ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

Monday, 15 September 2014 17:33

ভেঙ্গে পড়েছে জাবির সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ঐতিহ্য

Rate this item
(0 votes)

ভেঙ্গে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক। আগের মতো আর জুনিয়ররা সিনিয়রদের সম্মান দেখায় না। ঘটছে হামলার ঘটনাও।

দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে  শিক্ষার্থীরা বর্ষ  (সেশন) হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিতি লাভ করলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচিতি লাভ করে ব্যাচ হিসেবে।

যার দরুন ২০ ব্যাচের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও ৩৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। দেশের যে প্রান্তেই যাক জাবির কাউকে খুঁজে পেলে তাইতো তাদের আড্ডার শেষ নেই। যেন পরিবারের কাউকে কাছে পাওয়ার আনন্দ।

 

কিন্তু ৪১ ব্যাচ ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক দিন দিন ভেঙ্গে যাচ্ছে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একজন জুনিয়র-সিনিয়রকে লাঞ্চিত করে। মাঝে মাঝে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সিনিয়রের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। আগের সময়গুলিতে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা তাদের বিরোধী পক্ষের সিনিয়রদের হামলা করলেও এখন আর সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের হামলা থেকে রেহাই পায় না।

 

জাবির সংস্কৃতিতে সাধারণ শিক্ষার্থী, রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ভেঙ্গে পড়েছে সে সম্পর্কের বন্ধন। যার উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনায়।

 

গত রোববার সন্ধ্যায় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের (৪৩ তম ব্যাচ ) এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগ দেয় একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৪২ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী কাউছার আহমেদ অভি। এ ঘটনায় তৃতীয় বর্ষের (৪১তম ব্যাচ) প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম কৈফিয়ত চাইলে অভির (জুনিয়র) নেতৃত্বে রাকিব, আবিদসহ ১০/১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী তাকে রড, লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।

 

এর আগেও র‌্যাগ দেওয়ার অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বিদ্যুৎ (৪৩ ব্যাচ) নামের এক ছাত্র রিয়াদ (৪২ ব্যাচ) নামের আল বেরুনী হলের (সম্প্রসারিত) সিনিয়রকে পেটায়।

 

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ শুভ শীর্ষ নিউজকে বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক আগের মতো না থাকার প্রধান কারণ নবীন বা জুনিয়ররা সিনিয়রদের সঙ্গে আগের মতো আড্ডা না দিয়ে তারা আত্মকেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছে। আড্ডার চেয়ে এখন রুমে বসেই তারা ফেসবুক ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ মদদে এমনটি ঘটে দাবি করে তিনি বলেন, বেশিরভাগ হলের এক-দুই ব্যাচ সিনিয়ররা হলে জুনিয়রদের বেয়াদব হওয়ার ট্রেনিং দেয়।