ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Friday, 03 October 2014 14:32

আরাফাত আজ লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর হবে Featured

Rate this item
(0 votes)

আজ শুক্রবার পবিত্র হজ। মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন। আরাফাতের উদ্দেশে যাত্রা করার আগে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত কসর নামাজ আদায় করবেন। এর পর তারা আরাফাতের ময়দানে যাবেন। মূলত আরাফাতে সমবেত হওয়াই হজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজ করতে আসা প্রায় ২০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখরিত হয়ে উঠবে আরাফাত ময়দান।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিনা অভিমুখে করেন হজযাত্রীরা। এহরাম বেঁধে ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক’  ধ্বনিতে মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা দেন তারা। এর মধ্য দিয়েই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

শুক্রবার আরাফাতের ময়দানে হজযাত্রীরা হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জুম’আ ও আসরের (জুহরাইন) নামাজ আদায় করবেন। সন্ধ্যায় (সূর্যাস্তের পর) তারা মুজদালিফার উদ্দেশে আরাফাত ত্যাগ করবেন।

 

সেখানে তারা এক সঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন এবং শয়তানের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে হাজিরা রাতযাপন করবেন পরদিন ১০ জিলহজ (শনিবার) সকালে সূর্য উদয়ের পর জামারায় শয়তানের ওপর পাথর নিক্ষেপের জন্য হাজিরা রওনা দেবেন।

 

১০ জিলহজ তৃতীয় ওয়াজিব কোরবানি: পাথর নিক্ষেপের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় হাজিরা পশু কোরবানি করবেন। এর পর মাথা (পুরুষরা) মুণ্ডন করবেন।

 

১০ জিলহজ সুবহে সাদিকের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের ভেতরে কোরবানি করতে হবে। সুন্নত সময় শুরু হয় ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর।

 

কোরবানির স্থান: কোরবানি হেরেমের সীমানার মধ্যে করা জরুরি। হেরেমের বাইরে জবাই করলে তা দ্বারা হজের কোরবানি আদায় হবে না। হেরেমের সীমানার যে কোনো স্থানে করলেই কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। এমনকি মিনাতে করাও জরুরি নয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোরবানি করা জায়েজ। এতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিংবা আস্থাভাজন কোনো ব্যক্তির সাহায্যে কোরবানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কোরাবানির পর হলক করে ইহরাম ছাড়বে হাজিরা ।

 

তাওয়াফে ইফাদা (কাবাঘর তাওয়াফ) এবং সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর শেষ করে হাজিরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন।

 

১১ ও ১২ জিলহজ  মিনায় অবস্থান করে সূর্য হেলে পড়ার পর প্রতিদিন ছোট, মধ্য ও বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। পরে মক্কায় অবস্থান করে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন ।

 

উল্লেখ্য, যে ব্যক্তির এমন পরিমাণ ধন-সম্পদ আছে যে, তিনি হজের সফর (পথখরচ) বহন করতে সক্ষম এবং তার অনুপস্থিতিকালীন সময়ে তার পরিবারবর্গের প্রয়োজন মেটানোর মতো খরচও রেখে যেতে সক্ষম, এমন ব্যক্তির ওপর হজ করা ফরজ। অথবা এমন ব্যক্তি তিনি হজের মৌসুমে অর্থাৎ শাওয়াল মাস শুরু হওয়া থেকে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছিলেন বা জিলহজ মাস পর্যস্ত সৌদি আরবে অবস্থান করতে থাকেন এবং তার ওপর যদি কোনো বিধিনিষেধ, ওজর ও অসুবিধা না থাকে, তাহলে তারও হজ পালন করা ফরজ।