ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘ভারত-পাকিস্তান সিরিজ চাই ঢাকায়’

Rate this item
(0 votes)

এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ঢাকায় এলেন। শুধুই শুভেচ্ছা সফর নয়, লিয়ান্দ্রো নেগ্রের এই সফর থেকে প্রাপ্তিও আছে বাংলাদেশের হকির। কাল মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে জাতীয় স্কুল হকির উদ্বোধন করে সেসব নিয়েই কথা বললেন বিশ্ব হকির শীর্ষ এই কর্মকর্তা
 দ্বিতীয়বার ঢাকা এলেন। এই সফরে কতটা লাভবান হবে বলে মনে করেন?
লিয়ান্দ্রো নেগ্রে: গত ফেব্রুয়ারিতে যখন এসেছিলাম, তখন কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল আমার। সেগুলো নিয়ে এবার কথা বলছি। অগ্রগতি দেখছি। সেদিক থেকে বাংলাদেশ লাভবান হবে

বলেই মনে করি।
 বাংলাদেশকে একটা টার্ফ এবং ফ্লাডলাইট দেওয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলেছিলেন আগেরবার। সে ব্যাপারে কত দূর কী হলো?
নেগ্রে: টার্ফ নিয়ে আজ সকালেও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন টার্ফ দেবে, বাংলাদেশকে স্থাপন ব্যয় ও আনুষঙ্গিক কিছু খরচ বহন করতে হবে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ঠিক করেছিল নতুন টার্ফ ঢাকার বাইরে কোথাও বসাবে। তবে আজ আমরা ঠিক করলাম, নতুন টার্ফ এই স্টেডিয়ামেই (মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম) বসানো হবে। নতুন টার্ফ উদ্বোধন করতে আবার ঢাকা আসার ইচ্ছে আছে আমার।
 নতুন এই সিদ্ধান্ত কেন?
নেগ্রে: মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের টার্ফটা পুরোনো হয়ে গেছে। এখানে বড় আয়োজন করতে হলে নতুন টার্ফ চাই। এই স্টেডিয়ামের টার্ফটা তুলে ঢাকার বাইরে কোথায় বসাবে ফেডারেশন।
 ফ্লাডলাইটের কী হলো?
নেগ্রে: নতুন টার্ফটা বসার পর ফ্লাডলাইট। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামের ভেতরে না বাইরে কোথায় কীভাবে ফ্লাডলাইট বসানো যায় বিশেষজ্ঞ দল এসে সেটি ঠিক করবে। আমেরিকান কোম্পানির ভালো মানের ফ্লাডলাইট এবং ভালো মানের টার্ফ দিতে চাই বাংলাদেশকে।
 নতুন টার্ফ, ফ্লাডলাইট বসলে এই স্টেডিয়ামে কি বড় কোনো আয়োজন করবে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন?
নেগ্রে: অবশ্যই। নতুন টার্ফ-ফ্লাডলাইট হলে অনেক কিছুই সম্ভব এই স্টেডিয়ামে। বিশেষ করে নতুন টার্ফ এখন বেশি জরুরি। সেই চাহিদা পূরণ হলে ভবিষ্যতে এই স্টেডিয়াম হতে পারে নিরপেক্ষ ভেন্যু। এখানে ভারত-পাকিস্তান সিরিজ আয়োজনের ইচ্ছে আছে আমার।
 সেটা হলে তো খুবই ভালো...
নেগ্রে: ভারতের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা রাজি। পাকিস্তানও মৌখিক সম্মতি জানিয়েছে।
 বাংলাদেশ আর কীভাবে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সহযোগিতা পেতে পারে?
নেগ্রে: বাংলাদেশ কী ধরনের সহযোগিতা চায়, সেটা আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনকে জানালে আমরা দেখব, কী করা যায়। এমনিতে কোচ-খেলার সরঞ্জাম দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন।
 এই যে জাতীয় পর্যায়ে স্কুল হকি টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশ, এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
নেগ্রে: খুব ভালো আয়োজন। আরও আগেই ফেডারেশনের এটা করা উচিত ছিল। গত বছর স্কুলের ছেলেদের দেখেছিলাম, এবার এসে আরও বেশি আগ্রহী কিশোর দেখলাম। সব দেখে আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের হকির বিপুল সম্ভাবনা আছে।
 বিশ্ব হকি এখনো পুরোপুরি পেশাদার হতে পারেনি। আপনি কী বলেন?
নেগ্রে: হকিকে এখন অপেশাদার খেলা বলা যাবে না। টেন স্পোর্টসসহ অন্য খেলার চ্যানেলগুলো দেখুন, হকি সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে। ভারত অনেক টুর্নামেন্ট করছে, যেগুলোতে অর্থ আছে অনেক। অন্য দেশেও হকিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। আগের চেয়ে বর্তমানে হকির অবস্থা ভালোই।
 শুনেছি আপনি একজন পাঁড় ফুটবলভক্ত। কিন্তু কাজ করেন হকি নিয়ে...
নেগ্রে: আমি নিজে ১৯৬৮ মেক্সিকো অলিম্পিকে খেলেছি স্পেন হকি দলের হয়ে। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সভাপতি পদে চার বছরের মেয়াদ শেষে এখন দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পার করছি। হকি নিয়েই আমার সংসার, তবে আমার শহর তো বার্সেলোনা, কাজেই বার্সেলোনার সব হোম ম্যাচই দেখি। বার্সাকে নিয়ে আমি পাগল। মেসি আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় (হাসি)...।