ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

সালাউদ্দিনের আরেকটি জয়, এবার টেবিলের খেলায়

Rate this item
(0 votes)

অনেকদিন পর আবার ফুটবল নিয়ে খেললেন সালাউদ্দিন। তবে মাঠে নয়, টেবিলে। আর এই খেলায়ও তিনি বিশাল ব্যাবধানে পূর্বসূরীদের হারিয়ে তাদের কল্পনা-বিলাসকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। শুধু টেবিলে খেলেই ফুটবল উন্নয়নে সিটিসেলের সঙ্গে সাড়ে ১৬ কোটি টাকার চুক্তি করে ফেলছেন বাফুফে সভাপতি। বাফুফে ভবনে সোমবার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক চুক্তির মাধ্যমে যার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

সবকিছুর মতোই বাফুফের একটা অতীত

আছে, আছে কিছু কর্মকর্তার ভাল-মন্দের কীর্তিও। যা পরোক্ষভাবেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় বর্তমানকে, এই সময়ের ফুটবল নেতৃত্বকে। গত রোববার পর্যন্ত সেই চ্যালেঞ্জারের তালিকায় ছিলেন বাফুফের সাবেক বড় কর্তা সুলতান-হারুন-হেলালরা। সোমবারে এসে তারা হাওয়া। কারণ এই ১৬ কোটি ৫০ লাখের কাছে তাদের এক-দুই কোটি টাকার স্পন্সর যোগাড়ের কীর্তি একেবারে নস্যি। চারদলীয় জোট সরকারের বাফুফে সভাপতি এস এ সুলতানের ৫ বছরে ৪ কোটি টাকার স্পন্সর আনার দম্ভচূর্ণ হয়েছে একইসঙ্গে।

এটা কী করে সম্ভব ! কেউ বলেন বাফুফে সভাপতির ফুটবল পরিকল্পনার গুণে হয়েছে। কারো কারো মত ফুটবলের মন্দা বাজারে কাজী সালাউদ্দিনই বড় বিজ্ঞাপন হয়ে আভির্ভুত হয়েছেন। যেমন বাফুফের সহ সভাপতি শওকত আলী খান জাহাঙ্গীরের ধারনা, "এত বড় স্পন্সর আনার ক্ষেত্রে সালাউদ্দিন ভাইয়ের ব্যক্তিগত ইমেজের বড় একটা ভূমিকা আছে মনে হয়। তার কথাবার্তা এবং ফুটবল নিয়ে তার চিন্তা-চেতনার কথা শুনে সিটিসেল তার ওপর বিশ্বাস রেখেছে।"

শেষপর্যন্ত সিটিসেল সঙ্গে বাফুফের চুক্তি হলেও বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে ছিল আরেকটা মোবাইল কোম্পানি--- একটেল। তারা আরো কয়েকদিন সময় চাওয়ায় সুযোগ হারিয়েছে। শোনা গেছে নাকিয়ার ইচ্ছার কথা, এই আন্তর্জাতিক মোবাইল সেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত হতে চেয়েছিল। এছাড়াও চারদিকে ১৫-২০ লাখ টাকার ছোটখাটো স্পন্সরের ছড়াছড়ি। অথচ আগে এই ছোটখাটোরা স্পন্সর আনতেই গলদঘর্ম অবস্থা হতো। ফুটবলের দুরাবস্থার প্রসঙ্গ টেনে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিত। ফুটবলের সেই অবস্থার প্রশ্নে এখনো কিন্তু ইতিবাচক কিছু নেই। কদিন আগেও সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ফুটবলের হতশ্রী চেহারা বেরিয়ে পড়েছে।

অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হলেও সিটিসেল কেন আগ্রহী হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নটা এসে যায়। জবাবে সোমবার সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মাইকেল সিমর বলেছেন, "আমরা বাংলাদেশের ফুটবলের পূর্ণজাগরনের স্বপ্ন দেখছি। কারণ বর্তমান কমিটি যুব ফুটবল নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে। তাই এটাকেই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের উৎকৃষ্ট সময় মনে হয়েছে আমাদের।"

মানে সবকিছুকে ছাপিয়ে কাজী সালাউদ্দিন হয়ে গেছেন এখন বাংলাদেশের ফুটবলের দুর্দান্ত এক "ব্র্যান্ড"। মাঠের খেলা দিয়ে বিচার করলে তিনি যেমন দেশের সবচেয়ে বড় তারকা তেমনি ফুটবল সংগঠনেও। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিরীখে তিনি দেশের ফুটবল উন্নয়নের পরিকল্পনা কষেছেন, তারপর সেগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে ধরে পয়সা নিয়ে আসছেন।

এই সালাউদ্দিন ব্র্যান্ড দিয়েই বোধহয় শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলের পূনর্জাগরণ।

Last modified on Monday, 10 March 2014 16:23