ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

টম ইয়াম থেকে হারবাল এগ

Rate this item
(0 votes)

গোল্ড চয়েস রেস্তোরাঁয় গিয়ে টম ইয়াম স্যুপের অর্ডার দেওয়া হলো। সঙ্গে মালয়েশিয়ার অতি জনপ্রিয় ‘নাসি লেমাক’। ২০ মিনিট পরে জানানো হলো টম ইয়াম হবে না, প্রন স্যুপ খেতে পারেন। মনটা একটু দমেই গেলে। প্রন স্যুপ আসার পরে সেটা দেখে চোখ রীতিমতো চকচকে হয়ে উঠল। গরম আর ঝাল। দু-তিনটা চিংড়ি সরাতেই দেখা গেল বাটির নিচে নুডলস। আমাদের দলের আরেকজনও প্রন স্যুপ নিয়েছিলেন, তাঁর নুডলস আবার অন্য রঙের। এ রেস্তোরাঁর এটাই বৈশিষ্ট্য। ছয় রঙের নুডলস দিয়ে খাবার তৈরি করে মালয়েশিয়ার দ্বীপরাজ্য পেনাংয়ের জর্জ টাউনের গোল্ড চয়েস।৩০ ডিসেম্বর সকালে পেনাং পৌঁছে প্রথম

খাবারের স্বাদ নেওয়া হয়েছিল প্রবাসী তামিলদের দোকানে, দক্ষিণ ভারতীয় খাবার দিয়ে। খাওয়া হয়েছিল সামুদ্রিক মাছের এক পদ। দুদিনের ভ্রমণে চলল খাবার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
পেনাং খাবারদাবারের জন্য বিশেষ পরিচিত। পর্যটকদের জন্য মসলাপাতির বাজার, খাবার তৈরির জায়গাকেও দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সাগরতীরের জর্জ টাউনে মাছের নানা ঘরানার খাবারে সত্যিকারের বৈচিত্র্যই ধরা পরে। রেড গার্ডেন নামে এখানে আছে একটি ফুড কোর্ট। দু-আড়াই শ লোকের বসার ব্যবস্থা। মাঝখানে মঞ্চ। সেখানে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় গানবাজনা। রাশি রাশি সাজানো টেবিলে বসে চলে খানাপিনা। চারদিকে ১৫-১৬টার মতো রেস্তোরাঁ। চীনা, জাপানি, কোরীয়, ইংলিশ, থাই, ইন্দোনেশীয়, ভারতীয়—একেক দোকান একেক ধরনের। বাংলাদেশি রহিমের একটা দোকানও মিলল। বিরিয়ানি, পোলাও, কাবাবের নানা পদ নিয়ে বসেছেন অল্প বয়সী এ বাংলাদেশি। রেড গার্ডেনে ওয়েটার, কুক নানা পদে কাজ করছেন বাংলাদেশিরা। এখানেই খাওয়া হলো কলপাতায় মোড়ানো স্টিং রে, স্যালমন, ম্যাকারেল মাছের পোড়ানো খাবার। পরদিন জর্জ টাউনের এক বাজারে পাওয়া গেল চিনির সিরায় ভেজানো আম, পেঁপে, আমড়া, কিউই নানা ফল।
 জানুয়ারি কুয়ালালামপুর। শহরের একটু বাইরে ওয়াসাং মাতুতে শেখ মামুনদের বাসায় অস্থায়ী ঘাঁটি। ওয়াংসা মাজুতে রাস্তার দুই পাশে নানা কিসিমের রেস্তোরাঁ প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে। মামুন বলল, রাস্তার পাশের এ দোকানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত খাওয়াদাওয়া চলে। প্রচুর মানুষ খান আর ফুটবল খেলা দেখেন। একটা দোকানে অর্ডার দেওয়া হলো টম ইয়ামের। ‘মিক্সড টম ইয়াম’ মানে গরু, মুরগি, চিংড়ি, স্কুইডের সঙ্গে রাজ্যের লতাপাতা মেশানো গরম এক স্যুপ। এক বাটি খেয়ে আরেক বাটিও নিয়ে নিলাম। মনে হলো ঠান্ডা লাগলে এ স্যুপ রীতিমতো ওষুধের মতোই কাজ করে।
কুয়ালালামপুরের চায়না টাউনেও খাবারের আয়োজন দেখার মতো। রাস্তার ধারেই ছোট ছোট দোকান আর সুস্বাদু সব খাবার। শিকে ঢোকানো আছে চিংড়ি, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ, গরুর মাংস; এমনকি সবজিও। কাঁচা খাবার নিয়ে থালায় তুলে দিলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে বানিয়ে দেবে কাবাব।
ডিমের এক পদ দিয়ে শেষ করি। এটা দেখা গেল ছয় হাজার ফুট উচ্চতার গেনটিং হাইল্যান্ডে। দেখে বেশি নিরীক্ষাধর্মী মনে হওয়ায় খাওয়া আর হলো না। এই খাবারের নাম ‘হারবাল এগ’। গরম পানিতে প্রথমে ডিম আধা সেদ্ধর মতো করা হয়।এরপর চা পাতা, সস বা ঝালমসলা ও একটু লবণ মেশানো গরম পানিতে আবার সেদ্ধ করা হয়।একে মার্বেল এগও বলে।ছবি তোলা হলো হারবাল এগের। জেনেশুনে পরে কখনো সুযোগ হলে খেয়ে দেখা যাবে।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:21