ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

ফুটবল প্রশাসনেও পেশাদারিত্বের হাওয়া

Rate this item
(0 votes)

কর্পোরেট হাওয়া বইতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। যে হাওয়ায় অপেশাদার চিন্তা-ভাবনা উড়ে গিয়ে পুরো পেশাদারিত্বের ভুবনে আত্মপ্রকাশ করবে ফুটবল প্রশাসন !

শুধু ফুটবলের বিশ্বায়নে শরীক হওয়ার স্বার্থে নয়, বাংলাদেশের ফুটবলকে বাঁচাতেই নাকি এই টনিকের বিকল্প নেই। আসলে দীর্ঘ অপেশাদার জামানা তো দেখা হয়েছে, তাতে দিনে দিনে কিশে হয়ে এখন ফুটবলের কঙ্কালটুকু অবশিষ্ট আছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দুরবস্থার জন্য যারা দায়ী তারাও আছেন বাফুফের বর্তমান কমিটিতে। সেই হারুন-হেলাল-মালুরা ফুটবল উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন হেলেদুলে। নিজেদের ব্যাবসা-বাণিজ্য সেরে বিকেলে অলস সময় কাটানোর বিষয় ছিল ফুটবল। আর তাদের ফুটবল-মেধাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। তবে তারা আর আগের মতো নীতি-নির্ধারণী জায়গায় এখন নেই, এটাই সৌভাগ্য!

নতুন কমিটির নীতি-নির্ধারক বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা কাজী সালাউদ্দিন। নিঃসন্দেহে ফুটবলীয় চিন্তা-চেতনায় তিনি অন্যদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। বাফুফে সভাপতি মস্তিষ্ক প্রসূত নব ফুটবল পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন, "এতদিন ফুটবল যেভাবে চলেছে সেভাবে চললে কোনো লাভ হবে না। পুরোপুরি পেশাদার ফুটবল প্রশাসনে যেতে হবে। বিকেলে এসে ফুটবল নিয়ে ভাববো,

এটা হবে না। কারণ আমাদের মাঠের ফুটবল ঠিক করতে হবে এবং অর্থও যোগাড় করতে হবে।"

তাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন আরেক সাবেক ফুটবল তারকা বাদল রায়। বাফুফে সহ সভাপতি বলেছেন, "এতদিন কোনো কাজের ফলোআপ হয়নি। যেমন প্রতি মাসে মাসে বাফুফে ১৪ জন কোচকে বেতন দিয়ে গেছে, কিন্তু তারা কী কাজ করেছে এবং তার ফলাফল কী তা কেউ দেখেনি। এরকম প্রত্যেকটা জায়গায় হয়েছে। এজন্যই বাফুফেতে পেশাদার লোক রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সামনে কাজের পরিধি ও চাপ অনেক বাড়বে।" ৩১ জুলাই থেকে নতুন বাফুফের অধীনে শুরু হচ্ছে নতুন ফুটবল মৌসুম। নানা টুর্নামেন্ট ও লিগ আয়োজন করে মাঠ মাতিয়ে রাখার প্রতিশ্র"তি দিয়ে রেখেছে কমিটি। এছাড়া ঢাকার বাইরে জেলা লিগগুলো দেখভালের পরো দায়িত্বও তারা নিয়েছে। তাই সরকার বিচ্যুত ডিএফএগুলোকে (জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) কার্যকর করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। কারণ নতুন কমিটি বিশ্বাস করে, জেলার ফুটবল চাঙ্গা না হলে দেশের ফুটবলের অবস্থা ফিরবে না। অথচ এই সত্যটা মানতেই চাইতো না বিগত কমিটি। মালু-বাচ্চুরা লাজ-শরম গায়ে না মেখে জবাব দিতেন সারা দেশের ফুটবল দেখার দায়িত্ব তাদের নয়। তারা চেনেন শুধু ভোট আর জানেন ভোটের কলা-কৌশল। এই ভোটের রাজনীতির কূট বুদ্ধি খাটিয়ে তারা জন্ম দিয়েছিলেন বিতর্কিত ডিএফএ যা এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া সচল হতে পারছে না !

নিজেদের স্বার্থে যারা ফুটবলের এতবড় তি করতে পারে তাদের ওপর যে ভরসা করা যায় না তা বুঝে গেছেন সালাউদ্দিন। তাই বেতন দিয়ে কাজের লোক রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদকসহ প্রশাসনে লোকবল এবং বিপননের জন্যও লোক নিয়োগ করবে বাফুফে। ইতিমধ্যে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও মোট কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা চূড়ান্ত করা হবে বাফুফে সভাপতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরনো ধ্যান-ধারণা ঝেড়ে ফেলে একেবারে কর্পোরেট চরিত্র নিয়ে হাজির হবে বাফুফে। তাদের বিশ্বাস আজকের য়িষ্ণু ফুটবল অদূর ভবিষ্যতে আর্কষণীয় এক পণ্যে পরিণত হবে ! কিন্তু ইতিমধ্যে যে নেতিবাচক গুঞ্জন ডালাপালা মেলতে শুরু করেছে! বাফুফে সহ সভাপতি বাদল রায় অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছেন, "শুরুতে হয়তো অনেকের বাড়াবাড়ি মনে হবে। মাঠের ফুটবল ভালভাবে চললে সব ঠিক হয়ে যাবে। এটা ছাড়া উন্নয়নের অন্য কোনো পথ নেই। ভারতের কথা বাদই দিলাম, মালদ্বীপ-শ্রীলঙ্কাও পেশাদার অবকাঠামোর মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ফুল-টাইমার লোক ছাড়া ফেডারেশন চলবে না। কারণ কমিটির সবাই অ্যামেচার। কিন্তু উন্নতি করতে হলে প্রতিটা দিনকে কাজে লাগাতে হবে।"

ফুটবল উন্নয়নের জন্য পেশাদারিত্ব জরুরি। এ সম্পর্কে ফিফা-এএফসিও বারবার বলেছে বাফুফেকে। কিন্তু বাংলাদেশ এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে পেশাদারিত্বকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছে একেবারে শূন্য হাতে ! সভাপতির কথা ধরলে তারা শুরু করেছেন বিগত কমিটির প্রায় অর্ধ কোটি টাকার দেনা মাথায় নিয়ে ! এভাবে পেশাদারিত্বের পথে পা রাখাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, প্রতিমাসে কর্মচারীদের বিশাল অংকের বেতন নিয়ে সংশয় থেকে যাবেই। বাদল রায় অবশ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন, "আগের মতো অর্থাভাবের অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। টাকা-পয়সা আমাদের যোগাড় করতেই হবে। সেটা নিশ্চয়ই আমাদের মাথায়ও আছে এবং অর্থ যোগাড়ের চেষ্টা চলছে।" প্রায়ই কর্পোরেট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নতুন বাফুফে সভাপতির বৈঠক দেখে সেই চেষ্টা আঁচ করা যায়। ফিফা-এএফসিও তাকে সহযোগিতার প্রতিশ্র"তি দিয়েছে।

নতুন সভাপতির নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রাণান্ত চেষ্টার ল্য একটাই -- আধমরা ফুটবলে নতুন সুষমা যোগ করা। তা সফল হলে ফুটবলও হয়ে উঠবে এদেশের বড় এক কর্পোরেট পণ্য !