ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

অতৃপ্তি ঘুচিয়ে শিরোপা সিংহদের

Rate this item
(0 votes)

রবিচন্দ্র আশ্বিনের করা ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলটি  বোলারের মাথার উপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করেই গর্জে উঠলেন থিসারা পেরেরা। লংকান ডাগ আউট থেকে সবাই ছুটে গেল কুমারা সাঙ্গাকারার কাছে, কাঁধে তুলে নিল তাকে। ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন কুমারা সাঙ্গাকারার । ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বিশ্বকাপ এনে দিলেন শ্রীলংকাকে। সব অতৃপ্তিই ঘুচে গেল। এর আগে দুইবার ফাইনালে গিয়ে শিরোপা স্পর্শ করতে পারেনি জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারারা। মিরপুরে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ফাইনালে ভারতকে ছয় উইকেটে হারিয়ে  প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুললো লংকান সিংহরা।

১৩০ রান টপকানো শ্রীলংকার জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। কিন্তু  সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে  পাঁচ রানে কুশল পেরেরার  উইকেট হারায়  লংকানরা।  তখনি যেন গত আসরের ব্যর্থতার কথাই মনে হচ্ছিল। নিজেদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছিল লংকানরা। তিন নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে জীবনের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের নায়ক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। দিলশান এবং মাহেলা ৩৬ রানের জুটি গড়ে সহজ জয়ের পথে হাঁটছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। ৪১ রানের মাথায় দিলশান আউট হলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলংকা। এরপর ৬৫ রানের মাথায় ২৪ রান করে সুরেস রায়নার বলে আউট হলে অস্বস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে লংকান ডাগ আউটে। ৭৮ রানের মাথায় অমিত মিশ্র থিরামান্নির উইকেট তুলে নিলে খেলায় ফিরে আসে ভারত।

শেষ ছয় ওভারে  লংকানদের প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। কিন্তু কুমারা সাঙ্গাকারা এবং থিসারা পেরেরার আক্রমনাত্মক ব্যাটিংয়ে সহজেই লক্ষ্য পৌঁছে যায় লংকানরা। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩২ বলে ৫৬ রান সংগ্রহ করে এই দুই ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে বল করলেন লংকান স্পিনার সচিত্র সেনানায়েকে, সেই ওভারে দিলেন চার। কিন্তু কে জানত ইনিংসের শেষ ওভারে কোনো বাউন্ডারির দেখা পাবেন না ভিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং এবং মাহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ব্যাটসম্যানেরা! অবাক লাগছে? সেনানায়েকে নুয়ান কুলাসেকারা, মালিঙ্গা মিলে শেষ চার ওভারে ১৯ রান দিলে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় চার উইকেটে ১৩০ রান।

টসে  জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন লংকান অধিনায়ক লাসিথ মালিঙ্গা। শুরু থেকেই লংকান বোলারদের দাপট। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আজিঙ্কা রাহানাকে বোল্ড করে সাফল্য এনে দেন এ্যাঞ্জেলা ম্যাথুজ। এরপর অবশ্য ভিরাট কোহলি একাই ঘোরালেন ভারতের রানের চাকা। ৫৮ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে একাই শাসন করলেন লংকান বোলারদের। ভারতের কম রানের পেছেন যুবরাজ সিংয়েরও অবদান রয়েছে।  যুবরাজের ২১ বলে ১১ রানের ইনিংসটিই রানের গতি কমিয়ে দেয় ধোনির দলের।

ট্রফি,  মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং কুমারা সাঙ্গাকারাকে কাঁধে নিয়েই ল্যাপ অর্নার দিল শ্রীলংকা দল। তখন আতশবাজির আলোকচ্ছটার বলয় তাদের ঘিরে ধরেছিল। দুই গ্রেট  ক্রিকেটারের বিদায় এর চেয়ে ভালোভাবে হতে পারত কি? ড্যারেন সামি ঠিকই বলেছিলেন, মাহেলা এবং সাঙ্গাকারার বিদায় হবে স্মরণীয়, এটাই হয়তো ঈশ্বরের চাওয়া। আমুদে স্যামি বোধহয় আগেই টের পেয়েছিলেন। এখন তা টের পাচ্ছেন ক্যাপ্টেন কুল ধোনি।

 

 

 

Last modified on Monday, 07 April 2014 13:49