ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

সাক্ষাৎকারনিজের ফুটবল-স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই সভাপতি প্রার্থী সালাউদ্দিন

Rate this item
(0 votes)

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা তারকা কাজী সালাউদ্দিন এবার ফুটবলে আসতে চান একটু অন্যভাবে, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হয়ে নিতে চান ভঙ্গুর এবং ক্ষয়িষ্ণু বাংলাদেশ ফুটবলের দায়িত্ব। উচ্চাঙ্গের ফুটবলবোধ, অত্যাধুনিক ভাবনা এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব মিলে ফুটবল ছাড়ার প্রায় তিন দশক পরও বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে সালাউদ্দিনের জায়গাটা অন্যরকম; শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভরে থাকা একটা আসনে তিনি আসীন। ফুটবল জীবনে বহু চ্যালেঞ্জ জয় করা সালাউদ্দিন কী পারবেন পতনের কিনারা থেকে বাংলাদেশের ফুটবলকে নতুন দিক দেখাতে? তার আগে কি পারবেন নির্বাচন নামের এই গোলমেলে হার্ডলটা পেরোতে? এসব নিয়ে

বিস্তারিত জানতেই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার সনৎ বাবলা মুখোমুখি হয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিনের।

প্রশ্ন : বাফুফের বর্তমান কমিটিতে আপনি সহ-সভাপতি ছিলেন। এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করে আপনি এখন সভাপতি প্রার্থী। এটা কী অনেকটা জেদের বশে?

সালাউদ্দিন : এখানে জেদের কিছু নেই। একটা কারণে পদত্যাগ করেছি। কারণটা বিশ্লেষন করে দেখলাম যে সবকিছুই সভাপতির নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেক ভিন্নমত থাকলেও তার কথাই শেষ কথা। তাই আমি চিন্তা করলাম ফুটবলে অবদান রাখতে হলে সভাপতি হতে হবে। নইলে আপনার যতো ভাল চিন্তা বা পরিকল্পনাই থাকুক বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এটা বুঝতে পারার পরই আমার মাথায় সভাপতি হওয়ার চিন্তাটা ঢুকেছে ফুটবল নিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য। ফুটবল ফেডারেশনে বছর তিনেক কাটিয়ে এই উপলব্ধি হয়েছে আমার।

প্রশ্ন : আপনি যে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন তাতে ভবিষ্যতে যে কোনো সভাপতিকে নিয়েই তো ভয় হয়। যদি পূর্বসূরীদের মতো একনায়ক হয়ে উঠেন!

সালাউদ্দিন : না, কেউ ফুটবলকে ভালবাসলে, ফুটবলের উন্নতি চাইলে তার সঙ্গে অন্যদের মতের বিরোধ হওয়ার আশংকা কম। সভাপতির কাছে ফুটবলের স্বার্থ আগে থাকলে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আমি বিষয়টাকে এভাবে দেখি।

প্রশ্ন : আপনি যখন ফুটবল ফেডারেশনের চালকের আসনে বসতে চাইছেন তখন নিশ্চয়ই আপনার কিছু স্বপ্ন আছে। সেটা কী রকম?

সালাউদ্দিন : আমার স্বপ্ন অনেক বড়, সেটা এখন আমি বলতে চাই না। তবে বাফুফেতে যেতে পারলে আমার প্রধান কাজ হবে ফুটবল খেলাটা দশ মাস মাঠে রাখা। খেলা না হলে ফুটবলার তৈরি হবে না, জনপ্রিয়তাও বাড়বে না, কিছু হবে না। দেখুন ক্রিকেট এখন অনেক জনপ্রিয় খেলা এদেশে। আমি খেয়াল করেছি, সবসময় মাঠে ক্রিকেট খেলাটা আছে। আজ এই টুর্নামেন্ট তো কাল ওই টুর্নামেন্ট। কেউ কেউ হয়তো বিরক্তও হচ্ছে, কিন্তু এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিশোরদের ওপর। কিশোর বয়স থেকেই তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারছে। জাতীয় দল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্বপ্ন দেখাচ্ছে বলেই তৃণমূল থেকেই ক্রিকেটারদের প্রতিদ্বন্ধিতা শুরু হয়। এটা আমাদের সময় ফুটবলেও হতো, সেই ঐতিহ্যটা নষ্ট হয়ে গেছে। দেখুন এখন ফুটবলের নির্বাচন নিয়ে বিস্তর কথা হচ্ছে, অথচ মাঠের ফুটবলের খবর নেই। তাই আমি শুরু থেকে যে কোনো মূল্যে অন্ততঃ ১০ মাস খেলা রাখতে চাই মাঠে।

প্রশ্ন : আসলে আপনার টার্গেটটা কী ? নিশ্চয়ই একটা লক্ষ্য ঠিক করে এগোবেন।

সালাউদ্দিন : অবশ্যই আছে। আমি যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারি এবং পরিকল্পনামতো ১০ মাস মাঠে খেলা রাখতে পারি তাহলে আশা করি তিন বছর পর থেকেই তার ফল পাবো । দেখবেন খেলোয়াড়ের অভাবটা কেটে যাচ্ছে, মানও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হয়তো শুরুতে হারবো কিন্তু ৪ বছর মেয়াদের শেষের দিকে একটা পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। আসলে মূল লক্ষ্যটা হচ্ছে উন্নয়নের জন্য ফুটবল-চর্চার ভাল একটা ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। কিশোরদের স্বপ্ন দেখার ব্যবস্থা করে দেওয়া। এ নিয়ে আমার নিজস্ব একটা পরিকল্পনা আছে। কমিটির অন্য সদস্যদেরও নিশ্চয়ই থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে উন্নয়ন-পরিকল্পনা।

প্রশ্ন : ধরলাম আপনার সদিচ্ছা আছে, পরিকল্পনা আছে। কিন্তু বাস্তবায়নের অর্থ কোথায় পাবেন? আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন প্রচুর অর্থ ছাড়া ফুটবল-উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সালাউদ্দিন : সত্যি, টাকা ছাড়া হবে না। স্বাভাবিকভাবে অর্থের জন্য আমাকে সরকারের কাছে যেতে হবে। ফুটবল নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের দারুন উৎসাহ দেখেছি আমি। তার কাছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েই আমরা অর্থ চাইবো। অতীতে কোনো পরিকল্পনা না করে শুধু টাকা চাওয়া হয়েছে। আসলে পরিকল্পনার সঙ্গে সরকারকে বোঝানোর ক্ষমতাও থাকতে হয়। কর্পোরেট হাউসগুলোর কাছেও যেতে হবে। সোজা কথা ফুটবলকে একটা পণ্যের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে যার আকর্ষনে মাঠে দর্শক আসবে। এবং বানিজ্যিক সংস্থাগুলো ফুটবলের সঙ্গে জড়িত হতে চাইবে।

প্রশ্ন : কিন্তু এত সহজে তো ফুটবলকে পণ্যে রূপান্তর করা যাবে না।

সালাউদ্দিন : একটা জিনিস কিন্তু বুঝতে হবে আমি বা আমরা কেউ-ই যাদুকর নই, বলতে পারেন কারিগর। নিজেদের মেধা ও পরিকল্পনা দিয়ে কাজ করে যাবো। ফল পেতে একটু সময় তো লাগবে, রাতারাতি সব পাল্টে যাবে এমন আশা করা ঠিক না।

প্রশ্ন : আপনি ১০ মাস মাঠে খেলা রাখার কথা বলছেন। কিন্তু গত এক দশক ধরে দেখছি ক্লাব ও বাফুফের সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেকে বলেন, ক্লাবগুলোর কাছে জিম্মি বাফুফে।

সালাউদ্দিন : জিম্মি কাথাটার সঙ্গে আমি একমত নই। আমাদের সময় তো খেলার ব্যাপারে অনীহা ছিল না ক্লাবগুলোর। এখন সম্পর্কের অবনতিটা কেন হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। আসলে ফুটবলার সৃষ্টি করে ক্লাব, এই দুটো পক্ষের সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রেখেই বাফুফেকে ফুটবল-উন্নয়ন করতে হবে। একটা জিনিস খেয়াল করবেন, তিন পক্ষের এক ও অভিন্ন উদ্দেশ্য হচ্ছে ফুটবল খেলা। এই ঐক্য থাকলে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কোনো সুযোগ নেই। এক জায়গায় মিলতেই হবে।

প্রশ্ন : এটাও সত্য, আমাদের ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে খুব দূর্বল। তাদের নিজস্ব আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। পেশাদারিত্বের পথে এগুতে গেলে ক্লাব-ফুটবলকে শক্তিশালী করতে হবে। ক্লাব দূর্বল হলে সেটা সম্ভব নয়।

সালাউদ্দিন : ক্লাবের উন্নয়নের কাজ ক্লাব করবে, এটা ফেডারেশনের কাজ নয়। কিন্তু আমরা বুদ্ধি কিংবা অর্থ দিয়ে সাহায্য করবো ক্লাবগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। কারণ ক্লাবগুলোই খেলোয়াড় তৈরি করে। পুরো ফুটবল বিশ্বে এই নিয়ম। ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল খেলা তত্ত্বাবধান করে আর খেলা আয়োজন করে। আমাদের ক্ষমতা যতটুকু তার সবটুকু নিয়ে আমার ক্লাবগুলোর পাশে দাঁড়াবো। আমি নিজেও ক্লাবের প্রোডাক্ট এবং ক্লাব-ফুটবলে বিশ্বাসী। ফেডারেশনের মাতব্বরিতে বিশ্বাসী নই।

প্রশ্ন : বাফুফের লোকজন প্রায় বলেন ফিফা-এএফসির কথা। বোঝাই যাচ্ছে, তাদেরও বড় একটা ভূমিকা আছে আমাদের ফুটবলে। তাদের সঙ্গে আপনার সেরকম যোগাযোগ নেই। নির্বাচিত হলে আপনাকে একেবারে শুন্য থেকেই শুরু করতে হবে, যেখানে বর্তমান সভাপতি অনেকটা এগিয়ে।

সালাউদ্দিন : এটা কঠিন কিছু নয়। যাদের সঙ্গে নিয়ে আমি নির্বাচন করছি তাদেরও তো ফিফা-এএফসিতে যোগাযোগ আছে। আগে হারুন সাহেবের সঙ্গে ছিল, তারপর সুলতান ও হেলাল সাহেবের সঙ্গে হয়েছে। হেলাল সাহেব তো আমার সঙ্গেই আছেন। এই সম্পর্কের জন্য কোনো ম্যাজিক দরকার হয় না, চারটা সভায় গেলেই হয়ে যাবে। আমারও তো কিছু যোগাযোগ আছে যেটা হয়তো অন্যদের নেই। যেমন জার্মানিতে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে বেকেনবাওয়ার, প্লাতিনির পরিচয় হয়েছে। পরিচয়ের পর যোগাযোগটা নিয়মিত রাখার মাধ্যমেই সম্পর্কন্নোয়ন হয়। আপনারা একটা জিনিস ভুল করেন, সেটা হচ্ছে ফিফা-এএফসিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, সভাপতির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে। ভবিষ্যতে যিনি আসবেন তার সঙ্গেও সখ্যতা হবে।

প্রশ্ন : সম্পর্কটা ভাল থাকলে নাকি ফিফা-এএফসি থেকে অনেক প্রাপ্তিও হয়।

সালাউদ্দিন : আমাদের জীবনে দেখেন, আপনার কাছের বন্ধুর জন্য নিশ্চয়ই আপনার টানটা বেশি থাকবে। সেরকম ফিফা-এএফসির সঙ্গে সম্পর্ক ভাল হলে আমাদের সমস্যার কথাও তারা গুরুত্বের সঙ্গে ভাববে। সেটা আমাদের মাথায় আছে। ফিফা বছরে আড়াই লাখ ডলার অনুদান দেয় প্রত্যেক দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে। এর বাইরে তারা একটা স্পেশাল ফান্ড রেখেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য। নিজেদের পরিকল্পনা-কার্যক্রম দেখিয়ে সেটি আদায় করে নেওয়া যায়। তখনই হয় সাংগঠনিক দক্ষতা ও সম্পর্কের পরীক্ষা।

প্রশ্ন : সাংগঠনিক দক্ষতার প্রসঙ্গ এসেছে। এক্ষেত্রে কিন্তু সাবেক তারকা ফুটবলারের সাফল্য খুব বেশি নাই। বেকেনবাওয়ার, প্লাতিনি ছাড়া তেমন কাউকে সফল হতে দেখা যায়নি।

সালাউদ্দিন : সেপ ব্ল্যাটারের নাম বাদ দিলেন কেন, তিনিও তো ইউরোপীয় লিগে খেলেছেন। সাংগঠনিক লাইনে না এলে তো সফল হওয়ার প্রশ্ন উঠে না। এদিকে এসেছেন বেকেনবাওয়ার ও প্লাতিনি, তারা সফলও হয়েছেন। বেশিরভাগ খেলোয়াড়রা কোচিংয়ের দিকে যায়, ধারভাষ্যকার হয়ে চায়, মিডিয়ায় কলাম লেখে আয় করে। মানে খেলা ছাড়ার পর এমন পেশায় যায় যেখান থেকে আয় করা যায়। ফুটবল সংগঠনে আসে না কারণ এটা তো আয়হীন গাধার খাঁটুনির কাজ।

এখন নিজের কথা বলি, খেলার পর কোচিং লাইনেও ছিলাম। ওই ম্যাচুরিটি নিয়েই এখানে এসেছি। সুতরাং এই অঙ্গন আমার ভীষণভাবে চেনা।

প্রশ্ন : বর্তমান কমিটিতে আপনাকে দেখে ফুটবলাররা আশাবাদী হয়েছিলেন। পেশাদার লিগের ভাল একটা কাঠামো দাঁড়াবে আশা করেছিলেন। কিন্তু আপনি হুট করে লিগ কমিটি এবং ফেডারেশন ছেড়ে চলে গিয়ে তাদের আশার জায়গায় বিরাট ধাক্কা দিয়েছেন। যার কাছে অভাব-অভিযোগের কথা বলা যেতো সেই লোক তাদের ছেড়ে চলে গেছে। ব্যাপারটা বেশ হাতাশার ছিল।

সালাউদ্দিন : আসলে তখন আমি আরেকজনের অধীনে কাজ করতাম। তাই খেলোয়াড়রা চাইলেও আমি অনেক কিছু দিতে পারতাম না। আমি যদি সভাপতি হয়ে আসতে পারি তারপর দেখেন অবস্থা কীরকম হয়। চার বছর তাদের জন্য আমার দুয়ার খোলা থাকবে। যে কোনো সময় যে কোনো সমস্যা নিয়ে তারা আমার কাছেই আসবে। বড় ভাই হিসেবে আমি তাদের কথা দিচ্ছি।

প্রশ্ন : এবার আসি নির্বাচনের কথায়। এ লাইনে আপনি একেবারে নতুন। মাঠে খেলার চেয়ে কী নির্বাচনী লড়াই কঠিন মনে হচ্ছে না?

সালাউদ্দিন : (হাসি)। নির্বাচনের উত্তাপটা টের পাচ্ছি। আমি নতুন হলেও হেলাল ভাইসহ (আনোয়ারুল হক হেলাল) অনেকে আছেন যাদের পরামর্শ নিয়ে আমি কাজ করছি। খুব যে খারাপ করছি তা-ও না। দেখা যাক।

প্রশ্ন : আপনার প্রতিপক্ষরাও স্বীকার করে ফুটবল-মেধায় আপনি অনেক এগিয়ে। কিন্তু সাংগঠনিক দক্ষতায় আপনার খামতি আছে বলে মনে করে তারা।

সালাউদ্দিন : বড় ফুটবলারদের বড় সংগঠক হওয়ার উদাহরণ আগেই দিয়েছি। আমার বিশ্বাস আমি সফল হবোই। সাংগঠনিক দক্ষতার কথা বলছিলেন, এ বিষয়ে বলি। একটা বড় ফুটবল দল চালানো খুব-খুব কঠিন কাজ। আমার দলে ছিল চুন্নু, টুটুল, হেলাল, বাদল, মুন্না, মহসীন, ওয়াসীম-- তাদের সবাই একনামে চেনে। মানুষকে পরিচালনা যখন সবচেয়ে কঠিন কাজ তখন আমি কোচ হিসেবে এসব তারকাদের একা সামলেছি। আমার ওই ক্ষমতা না থাকলে তো ওরা মারপিট করতো, কিন্তু এরকম অঘটন কখনো ঘটেনি। এটা কি সাংগঠনিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা নয় ?

প্রশ্ন : আপনার প্রতিপক্ষ এবং এমনকি নিজের প্যানেলের লোকজনও আপনার ব্যক্তিত্বকে ভয় পায়। ফুটবল-চিন্তায় অনেক ওপরে রাখলেও এই একটা ভীতি তাদের সঙ্গে আপনার একটা দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে। সম্পর্কটা যেন সহজ না।

সালাউদ্দিন : এটা একটা ভ্রান্ত ধারনা। আমি মোটেও মুডি না, একবার কারো সঙ্গে সম্পর্ক হলে সে বুঝতে পারবে আমি কতোটা সহজ প্রকৃতির মানুষ। আমি গল্প-গুজব করতে ভালবাসি। আর ফুটবল নিয়ে ভাবনা-চিন্তা আমার কতটুকু কী আছে জানি না। তবে আমি অন্যদের চিন্তা ও অভিজ্ঞতাকে সম্মান করি। জিতলে তাদেরকে খুব প্রয়োজন হবে আমার।

প্রশ্ন : বাফুফে নির্বাচনে ফোরামের ভোট বেশি। তাদের বিতর্কিত ভূমিকা দেখেছি অতীতের নির্বাচনে। সেই এখন দ্বিধাবিভক্ত, তাদের পক্ষে টানবেন কীকরে ?

সালাউদ্দিন : আপনি বলেছেন ফোরাম দ্বিধাবিভক্ত, সেখানে দুজন দু'পক্ষকে সমর্থন করছে। সবাই যে আমাকে সমর্থন করবে এমন তো হতে পারে না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে ফোরাম নয়, ভোটারদের নিজস্ব পরিচয় আমার কাছে বড়।

প্রশ্ন : আরেকজন সভাপতি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আমিন আহমেদ চৌধুরী। মিডিয়ার খবর হচ্ছে, তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। ঐক্যের প্রস্তাব দেবেন শোনা যাচ্ছে। (ইতিমধ্যে কথা বলেছেন)।

সালাউদ্দিন : দেড় বছর আগে আমি সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছি। তারপর থেকেই নিজেকে তৈরি করছি। এখন সাতদিন আগে কেউ এরকম প্রস্তাব দিলে আমার পক্ষে অবস্থান পরিবর্তন করা কঠিন।

প্রশ্ন : ধরুন নির্বাচনে আপনি জিতলেন। কিন্তু কমিটিতে আপনার সমমনা লোকজনের চেয়ে ভিন্নমতের সদস্যের সংখ্যাধিক্য। সাংগঠনিক কাজে কী সমস্যা হবে না?

সালাউদ্দিন : সমস্যা হওয়ার কথা। তখনই লিডারশিপটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠবে। পুরো কমিটিকে ঐক্যবদ্ধ করে ফুটবল-উন্নয়নমুখী করাটাই হবে সভাপতির কাজ।

Last modified on Friday, 07 March 2014 19:24