ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

এক মাসেই সুলতানকে হারিয়ে দিলেন সালাউদ্দিন!

Rate this item
(0 votes)

ফিফা-এএফসি নিয়ে যে সংশয় ছিল তা একমাসেই উড়ে গেছে। 'সুলতানী' আমলে সাবেক বাফুফে সভাপতি এস এ সুলতানের যাবতীয় জোর ও ভয় দেখানোর জায়গা ছিল ওই ফিফা-এএফসি। দেশের ফুটবলকে অধঃপাতে নিয়ে গিয়েও সেখানে তিনি সমাদৃত কোনো এক রহস্যজনক কারণে ! স্বাভাবিকভাবে সেটাই ছিল নতুন বাফুফে সভাপতির সংশয়ের জায়গা। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে মাত্র একমাসেই কাজী সালাউদ্দিন হারিয়ে দিয়েছেন সুলতানকে।

রোববার ফিফা কংগ্রেস থেকে ফিরে কাজী সালাউদ্দিন বিডিনিউজকে বলেছেন, "সত্যি কথা বললে ব্ল্যাটারের সঙ্গে এর চেয়ে ভাল মিটিং আমি আশা করতে পারি না। খুব আন্তরিকভাবে তিনি আমার ফুটবল পরিকল্পনার কথা শুনেছেন।" গত ৩০ মে সিডনিতে শেষ হয়েছে ৫৮তম ফিফা কংগ্রেস। কংগ্রেস শুরুর আগে গত মঙ্গলবার ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটারের সঙ্গে সভায় বসেছিলেন নতুন বাফুফে সভাপতি। সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদী ও সহ-সভাপতি মনজুর হোসেন মালু।

এর আগে গত ২০ মে বাফুফে সভাপতি কুয়ালালামপুরে গিয়ে সভা করেন এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন হাম্মামের সঙ্গে। শুধু এএফসি-ফিফা নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গেও এক মাসে দারুণ সম্পর্কোন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি সালাউদ্দিনের, "আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কার ফুটবল

কর্মকর্তাদের সঙ্গে চমৎকার একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। আশা করি আমাদের প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিদেশী দলের অভাব আর হবে না।" বাফুফের 'হট-সিটে' বসা সাবেক এই তারকা ফুটবলারকে দেখে "আমি তোমার ফ্যান" বলে বুকে টেনে নিয়েছেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী। "ভারত-বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলগুলোর সফর বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রিয়দা"---বলেছেন বাফুফে সভাপতি।

ভারতের ফুটবল উন্নয়নের প্রসঙ্গও এসেছে ফিফা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সভায়। ভারতের কথা টেনে সালাউদ্দিন বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন এভাবে, "ভারতের ফুটবল উন্নয়নের জন্য এবং তাদের বিশ্বকাপের পথে নিয়ে যেতে ফিফা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। কিন্তু পাশের দেশ হয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলে পুরো এলাকার ফুটবল লড়াইটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বিষয়টা ব্ল্যাটারের বেশ মনঃপূত হয়েছে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা নোটও করেছেন।" ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ফিফা একেবারে উদারহস্ত নিয়ে এগিয়ে এসেছে। শুধু ক্লাবগুলোর উন্নয়নের জন্য নাকি এক কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে ফিফা। মোটকথা, পরিকল্পনা ও সাহায্য দিয়ে ফিফা ভারতের চোখে বিশ্বকাপের স্বপ্ন এঁকে দিয়েছে।

ভারতের মতো স্বপ্ন না হলেও বাংলাদেশ খুব করে চাইছে ফুটবলের মরাগাঙে জোয়ার আনতে। সালাউদ্দিনের আশা, "ফিফা এখন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে বোধহয় নতুন কোনো পরিকল্পনা করবে। ব্ল্যাটারের কথাবার্তা শুনে তা-ই মনে হয়েছে। তাছাড়া তার সঙ্গে বিশ্ব ফুটবল নিয়েও অনেক খোলামেলা আলাপ হয়েছে।"

ফিফা যা-ই করুক, কাজী সালাউদ্দিন বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে শিগগিরই এএফসি-কর্তাদের সঙ্গে বসবেন। তারপর একটা নির্দিষ্ট ছকে এগোনো শুরু হবে বাংলাদেশের ফুটবলের।