ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

নতুন বছরে জেলায় বাচ্চাদের এবং কিশোর লিগ চালুর উদ্যোগ বাফুফের

Rate this item
(0 votes)

বাফুফের ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচীতে যোগ হচ্ছে ১০ বছর বয়সী বাচ্চারাও ! শুধু ট্রেনিং নয়, লিগে খেলেই তারা ফুটবলার হিসেবে বেড়ে উঠবে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১২, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সীদের নিয়ে প্রত্যেক জেলায় আলাদা আলাদা কিশোর ফুটবল লিগ চালু করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

পুরোপুরি ভিন্নতর এ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন সহিদুর রহমান শান্টু। আমেরিকা ফেরত এই কোচ ডিসেম্বর থেকে বাফুফেতে যোগ দিয়েছেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে। তিনি

বাফুফের ডেভলপমেন্ট কমিটির কাছে ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

তাতে কী আছে ? এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাবেক তারকা গোলরক্ষক কিছুই বলতে নারাজ, "আমি একটা প্রোগ্রাম বানিয়েছি। কিন্তু এটা এখনো ডেভলেপমেন্ট কমিটি দেখছে, তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আমার বিশদ আলোচনাও হবে। তারপর মিডিয়ার কাছে পুরো পরিকল্পনাটা তুলে ধরা হবে। এখন কিছু বলা যাবে না।"

তবে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ১০ বছর বয়স থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলার কথা বলা হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১০, ১২, ১৪ এবং ১৬ বছর বয়সীদের নিয়ে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় আলাদা আলাদা ফুটবল লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারপর আন্তঃজেলা, বিজয় দিবসসহ নানা টুর্নামেন্টে তাদের খেলার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ আছে প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনায়। শান্টু প্রশিক্ষণের চেয়ে নিয়মিত ফুটবল খেলার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ প্রতিযোগিতামূলক খেলা বাদ দিয়ে শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাল ফুটবলার তৈরি করা যায় না।

আমাদের দেশের অভিজ্ঞতায় লিগের সঙ্গে জাড়িয়ে আছে ক্লাব। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় বাচ্চাদের ও কিশোর লিগের বেলায় ক্লাব দল পাওয়া না গেলে পাড়ার দল এবং স্কুল দলের কথা বলা হয়েছে। মানে প্রতিযোগিতামূলক খেলাটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়, তাই ফরম্যাটে খানিকটা সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। ৬৪ টি জেলায় লিগগুলো চালাতে ৪ কোটি টাকারও বেশি বাজেটের কথা বলা হয়েছে পরিকল্পনায়। অবশ্য বাফুফের সঙ্গী হিসেবে সিটিসেল তো আছেই। এছাড়া মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানি নকিয়া বেশ কয়েকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফুটবল উন্নয়নে বাফুফের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জেলার পুরনো লিগগুলো যেখানে অচল সেখানে এরকম পরিকল্পনা উচ্চাভিলাষীই মনে হতে পারে যে কারো কাছে। ফেডারেশন অনেক চেষ্টা করেও জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) মধ্যকার বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারেনি। সদ্য জন্ম নেওয়া ডিএফএ আসলে নিধিরাম সর্দার হয়েই আছে। তাদের নিজস্ব অফিস নেই, মাঠ নেই, এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও পায় না। তাই চাইলেও তারা পারছে না জেলা ফুটবলকে সচল করতে। এটাই এখন বাফুফের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ঠিকঠাক করে আগামী মাসে বাফুফে কীভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেয় সেটাই দেখার বিষয়!

Last modified on Monday, 10 March 2014 16:24