ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘তরুণদের ফুটবলে উদ্বুদ্ধ করতে এসেছি’

Rate this item
(0 votes)

জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে খেলেছেন। এলএ গ্যালাক্সিতে ডেভিড বেকহামের একসময়ের সতীর্থের আছে ৪৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নারী ফুটবলার লিন্ডা হ্যামিল্টনকে নিয়ে দেশটির সাবেক মিডফিল্ডার টনি সান্নেহ এখন বাংলাদেশে। এই সফর নিয়ে কথা হলো ৪২ বছর বয়সী ফুটবলারের সঙ্গে
 আপনাদের বাংলাদেশ সফরে আসার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী?
টনি সান্নেহ: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের

স্পোর্টস ইউনাইটেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসেছি আমরা। আমার সঙ্গে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রমীলা ফুটবলার লিন্ডা হ্যামিল্টন। সেও মহিলা বিশ্বকাপে খেলেছে।
 ঢাকায় আপনাদের এই কর্মসূচি কত দিনের? কারা এতে অংশ নিচ্ছে?
টনি: বাফুফের টার্ফে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে ভাগ হয়ে ৭৫ জন পুরুষ ও মহিলা ফুটবলার আগামী তিন দিন খেলবে। আমরা ওদের ফুটবলের বিভিন্ন টেকনিক ও ট্যাকটিক্যাল দিক শেখাব। মৌলবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ফুটবলকে কাজে লাগানো যায়, সেটা নিয়েও সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ সভার একটি কর্মশালায় যোগ দিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা বিনিময় তো আছেই, একই সঙ্গে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা যাতে খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়ে ফুটবলে সম্পৃক্ত হয়, সেসব নিয়েও ঢাকায় কাজ করব। এ ছাড়া বিকেএসপি ও জাগো ফাউন্ডেশনে গিয়ে ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার আশা রাখছি।
 এই ব্যস্ত সময় কতটা উপভোগ করছেন?
টনি: অনেক...অনেক। আমাদের তো খুবই ভালো লাগছে। আসলে তরুণদের ফুটবলে উদ্বুদ্ধ করতে এসেছি তো, সফরটা অন্য রকমই কাটছে। এই যে আজ বাফুফে আমাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করল, এটাও বেশ ভালো লেগেছে।
 অনেকের মনেই একটা কৌতূহল, বাংলাদেশ থেকে কোনো ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে আপনাদের?
টনি: যুক্তরাষ্ট্র সরকারই এটা ভালো বলতে পারবে। অবশ্য এর আগে এই কর্মসূচির আওতায় ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন তরুণ ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। এবারও তেমন খেলোয়াড় পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বৃত্তি দেওয়া যেতে পারে।
 ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদি সেই সময়ে ফিরে যেতে বলি...
টনি: তখন ২২ বছরের যুবক আমি। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখা শুরু আমার। ওই বছরই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম, যেভাবেই হোক জাতীয় দলের জার্সি একদিন গায়ে তুলতে হবে। ১৯৯৭ সালে জাতীয় দলে ডাক পেলেও ফ্রান্সে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি আমার।
 এরপর তো ২০০২ বিশ্বকাপে খেললেন...
টনি: হ্যাঁ। ২০০২ বিশ্বকাপ খেলেই বুঝতে পারি, বিশ্বকাপ আসলে কত বড় ব্যাপার। ওই বিশ্বকাপ আমার জন্য ছিল বিশেষ কিছু। এত বড় আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা মানে অনেক বড় গর্ব। পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই খেলেছিলাম। জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পর মাঠে ওয়ার্মআপ শুরু করলাম, সেটা ছিল খুব স্মরণীয় মুহূর্ত।
 আপনি ক্লাব ক্যারিয়ারে তো ডেভিড বেকহামের সঙ্গে খেলেছেন। সেই অভিজ্ঞতা শুনতে চাই...
টনি: ডেভিড বেকহামের সঙ্গে খেলেছি এলএ গ্যালাক্সিতে। দারুণ এক মানুষ বেকহাম। ক্লাব ক্যারিয়ারে হার্থা বার্লিনে খেলেছি সেবাস্তিয়ান ডেসলারের সঙ্গে। ও পরে জার্মান দলে ডাক পায়। আরেকজন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার কাকাউ, সেও জার্মান দলে খেলেছে। তখন আমি নুরেমবার্গে ছিলাম।
 আপনাকে দেখতে কিছুটা রুদ খুলিতের মতো। কিন্তু চুল ছোট করে ফেললেন কেন?
টনি: (হাসি)...চুল ছোট করেছি এমনিই। আগে চুল বড় ছিল। তবে চুল ছোট করলেও অনেকেই বলে, আমি নাকি দেখতে খুলিতের মতো। ম্যারাডোনা ও রুড খুলিতের খেলা দেখেই আসলে আমি বেড়ে উঠেছি। আমিও ওঁদের অনুসরণ করার চেষ্ট করেছি পুরো ক্যারিয়ারে। অবশ্য আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় ম্যারাডোনা।