ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 06 March 2014 15:20

ক্রিকেট উৎসব শুরুর অপেক্ষা

Rate this item
(0 votes)

বিশ্বকাপ ক্রিকেট আর ক্রিকেটপ্রেমীর মধ্যে দূরত্ব এখন কয়েকঘণ্টার। দিন গণনা শেষে এখন ক্ষণ গণনার পালা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকালেই উদ্বোধন হবে ক্রিকেট উৎসবের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে শিল্প ব্যাংক ভবনে টানানো বিশাল পর্দায় ভেসে উঠবে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি।

এই প্রথম বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজক দেশের কাতারে। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ আয়োজনের

অংশীদার ভারত ও শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে রঙিন সাজে সাজানো হয়েছে ঢাকাকে। সেই সঙ্গে সেজেছে আরেকটি ভেন্যু চট্টগ্রামও। জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে।

উদ্বোধন বৃহস্পতিবার হলেও খেলা মাঠে গড়াবে ১৯ ফেব্র"য়ারি। রাজধানীর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ লড়বে ভারতের সঙ্গে।

১৩৫ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে। তবে এর আগে ৪টা ৫৫ মিনিটে শুরু হবে ৫০ মিনিটের আরেকটি অনুষ্ঠান।

সব মিলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে প্রায় ১শ' ৩৫ মিনিট ধরে। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে উইজ ক্রাফট ও বাংলাদেশের এশিয়াটিক ইভেন্ট।

৫০ মিনিটের অনুষ্ঠানে গান গাইবেন বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার চারজন পুরুষ ও চার নারী শিল্পী।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা স্টেডিয়ামে প্রবেশের পর শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব।

প্রথমেই সুসজ্জিত ও হাইড্রলিক পদ্ধতির মঞ্চে স্বাগত সঙ্গীত 'ও পৃথিবী এবার এসে... বাংলাদেশ নাও চিনে, ও পৃথিবী...তোমায় স্বাগত জানাই এই দিনে...' পরিবেশন করবেন ইবরার টিপু ও তার দল। গানের ইংরেজি অংশ গাইবেন এলিটা ও মিলা। সঙ্গে থাকবেন ৪০ জন যন্ত্রশিল্পী। গানটি লিখেছেন জুলফিকার রাসেল।

স্বাগত সঙ্গীত শেষে মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপের মাসকট স্ট্যাম্পিকে। এর পেছনে ১৪টি দেশের অধিনায়কের নেতৃত্বে ক্রিকেট দলের সদস্যরা মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ও অর্থ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবু হেনা মুস্তফা কামাল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি শারদ পাওয়ার স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন।

বক্তৃতা শেষে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা প্রতিযোগিতা উদ্বোধনের ঘোষণা দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে স্টডিয়ামের পূর্ব পাশে শিল্প ব্যাংক ভবনের দেয়ালে টানানো বিশাল পর্দায় ভেসে উঠবে বিশ্বকাপের প্রতিকৃতি। আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হবে শান্তির প্রতীক এক ঝাঁক কবুতর। এরপরই শুরু হবে আতশবাজির রঙিন খেলা।

৩ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি
বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা, এই তিন দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও তুলে ধরা হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের পর্ব পরিচালনা করবেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপা। এ সময় বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গৌরবময় ঘটনা প্রবাহ ফুটিয়ে তোলা হবে সঙ্গীত, নৃত্য, কোরিওগ্রাফি ও আলোকরশ্মির মাধ্যমে।

শ্রীলঙ্কার কোরিওগ্রাফার ও শিল্পীরা আট মিনিটের 'দি পার্ল অব ইন্ডিয়ান ওশান' পর্বের শুরুতেই আলোক-রশ্মি ও শব্দের মাধ্যমে সাগরের ঢেউয়ের দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবেন। সে সময় মাঠ ও আকাশ ছড়িয়ে যাবে নীল রঙে। এক পর্যায়ে সুরের তালে তালে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলা হবে বিশাল একটি মুক্তা। তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবেন শ্রীলঙ্কার একজন তারকা অভিনেত্রী।

সন্তোষ শেঠজির পরিচালনায় তার দেশের কোরিওগ্রাফার ও শিল্পীরা পরিবেশন করবেন 'সিম্ফোনি অব কালারস'।

১২ মিনিটের এ পর্বে ভারতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ পর্বের শুরুতে মঞ্চের মাটি ফুঁড়ে 'রাখালের বাঁশির সুরে'র সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপরে উঠে আসবেন শিবলী। সুর থেমে যেতেই রাখাইন, সাঁওতাল ও চাকমারা ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড ধরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করবেন। এরপর শুরু হবে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মনিপুরি নৃত্য ও এক মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কথক নৃত্য।

Last modified on Monday, 10 March 2014 16:18