ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

‘এটা আমাদের জন্য সতর্কসংকেত’

Rate this item
(0 votes)

ইনিংস এবং ২৪৮ রানের হার। টেস্ট ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ। এমন হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে আত্মসমালোচনায় মুখর হলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে—
 মাত্র চার মাস আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো খেলার পর এই পরাজয়ে কতটা হতাশ?
মুশফিকুর রহিম: আসলেই খুব হতাশ। নিজেদের মাঠে গত এক বছর খুবই ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছিলাম আমরা। কিন্তু আমার মনে হয় না দলের সবাই এই টেস্টে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিল। চেষ্টা করা হয়েছে সেভাবে বলার, উজ্জীবিত করার। কিন্তু

দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঠে গিয়ে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছে। বোলিং-ফিল্ডিংও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ফিল্ডিংটা। মানুষ আউট হবেই, তবে আউট হওয়ার ধরনগুলো হতাশাজনক। এখানে ব্যাটসম্যান ভুল না করলে আউট করাটা কঠিন। আমাদের ব্যাটসম্যানরা এর চেয়ে অনেক ভালো ব্যাটিং করতে পারে। এর আগে তারা সেটা করেছেও। আসলে এই এক ম্যাচে আমাদের অনেক কিছুই ভুল হয়েছে। হাতে সময় খুব বেশি নেই। তিনটি দিন আছে। যত তাড়াতাড়ি শেখা যায়।
 মাঠের বাইরে বাংলাদেশের টেস্ট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল। সেগুলো কি কোনো চাপ তৈরি করেছিল?
মুশফিক: আগেও বলেছি, চাপ নেওয়ার কিছু নেই। আমার মনে হয় খেলাটাতে আমাদের প্রমাণ করারও কিছু ছিল না। নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধ ছিল। আমরা যে এত ভালো খেলছি, সেটা প্রমাণ করার ব্যাপার ছিল। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে এ রকম ভালো দলের সঙ্গে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা চ্যালেঞ্জটা নিতে পারিনি। সম্ভবত এটা আমাদের জন্য একটা সতর্কসংকেতই। অনেক জায়গা আছে, যেখানে উন্নতি করা দরকার।
 তামিম ইকবাল দুই ইনিংসেই বাজেভাবে আউট। এমন ব্যাটিংয়ের প্রভাব কি দলের ওপর পড়ে না?
মুশফিক: আমার মনে হয় পরিস্থিতিটা বোঝা উচিত। গতকাল (পরশু) আমাদের টিকে থাকা উচিত ছিল। ও (তামিম) যে জানত না তা নয়। আপনি যদি খেয়াল করেন, মাহেলাও কিন্তু ওভার দ্য টপ খেলছিল। আট ওভার ছিল। আমরা যদি আরেকটু সতর্ক হয়ে খেলতাম আজকের দিনটা ১০ উইকেট নিয়ে শুরু করা যেত। আরেকটু গভীরভাবে ভাবলে হয়তো সে (তামিম) জিনিসগুলো শুধরাতে পারবে।
 ‘বিগ থ্রি’র প্রস্তাব অনুমোদন হলে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন আপনারা। মানুষ আপনাদের হয়ে প্রতিবাদ করেছে। এখন কি মনে হচ্ছে তাদের প্রতি অবিচার করা হলো?
মুশফিক: ক্রিকেট সবাই ভালোবাসে, আমরাও ভালোবাসি, তাই খেলি। এমন না যে আমরা এখানে এসে যা খুশি তা-ই করছি। এমনও না যে মানুষ কী বলছে বা করছে সেটা আমরা জানি না। আমরা ক্রিকেট খেলি দেশের জন্য, তাদের জন্য।
 স্পোর্টিং উইকেট কি পেয়েছেন এই টেস্টে?
মুশফিক: স্পোর্টিং উইকেট অবশ্যই ছিল। আমরা আরেকটু ভালো খেললে ফলাফল অন্য রকম হয়ে যেত। প্রথম ইনিংস যদি দেড় দিনও ব্যাটিং করতে পারতাম তাহলে আজও (গতকাল) হয়তো তারা প্রথম ইনিংস ব্যাটিং করত। খেলাটা আমরাই কঠিন করে ফেলেছি। উইকেট যে রকম চেয়েছিলাম মোটামুটি সে রকমই পেয়েছি।
 আপনার হাত থেকেও অনেক ক্যাচ পড়েছে। এই বাজে সময়টা কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন?
মুশফিক: সর্বশেষ এ রকম কবে হয়েছিল ভুলেই গিয়েছিলাম। হয়তোবা প্রথমবার এ রকম হলো। খুবই খারাপ লাগছিল। কারও ক্যাচ ড্রপ হলে সে যখন আমার চোখের সামনে রান করে তখন মনে হয় নিজের কারণেই দলটা হেরে গেল। ওসব চিন্তা থেকেই হয়তোবা পরে আরও দুই-তিনটি মিস হয়ে গিয়েছিল। এটা পার্ট অব দ্য গেম। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছ থেকেই সেটা হয়ে গেছে। অধিনায়ক হয়ে যদি সামনে থেকে নেতৃত্ব না দিই, দলকে মানসিকভাবে চাঙা করা কঠিন হয়। চেষ্টা করব সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে।
 শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা শর্ট বল করে সফল হয়েছে। আপনার কি মনে হয় না শর্ট বল খেলার ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত ছিল ব্যাটসম্যানদের?
মুশফিক: এ রকম পর্যায়ে ও রকম বল হবে, সবাই জানে এটা। যাঁরা মাঠে গিয়ে খেলছেন সবার উচিত এটা মাথায় রাখা। আমাদের প্রয়োগে গাফিলতি ছিল।
 সর্বশেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো খেলেছিলেন। এই হার কি আবারও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ভয় ঢুকিয়ে দেবে না খেলোয়াড়দের মনে?
মুশফিক: যেভাবে এই টেস্টে পারফরম করেছি, সেখান থেকে ভালো কিছু করা কঠিনই। তবে আজ (গতকাল) যেটা হয়েছে গত চার দিনে এটাই সবচেয়ে বাজে। এর চেয়ে খারাপ ইনশাল্লাহ আর হবে না। দলের ওপর সে আস্থা আছে। এই ব্যাটিং নিয়ে ওদের বিপক্ষে আমাদের যেকোনো উইকেটেই ৬০০ বা ৬০০-এর বেশি রান করার সামর্থ্য আছে। আর যে উইকেটে উইকেট পাওয়া এত কঠিন, সেখানেও আউটের এতগুলো সুযোগ তৈরি করা মানে কি? সেদিক থেকে ভয়ের কিছু নেই। শুধু একটাই ব্যাপার। গত এক-দেড় বছরে যে ব্যাটিংটা ছিল, সেটা যেন করতে পারি।
 গত এক-দেড় বছরে নিজেদের মাঠে অনেক ভালো খেলার রেকর্ড আপনাদের। এই হার তাতে কতটা প্রভাব ফেলবে?
মুশফিক: অবশ্যই অনেক বড় প্রভাব ফেলবে। যত তাড়াতাড়ি পারি এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। সামনে অনেক খেলা। এই বছরটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। আশা করি, এই টেস্টের পর সবাই সেটা উপলব্ধি করবে।