ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘লারাকে ছুঁতে পেরে দারুণ খুশি’

Rate this item
(0 votes)

ব্যাটিংয়ের মতোই মনোমুগ্ধকর তাঁর কথাও৷ ব্যাটিং যেমন শুধু দেখতে ইচ্ছে করে, কথাও তেমনি শুনে যেতে ইচ্ছে করে৷ কাঙ্ক্ষিত ট্রিপল সেঞ্চুরির পর কাল সংবাদ সম্মেলনেও কথার ঝাঁপি খুলে দিলেন কুমার সাঙ্গাকারা

কুমার সাঙ্গাকারার আরেকটি ছক্কা৷ অন্যদিকে উইকেট পড়তে দেখে ঝোড়ো ব্যাটিং করেই ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পেঁৗছেছেন শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি৷ সর্বশেষ ব্যাটসম্যান হিেসবে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৩১৯, যাতে ছিল ৮টি

ছক্কা প্রথম আলো সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে ধরা দিয়েছে প্রায় সবকিছুই, বাকি ছিল শুধু এটিই৷ ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ইচ্ছেটা কি খুব তীব্র ছিল?
কুমার সাঙ্গাকারা: অবশ্যই, ব্যাটসম্যান হিসেবে সব সময়ই তো চোখ থাকে এক শ, দুই শ, তিন শর দিকেই৷ ব্রায়ান লারা চার শও করেছে৷ সুযোগ পেলে এসব মাইলফলককেই তাড়া করতে হয়৷ অবশেষে তিন শ ক্লাবে ঢুকতে পেরে আমি খুব খুশি৷
 ট্রিপল সেঞ্চুরিও তো হয়ে গেল৷ শেষ করার আগে আর কী অর্জন করতে চান?
সাঙ্গাকারা: দুটি দিক থেকে দেখা যায় এটিকে৷ ব্যক্তিগতভাবে ব্যাটসম্যান হিসেবে অর্জন আমার যথেষ্টই৷ কিন্তু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে আমাদের লক্ষ্য দেশের বাইরে আরও অনেক টেস্ট জেতা৷ সেটা থেকে এখনো অনেকটা দূরে আছি আমরা৷ র৵াঙ্কিংয়ের সিঁড়ি বেয়েও উঠতে চাই আরও ওপরে৷ আশা করি, অবসরের আগে বড় টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোকে তাদের মাটিতে হারানোর স্বাদ পাব৷
 আপনি বরাবরই ব্রায়ান লারার ভক্ত৷ লারার নয় ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁয়ে কেমন লাগছে?
সাঙ্গাকারা: হ্যঁা, লারার ভীষণ ভক্ত আমি৷ বেড়ে ওঠার দিনগুলোয় আদর্শ ছিলেন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস৷ এরপর লারার আবির্ভাব হলো, ওর ব্যাটিং দেখাটা ছিল জাদুকির একটা ব্যাপার৷ লারাকে ছঁুতে পেরে দারুণ খুশি আমি৷ তবে আমার মনে হয় না, ব্যাটসম্যানিশপে ওকে ছঁুতে পারব৷ কারণ আমার দেখা বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের চেয়েই ভিন্ন একটা উচ্চতায় অবস্থান লারার৷
 একটি জায়গায় তো লারাকে ছাড়িয়েও গেছেন, টেস্টে দ্রুততম ১১ হাজার রানের রেকর্ড এখন আপনার!
সাঙ্গাকারা: খুব কম জায়গাতেই আমি লারাকে ছাড়াতে পেরেছি৷ ওর সঙ্গে নিজেকে তুলনা করি না, এই তুলনার কোনো মানেই হয় না আসলে৷ আমার মতে, লারা ধরাছোঁয়ার বাইরে৷ আমি নিজের মতো করে রান করতে পেরেই খুশি, খুশি ১১ হাজার রানের মাইলফলক ছঁুয়ে৷
 শেষ দিকে যখন উইকেটে সঙ্গীহারা হয়ে পড়ছিলেন, ভাবনাটা কী ছিল?
সাঙ্গাকারা: শেষের দিকে রান করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কারণ নয়জন ফিল্ডারই ছিল বাউন্ডারিতে৷ হাতে উইকেট ছিল না বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদলানোটাও ছিল ঝঁুকির৷ টেলএন্ডারদের তাই বাঁচিয়ে খেলতে হয়েছে৷ এ জন্যই ঠিক করেছিলাম যত দ্রুত সম্ভব তিন শ করার চেষ্টা করতে হবে৷ তিন শ হওয়ার পর যত বেশি সম্ভব দলের রান বাড়াতে, কারণ আজই (কাল) আমরা ইনিংস ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম৷
 ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো থেকে কী কী আপনি ঠিকঠাকভাবে করেছেন যে এতটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছেন?
সাঙ্গাকারা: যত বেশি সম্ভব পরিশ্রম করা, যতবার মাঠে নেমেছি, প্রতিবারই কিছু না-কিছু শিক্ষা নেওয়া, ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকা...খুব বড় কোনো রহস্য নেই৷ অন্তহীন নক করে যাওয়া, নেটে অনেক সময় কাটানো, নিজের ব্যাটিং নিয়ে ভাবা, কাজ করা৷ ড্রেসিংরুমের আবহটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পরস্পরকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়ানো৷ শুধু স্কিল নয়, ফিটনেসের ব্যাপার ছিল৷ আমার ওপর দলের বাকি সবার আস্থাটাও আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে৷ চোখের সামনেই িছলেন অরবিন্দ ডি সিলভা, সনাৎ জয়াসুরিয়ারা, ওঁদের মতো হওয়ার তাড়নাও ছিল৷
 বাংলাদেশের বিপক্ষে আপনার ব্যাট একটু বেশিই নির্দয়!
সাঙ্গাকারা: সব সময় সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই রান করতে চেয়েছি আমি৷ চাই যত বেশি সম্ভব রান করতে৷ আমি সুযোগ খুঁজি না, খঁুজি রান৷
 সেঞ্চুরিসংখ্যায় জয়াবর্ধনেকে ছাড়িয়ে গেলেন, ক্যারিয়ার রানে এগোলেন আরেকটু কাছে৷ দুই বন্ধুর লড়াই ভালোই জমে উঠেছে...
সাঙ্গাকারা: লড়াই বলে কোনো ব্যাপার নেই৷ মাহেলা অসাধারণ এক প্রতিভা, বিশ্ব ক্রিকেটে সে আপন আলোয় আলোকিত৷ ওর পাশে খেলতে পারাটাই দারুণ ব্যপার৷
 আপনার ও মাহেলার জুটি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা৷ সময়ের সঙ্গে জুটিতে খেলার ধরনে কি পরিবর্তন এসেছে?
সাঙ্গাকারা: আমার মনে হয় কমবেশি একই রকম আছে৷ আমরা পরস্পরকে খুব ভালো পড়তে পারি৷ একজনের ব্যাটিং দেখেই আরেকজন বুঝে যাই কী করা উচিত৷ এ ধরনের বোঝাপড়া বড় জুটি গড়তে সহায়তা করে৷ এই বোঝাপড়া আসলে সবার মধ্যেই থাকা উচিত৷
 ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ইনিংস এটি, কিন্তু সেরা ইনিংস কোনটি?
সাঙ্গাকারা: ভালো ইনিংস সব সময় রানসংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না৷ দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম সফরে সেঞ্চুরিয়নের ৯৮ রানের ইনিংসটি আমার মনে আলাদা জায়গা নিয়ে আছে৷ ওই ইনিংসটিই আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল যে আমি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারি৷ এর আগে নিজেকে নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না, কিন্তু ওই ইনিংসটাই নিজের সম্পর্কে ধারণা পাল্টে দেয়৷ আমার ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে ওই ইনিংসটিই৷