ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ডিজিটাল সুখের সন্ধানে

Rate this item
(0 votes)

মুঠোফোন, ইন্টারনেট এখন হাতের নাগালে। অবস্থা এমন, কাজের সময় মুঠোফোন খুঁজে না পেলে বা ইন্টারনেটের সংযোগ না থাকলে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। মার্কিন গবেষকেরা জানান, অতি প্রযুক্তিনির্ভরতা আমাদের উদ্বিগ্নতা বাড়াচ্ছে। এখন ডিজিটাল সুখের সন্ধানে ফিরছেন অনেকেই। বার্তা সংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ডিজিটাল উপায়ে সুখী হওয়ার কয়েকটি উপায়।
অনলাইনে জানুন বিশ্বকে
অনলাইনের সঙ্গে পরিচয়

থাকা উচিত, নিজের উপস্থিতিটাও জরুরি। এখন সামাজিকতা রক্ষায় সাক্ষাতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন উপস্থিতি। নতুন বন্ধন তৈরির সহায়ক। তবে, অনলাইন দুনিয়ায় সুখী হতে গেলে অবশ্যই সময় ও নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। কারও সঙ্গে কথা বলার সময় একাধিক কাজ করা যাবে না। নিয়মানুবর্তিতা ডিজিটাল বিশ্বে সুখী হওয়ার অন্যতম উপায়।
ডিজিটাল সদাচরণ
ডিজিটাল বিশ্বে নিজেকে সুখী করতে অন্যের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি নজর দেওয়া কর্তব্য। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ফোন কল করার, বার্তা পাঠানোর সময়জ্ঞান রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে বিরক্তিকর শেয়ার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভারচুয়াল যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার ক্ষেত্রে যা বিরক্তিকর তা অন্যের সঙ্গে যেন না ঘটে, সে বিষয়ে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে।

ভালো বন্ধু সুখী করতে পারে
অনলাইনে ভালো বন্ধু তৈরি করতে পারলে সুখী হওয়া সম্ভব। অর্থ-খ্যাতি-সৌন্দর্য অনলাইন বিশ্বে যত না বিবেচিত হয়, ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এর চেয়ে বেশি বিবেচ্য। অনলাইনে ভালো বন্ধু নির্বাচন করা তাই জরুরি। অনলাইনে বন্ধুর সঙ্গে কাটানো সময় মানসিক উদ্বেগ দূর করতে পারে।

অনলাইনে কাজের চাপ বেশি হওয়া উচিত নয়
অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে কর্মীর জন্য অবশ্যই স্বাধীনতা থাকা উচিত। এতে কাজের পরিমাণ বাড়ে। অনলাইন কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের ভারচুয়াল কর্মীদের সার্বক্ষণিক কাজে না রেখে তাঁদের মুক্তচিন্তার চর্চার সুযোগ দেওয়া যায়।

অনলাইন জগতে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন
অনলাইনের বিশাল জগতে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। অনলাইনের মাধ্যমেই এখন নানা ক্ষেত্রে নিজের পরিচিতি তৈরি হয়। এ পরিচয় কাজের ক্ষেত্রে নানা প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল জগতে নিজেকে সুখী দেখতে চাইলে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

অনলাইন জীবনকে নজরদারিতে রাখুন
নিজেকে জানা ও চেনাটা অনলাইন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে পারেন এবং নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে নিজের জীবনের সব তথ্য জানতে পারেন। এতে নিজের সম্পর্কে সব ধারণা থাকবে।

নিজেকে গুছিয়ে রাখুন
অনেকেই এখন হয়তো কাগজের ব্যবহার ভুলতে বসেছেন। ছোটখাটো কাজে এখন কাগজ-কলমের পরিবর্তে ডিজিটাল পণ্য ব্যবহার করেন। নিজের সব কাজের ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ করে গুছিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগতে পারে তা।

নিজেকে দক্ষ করে তুলুন
অনেক অর্থ খরচ করে যা শিখতে হয়, অনলাইনে ঘরে বসে সামান্য পরিশ্রমে আপনি তা শিখে নিতে পারেন। নতুন ভাষা, কোড লেখা, ছবি আঁকা, নকশা করা বা নতুন রান্নার মতো বিষয়গুলো শিখতে অর্থ খরচ করতে হয়। কিন্তু ইন্টারনেট দেখে চেষ্টা করলে খুব সহজে বিনা মূল্যেই তা করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভিডিও সাইট ইউটিউব যেমন কাজে আসতে পারে, তেমনি বিনা মূল্যের বেশ কিছু ওয়েবসাইট থেকেও আপনি সাহায্য পেতে পারেন।

ডিজিটাল জগৎ থেকে ছুটি নিন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় প্রযুক্তির ধরাছোঁয়ার বাইরে যান। রাতের বেলা মুঠোফোন বন্ধ করে ঘুমাতে যান। অতিরিক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার, টিভি দেখা থেকে বিরতি দিন।
নিজেকে সবার মাঝে সুখী ভাবুন
ডিজিটাল বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে ঘরে আটকে ফেলছে। মানুষ নিজেকে অসহায়, নিঃসঙ্গ ভাবতে শুরু করেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য এনে নিজেকে সুখী ভাবতে পারেন। অতিরিক্ত সময় ইন্টারনেটে না থেকে নিজের মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কিছু সময় যোগব্যায়াম করতে পারেন। দিনের যেকোনো সময় পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে ভালো কোনো স্মৃতিচারণা করতে পারেন।