ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 06 March 2014 15:16

মোহালি ম্যাচ: সম্পর্কের বরফ গলবে কি?

Rate this item
(0 votes)

বিশ্বকাপ ক্রিকেট চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন রচনার এক অভাবনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে।

মোহালিতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচের নেপথ্যে চলেছে ক্রিকেট কূটনীতি।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমন্ত্রণে মোহালিতে এই ম্যাচ উপভোগ করতে এসেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি।

দুদেশের কাছেই এটি এক মর্যাদার লড়াই।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তাদের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান জানান। ম্যাচ শুরুর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের সঙ্গে করেছেন করমর্দন। মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতেই দুই দেশ এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে।

ভারতের 'মেইল টুডে' তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় শিরোনাম দিয়েছে 'ক্রিকেট উপভোগ করুন, এটা যুদ্ধ নয়'।

মুম্বাইয়ের ওই সন্ত্রাসী হামলা দু'দেশের আস্থায় চির ধরায়।

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সহযোগিতায় সে দেশের জঙ্গিরা ওই হামলা চালায়।

ক্রিকেট কূটনীতির সুবাদে আস্থা বিনির্মাণের পদক্ষেপ হিসেবে মোহালি ম্যাচের আগে মঙ্গলবার পাকিস্তান মুম্বাই হামলার তদন্তের জন্য ভারতীয় তদন্তকারীদের পাকিস্তান ভ্রমণের অনুমতি দিতে রাজি হয়।

দু'দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তান এ সম্মতি জানায়।

মোহালির উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার আগে গিলানি সাংবাদিকদের বলেন, "দু'দেশের জনগণের অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে আমি সেখানে যাচ্ছি আমাদের এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ক্রিকেটকে প্রমোট করতে।"

তিনি আরো বলেন, "আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে বলতে গেলে আমি খুশি যে আলোচনা শুরু হয়েছ। স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়েরআলোচনা ইতিবাচকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড. মনমোহন সিং একজন খুব ভালো রাজনীতিক। তিনি এ অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির কিছু করতে চান। তাই আমরা উভয়েই অঙ্গীকারাবদ্ধ যে, পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো উচিত যাতে আমরা জনগণের সেবা করতে পারি।"

দুদেশের মধ্যে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ধর্মীয় ও জাতিগত বন্ধনের অন্যতম হচ্ছে এই ক্রিকেট। যদিও দেশ দু'টির মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলছে আস্থাহীনতা।

জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মোহালি স্টেডিয়ামের উপর নো-ফ্লাই জোন আরোপ করেছে। পাকিস্তানি সীমান্তের পূর্ব অংশ থেকে এই স্টেডিয়ামে গাড়িতে করে পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা লাগে।

ভারতের হাজার হাজার ক্রিকেট প্রেমী ম্যাচ শুরুর সাত ঘণ্টারও বেশি সময় আগে স্টেডিয়ামের গেটের বাইরে লাইন ধরে অপেক্ষা করতে থাকে। অনেকেই ভুভুজেলা বাজাতে থাকে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব রাজ্যের সীমান্ত অতিক্রম করে অনেক পাকিস্তানি দর্শকও এ ম্যাচ দেখতে এসেছেন।

পাকিস্তানি দলের সমর্থক মো. বশির খান রয়টার্সকে বলেন, "আমি সবাইকে বলতে চাই, সীমান্তে তোমাদের যুদ্ধ করা উচিত নয়। বরং ক্রিকেট মাঠে লড়াই করো। আর এটাই দু'দেশের মানুষ দেখতে চায়।

এই খেলা উপলক্ষে দু'দেশের অনেক কোম্পানি বুধবার অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী গিলানি তার সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন বড় আকারের শুভেচ্ছা প্রতিনিধিদল। এতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক।

কিন্তু ক্রিকেট কূটনীতি দুদেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে কতটুকু সহায়ক হবে সে ব্যাপারে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

সাবেক পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ভারতীয় টিভি চ্যানেল টাইমস নাওকে বলেন, "ক্রিকেট কূটনতি মানে এই নয় যে, একটা ম্যাচে একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে আপনি সব বিরোধের নিষ্পত্তি করে ফেলবেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানি ড. অমল মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ক্রিকেট কূটনীতি নিছক একটি সৌজন্য মাত্র। এর মানে এ নয় একটি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি না হওয়ার আসল কারণ হচ্ছে পাকিস্তানে একটি পোক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।