ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Thursday, 06 March 2014 15:14

অস্ট্রেলিয়া সফরে শুধু ওয়ানডে খেলেই ফিরতে হবে বাংলাদেশকে!

Rate this item
(0 votes)

চলতি বছরটা বোধহয় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য 'বঞ্চনার বছর'ই হতে যাচ্ছে! মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ নির্ধারিত হয়ে আছে ঠিকই। কিন্তু ভারতের গড়িমসিতে এখন সেটার ভাগ্য ঝুলে আছে। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও যে অংশ নেওয়া হচ্ছে না, তা একরকম নিশ্চিতই হয়ে গেছে। তবে শুধু ওয়ানডে ম্যাচই নয়। এ বছর কমে যেতে পারে বাংলাদেশের নির্ধারিত টেস্ট ম্যাচের সংখ্যাও। তেমন আশঙ্কার কথাই শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ লিপু। জুলাই-আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আশরাফুলরা। দুই টেস্ট এবং তিন ওয়ানডের সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এখন টেস্ট ম্যাচ আয়োজনে তাদের অনাগ্রহের কথা জানাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার অনাগ্রহ বলে কথা। এ কারণেই লিপুকে বলতে হচ্ছে, "অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে বোধহয় শুধুই ওয়ানডে সিরিজ খেলে ফিরতে হবে আমাদের।" ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী এবছর ৮টি টেস্ট ম্যাচ আছে বাংলাদেশের। এফটিপির বাইরে আছে আরো চারটি। যারমধ্যে দুটো নিউজিল্যান্ডে খেলে এসেছে তারা। কিউইরা অক্টোবরে ফিরতি সফরে বাংলাদেশে এসে খেলবে আরো দুটো। ফেব্র"য়ারিতে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটো টেস্ট খেলা বাংলাদেশ ফিরতি সফরে যাবে নভেম্বরে। সেখানে আরো দুটো টেস্ট খেলে দেশে ফিরেই দুই টেস্টের সিরিজে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। এমনই নির্ধারিত ছিল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দুই টেস্টের সিরিজ খেলাও।

সেটা হুট করে ফেঁসে যাওয়ার কারণ বিস্তারিত জানাতে পারলেন না লিপু, "টেস্ট সিরিজ বাতিল করার বিষয়টা এখনো নিশ্চিত করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে ইঙ্গিতটা সেরকমই। বিসিবির সঙ্গে তাদের নিয়মিতই যোগাযোগ হচ্ছে। তারা জানিয়েছে ওই সময়ে তাদের বড় কী একটা ইভেন্ট যেন আছে। তাছাড়া সেসময় টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের জন্য মাঠের অভাবের কথাও জানানো হয়েছে। টেস্ট সিরিজটা যাতে হয় সেই চেষ্টা তো আমরা করছিই। কিন্তু তারা আয়োজন করতে না চাইলে বড় মুশকিল।" সবমিলিয়ে এবছর ১২টি টেস্ট খেলার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত তা দশে নেমে যেতে পারে। যদি অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ না-ই আয়োজন করে।

মে মাসে ত্রিদেশীয় সিরিজ না হলে কমে যাবে ওয়ানডের সংখ্যাও। আর ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দলকে নিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ায় ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই আসরেও অংশ নেওয়া হচ্ছে না মোহাম্মদ আশরাফুলদের। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে কিছু একটা ঘটিয়ে আসতে পারলে তবু সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেখানে ব্যর্থ হয়ে ফেরায় আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা আটে পৌছানো সম্ভব হবে না বাংলাদেশের। এটা তবু মানা যায়। কিন্তু প্রাপ্য অনেক ম্যাচও যে এখন হারানোর শঙ্কা বাংলাদেশের সামনে।