ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

হলুদ রঙে মাঠ সেজেছে

Rate this item
(0 votes)

ফেসবুকে কার যেন ছবিতে দেখি হলুদ সরষের খেত। ব্যস মনে হলো, নিজেও দেখে আসি না। প্রথমে নরসিংদী যাব ভেবেও পরে চলে গেলাম ঢাকার কাছের সিরাজদিখান। ওদিকটায় শীত এবার খুব বেশি। শুধু কি শীত, সঙ্গে কুয়াশাও। সকাল গিয়ে দুপুর, তারপর সন্ধ্যা নামে কিন্তু কুয়াশার চাদর সরে সূর্যের দেখা মেলে না। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। আমাদের নগর কুয়াশায় ঢাকা হলেও কাছের মানুষটাকে ঠিকই দেখা যায়। কিন্তু বাবুবাজারের কাছের বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পার হয়ে মাওয়া রোডে পৌঁছতেই এমন অবস্থা যে কুয়াশার জন্য এক হাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমরা

ধলেশ্বরী নদীর বুকের জোড়া সেতুর শেষেরটায় গিয়ে যাত্রাবিরতি টানি।নদীতে পানি কম আর তার ডানে-বামে পুরো এলাকাজুড়ে সরষেখেত। প্রায় আধ ঘণ্টা এখানে ধলেশ্বরী সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে সূর্যের অপেক্ষা করে ফের যাত্রা শুরু করি।
শৈত্যপ্রবাহ যেন গায়ে হিম ধরিয়েছে। শীতের সে তীব্রতা গায়ে নিয়ে আমরা এবার সিরাজদিখানের পথ ধরি। এখানে একপাশে ইছামতী নদী, আর অন্য পাশে দিগন্তজোড়া হলুদ মাঠ। যতই সামনে এগোচ্ছি সরষে ফুলের সুবাসে আমোদিত হচ্ছি। এভাবেই আমরা বেজের হাট, বাসাইল হয়ে চলে আসি সিরাজদিখান। এখানে চা-বিরতি। পরে নৌকায় চেপে টেকের হাঁট পৌঁছতেই আমাদের এক ঘণ্টা লাগে। দুপুর ঘনিয়েছে তবু সূর্যের দেখা নেই। আমরা টেকেরহাট লালনশাহ বটতলায় বসে চা পান করে ওপারের সরষেখেতে নেমে পড়ি। এ সময়ই দেখা দিল সূর্য। আর শুরু হয়ে গেল ক্যামেরার ক্লিক
সরষে ফুলের সুবাসে কী এক আশ্চর্য মাদকতা। সে মাদকতার টানেই মৌমাছিদের ভিড়। আর বক পাখিদের আনাগোনা। সূর্য আড়াল হয়ে প্রকৃতিতে আবার কুয়াশা ভর করতেই মোহ ভাঙে। নৌকায় চড়ে ফেরার পথ ধরি। দেখি ঝাঁকে ঝাঁকে পানকৌড়ি পাখনা মেলে কুয়াশার আঁধারে বৃথাই রোদ পোহাবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার সঙ্গীরাও ঠান্ডায় কাহিল প্রায়। ক্যামেরা আড়াল হয়েছে, থেমে গেছে আনন্দ-উল্লাস। উদাস চিল গন্তব্যে ফিরে চলেছে। ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাওয়া আমাদেরও ঘরে ফেরার তাড়া। এবার সঙ্গীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলাম একটু উষ্ণতার জন্য!
জেনে নিন
এখনই সরষে দেখার মোক্ষম সময়। পুরো সরষেখেত যেন হলুদ দুনিয়া। সরষের নাচন দেখতে চাইলে যেতে পারেন ঢাকার কাছের সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা, ডেমরা হয়ে নরসিংদী। আর পুরো মাওয়া রোডজুড়েই পাবেন হলুদ সরষে ফুল। যেতে পারেন বেজেরহাটি বাসাইল হয়ে সিরাজদিখান টেকেরহাট আর ইছাপুর। আর যেতে পারেন কায়কোবাদ সেতু হয়ে নবাবগঞ্জ-দোহার।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:20