ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

এশিয়ায় দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় স্তরে নেমে গেলো বাংলাদেশের ফুটবল

Rate this item
(0 votes)

এএফসি কাপে ব্রাত্য হয়ে গেল বাংলাদেশ ! যে দেশের লিগ চ্যাম্পিয়নরা আগে এএফসি কাপে খেলতো তাদের ভাগ্যে জুটেছে এবার প্রেসিডেন্টস কাপ। মানে এশিয়ান ফুটবলে বাংলাদেশের বি. লিগ চ্যাম্পিয়নরা খেলবে এএফসির সবচেয়ে লো-প্রোফাইলের ক্লাব টুর্নামেন্টটিতে !

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হচ্ছে এশিয়ার প্রথম সারির দেশগুলোর ক্লাব টুর্নামেন্ট। তারপর দ্বিতীয় সারির দলগুলোর জন্য হলো এএফসি কাপ, যেখানে আগে মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাদার্স খেলেছে। খেলে ভারত, হংকং, ওমান, জর্ডান, মালদ্বীপ, তুর্কমেনিস্তানের লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ঢাকা লিগ না হওয়ায় ২০০৬ সালের এএফসি কাপে খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশের কোনো দল। সেই থেকে যেন এএফসি কাপে দরজা বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তার জায়গায় খেলতে হচ্ছে তৃতীয় সারির ক্লাব টুর্নামেন্ট, যার নাম প্রেসিডেন্টস কাপ।

জাতীয় দলের হিসাবেও অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে এশিয়া কাপের পর দ্বিতীয় সারির দলগুলোর প্রতিযোগিতার নাম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ, এতদিন তাতেই খেলত বাংলাদেশ, কিন্তু এবার সরাসরি খেলার সুযোগ হারিয়েছে। ভারতে অনুষ্ঠেয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূল পর্বে খেলতে হলে বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব উতরোতে হবে। অথচ এতে সরাসরি খেলার সুযোগ পাচ্ছে ভারত, মায়ানমার, তুর্কমেনিস্তান ও উত্তর কোরিয়া।

কিছুদিন আগে বি. লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ

খেলার জন্য মনোনীত হয়েছে ঢাকা আবাহনী। গত বছর থেকে শুরু হওয়া এই ক্লাব টুর্নামেন্টে খেলেছে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান, খিরগিজস্তানের ক্লাবগুলো। হঠাৎ করে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশের পেশাদাল লিগ চ্যাম্পিয়নদের। যা দেখার পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নীরব। কেন তাদের এএফসি কাপ থেকে প্রেসিডেন্টস কাপে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এএফসির কাছে তার কারণও জানতে চায়নি বাফুফে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন মালুও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি, "আসলে আমাদের কাছেও বিষয়টা পরিস্কার নয়। এএফসি কোন অবস্থানে আমাদের রেখেছে তা জানি না। তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আমাদের।" আর বাফুফেও কিছু জানতে চায়নি, আসলে খেলার কথা ভুলে গিয়ে তো কর্তারা এখন ডিএফএ-বাফুফে নির্বাচন ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত।

বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলালও অবশ্য বাংলাদেশের অবস্থানের ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এই পদত্যাগী বাফুফে সম্পাদক এএফসির প্রেসিডেন্টস কাপ ও চ্যালেঞ্জ কাপের কমিটির সদস্য হলেও বলতে পারছেন না বাংলাদেশ এএফসির তৃতীয় ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে কিনা! তবে তিনি জানিয়েছেন, "এএফসিতে অবস্থানটা শুধু খেলার ওপর নির্ভর করে না। ফেডারেশনের কার্যক্রম, স্থানীয় লিগ, আবকাঠামো ইত্যাদি বিবেচনা করেই এএফসি দেশগুলোর ক্যাটাগরি ঠিক করে। যেমন তাজিকস্তানের ফুটবলারদের মান অনেক ভাল হওয়ার পরও অনিয়মিত ঘরোয়া ফুটবল ও নিম্নমানের অবকাঠামোর কারণে তারা তৃতীয় ক্যাটাগরিতে আছে।"

সেদিক থেকে চিন্তা করলে গত কয়েক বছরে দারুন সমস্যার মধ্য দিয়ে পার করেছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল। দু বছর ধরে জাতীয় ফুটবল লিগ হয় না, অনিয়মিত হয়ে পড়েছে ঢাকা সিনিয়র ডিভিশন লিগ। পেশাদার ফুটবল লিগ শুরু করলেও তার গুনগত মান নিয়ে আছে হাজারো প্রশ্ন। প্রশ্ন তোলা যায় বাফুফে কর্তাদের পেশাদারিত্ব নিয়েও। আর বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামোর প্রতীক ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম হলেও তাকে নিয়ে সংশয় আছে অনেক। তার ভেঙ্গে পড়া প্রেসবক্স পুরো ঝুঁকির প্রশ্নে এই স্টেডিয়ামের পাশে বসিয়ে দিয়েছে এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। এই আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মানোন্নয়নের জন্য ফিফা অনেক পরামর্শ দিলেও এখনো তা করা হয়নি। তাহলে এসবও বাংলাদেশকে এএফসির তৃতীয় ক্যাটাগরিতে অবনমনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তাতে কী বাফুফের কিছু যায় আসে ? এই অবনমন সম্মানে আঘাত দিলে নিশ্চয় খতিয়ে দেখার তাগিদ অনুভব করতেন বাফুফে কর্তারা।