ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

দুদণ্ড শান্তির খোঁজে

Rate this item
(0 votes)

পচুর হোটেল। নাটোরের একটি সুপরিচিত এলাকা। প্রাথমিক গন্তব্য সেখানে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর গেলাম নাটোর। বাসের সুপারভাইজার ভোর পাঁচটার দিকে জাগিয়ে দিলেন। মামা পচুর এসে গেছে। নামবেন না? চোখ কচলাতে কচলাতে বাস থেকে নেমে পড়লাম। ধারণা হলো, নিশ্চয়ই আশপাশে দৃষ্টিনন্দন কোনো হোটেলের দেখা মিলবে। কিন্তু পচুর হোটেল দেখে হতভম্বই হলাম। চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া অতি সাধারণ এক হোটেল। খানিক পরেই পচুর হোটেলের রহস্য টের পেলাম আমার অপেক্ষায় থাকা কুদরত আলীর কাছে। এই খ্যাতি অর্জন করার পেছনে রয়েছে পচুর হোটেলের খাবারের স্বাদ ও বৈচিত্র্য। খানিকটা বিশ্রাম

নিতে বালিশে মাথা রাখতেই সাড়ে ১০টা বেজে গেল। বেলা ১১টায় যাত্রা করলম দিগাপাতিয়া জমিদার বাড়ির উদ্দেশে, মোটরসাইকেলে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। পাহাড়পুরের ছেলে মোস্তাফিজ নাটোরের মৎস্য সম্পদ নিয়ে গবেষণা করছেন। শহরের অলিগলি বেশ জানশোনা আছে তাঁর। পচুর হোটেল এলাকা থেকে দিগাপাতিয়া রাজবাড়িতে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট সময় লাগল। মুগ্ধতা এনে দিল দিগাপতিয়া জমিদার বাড়ির দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার। অসাধারণ নির্মাণশৈলী আর পাথরের কারুকাজ করা প্রবেশদ্বারটি দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষের সাক্ষী হয়ে।

মাঝখানের জায়গায় বসানো আছে শতবর্ষের পুরোনো দেয়ালঘড়ি, যা আজও টিক টিক করে ঠিক ঠিক সময় দেখাচ্ছে। ভেতরে ঢুকতেই বিশাল এক ব্রাউনিয়া ফুলের গাছ কুর্নিশ করে বলবে জাহাঁপনার আগমন শুভ হোক। ভেতরের প্রসাদটির দিকে তাকালে দেখা যাবে দেয়ালের পরতে পরতে রানী ভবানীর আভিজাত্য। রানী ভবানী ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশের একজন জমিদার। বর্তমানে এই প্রাসাদটির নাম উত্তরা গণভবন। উত্তরা গণভবনে ঢোকার টিকিটের দাম ১০ টাকা।

পরবর্তী যাত্রা নাটোর রাজবাড়ী। শহরের মধ্যেই এই রাজবাড়ী। সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজা রামজীবন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই দুর্গ নির্মাণ করেন। একাধিক বিয়ে করায় প্রত্যেক রানীর জন্য আলাদা প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন রামজীবন। রাজবাড়ীতে প্রবেশ করতে কোনো ফি নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য এটি খোলা থাকে। তবে এই রাজবাড়ীর সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো কফি হাউস। দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে কফি খেতে আসে। রাজবাড়ীতে কফির স্বাদ নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কাঁচাগোল্লার খোঁজে। বেশি দূর যেতে হলো না। ১০ মিনিট হাঁটতেই মিলে গেল জয়কালী মিষ্টান্নভান্ডার। কাঁচাগোল্লার বেশ বড়সড় দোকান। গরম গরম কাঁচাগোল্লা। তারপর আর কিছু বলার নেই। শুধু খাওয়া আর খাওয়া...।
এ ছাড়া নাটোর জেলায় আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল, চলনবিল। বর্ষার মৌসুমে দিগন্তজুড়ে চলনবিলের সৌন্দর্য যে কারও চোখ ধাঁধিয়ে দেবে।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:20