি করেছেন তাকে বলা চলে জলবায়ুর একটা মডেল, যাতে আবহাওয়াগত পরিবর্তনগুলো নিয়ে গবেষণাগারেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে।