ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

জাপানি পরিবারে দুই রাত

Rate this item
(0 votes)

জাপানে যাব, মনের মধ্যে কত জল্পনাকল্পনা। ছোটবেলা থেকে বইয়ে পড়ে এসেছি সূর্যোদয়ের দেশ। পরবর্তীতে জাপান বিষয় নিয়েও পড়েছি মাস্টার্সে। অবশেষে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আমি পৌঁছালাম জাপান। বাংলাদেশের আমিসহ ৩০ জনের একটি দল জেনেসিস টু নামের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুবাদে এই সুযোগ পাই। আমি ও আমার দলের নীলার থাকার জন্য বেছে দেওয়া হলো জাপানের কোমাৎসু শহরের জাপানি ইনুজুকা দম্পতিকে। তাঁদের বাড়িতে দুই রাত থাকব আমরা।ইনুজুকা দম্পতির বাড়িতে পৌঁছানোমাত্রই বাড়ির কর্ত্রী হিতোমি ইনুজুকা আমাদের নিয়ে গেলেন দোতলায় দুরাতের জন্য আমাদের অস্থায়ী

রুমটিতে। নেই প্রয়োজনের বাইরে কোনো আসবাবপত্র, বেশ ছিমছাম। একটু পরই ডাক এল খাবারের। মাটিতে বসে খাওয়ার যে প্রচলনের কথা শুনেছিলাম এ বাড়িতে তা নেই। আছে আধুনিক চেয়ার-টেবিল। ওডেন, আমায়ে, টেমপুরা, টোফু, সালাদ, মিসো স্যুপ, সুসি, আঠালো ভাত, জুস, কয়েক রকমের ফল দিয়ে ভরপুর খাবারের টেবিল। চপস্টিকের পাশাপশি আমাদের জন্য ছিল চামচের ব্যবস্থা। রাতের রান্না হিতোমি ইনুজুকা করলেও, তাঁকে সব কাজে সাহায্য করেন স্বামী সোতোইউনি ইনুজুকা।
এরই মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ফুতোন (ঐতিহ্যবাহী বিছানা) বিছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন হিতোমি। কাঠের মেঝেতে থাকা পাটির ওপরে তুলা ও উলের তৈরি ভারী চাদর আর কম্বলের কয়েক স্তর থাকে ফুতোনে। সবার ওপরে গায়ে দেওয়ার কম্বল। আর সঙ্গে বিভিন্ন দানা দিয়ে তৈরি বালিশ। ফুতোনে ঘুমের অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ!
এখানকার বাড়ির ছাদ অনেকটা নিচু। বছরের বেশির ভাগ সময় প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকায় এ ব্যবস্থা। সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম এদের বাথরুম দেখে, আছে বেশ কিছু বই, ফুলদানি, ছোট কিছু খেলনা। সময়ের সদ্ব্যবহারের জন্যই এ ব্যবস্থা।
এ বাড়ির বড় একটা অংশ বরাদ্দ ময়লা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখার জন্য। কারণ নির্ধারিত দিনের আগে তা ফেলা যাবে না।
বেলা ১১টার দিকে হিতোমির সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম টুকটাক কেনাকাটার জন্য। সেখান থেকে রেস্তোরাঁ। ততক্ষণে সুসি নামের খাবারটি আমাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বাড়ি ফিরে সবাই মিলে শুরু হলো আড্ডা। হিতোমির পারিবারিক অ্যালবাম থেকে একে একে দেখলাম তাঁদের পারিবারিক ছবি। ইনুজুকা দম্পতির ছোট ছেলে থাকেন তাঁদের সঙ্গে। ছেলের বউয়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুর মতোই। আর নাতি-নাতনির সঙ্গে দাদা-দাদির খুনসুটি লেগেই আছে। অনেকটা আমাদের দেশের মতোই।
হিতোমি যে বহু গুণের অধিকারী তাতে কোনো সন্দেহ নেই, নিজের তৈরি ব্যাগ দেখালেন, বাজিয়ে শোনালেন পিয়ানো।
পরদিন খুব সকালে চলে গেলাম সমুদ্রসৈকতে। সৈকতে কিছু ছবি তুলে ফেরার পথে ইনুজুকা দম্পতি আমাদের দুজনের হাতে তুলে দিলেন উপহার। দুপুর নাগাদ পৌঁছে গেলাম কোমাৎসু গ্র্যান্ড হোটেলে। সেখানে চলল বিদায়ী অনুষ্ঠান। খাওয়া-দাওয়া শেষেই শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অভিজ্ঞতার ঝুলি আরেকটু ভারী করে বিদায় নিলাম আমরা। বিদায়বেলা হিতোমি ইনুজুকা একে একে জড়িয়ে ধরলেন নীলা আর আমাকে।