ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

জলের স্বর্গ গ্রেট ফলস

Rate this item
(0 votes)

যুক্তরাষ্ট্রে তখন গ্রীষ্ম উৎসব শুরু হয়েছে। চারপাশ ঘন সবুজে মোড়ানো। বিচিত্র বুনো ফুলও ফুটেছে। বাসে করে নিউইয়র্কের চায়না টাউন থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার সময় পথের ধারের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে। পাঁচ ঘণ্টা পর পৌঁছে গেলাম ওয়াশিংটন ডিসি।ওয়াশিংটনের আবহাওয়া বেশ চমৎকার। গরমের মাত্রাটাও মোটামুটি সহনীয়। প্রবাসী মাসুদ গাড়ি নিয়ে উপস্থিত। আমরা যাব ভার্জিনিয়ার উডব্রিজ এলাকায়। সেখানে মাসুদের বাসা। চারপাশে অত্যাধুনিক দালানকোঠা যেমন আছে, তেমনি আছে নয়নাভিরাম লেক, নদী, জনপদ, বিরানভূমি আর মাঝারি গোছের জঙ্গল। সবচেয়ে পুলকিত হয়েছি বিখ্যাত পটোম্যাক

নদী দেখে। এ নদীর কথা কত যে শুনেছি! এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫২ কিলোমিটার।ভার্জিনিয়া প্রাকৃতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। যেদিকেই গিয়েছি, বন-বাদাড়ে ভরা। চারপাশ বাহারি ফুল আর লতাগুল্মে ভরা। এখানে দেখলাম ম্যাগনোলিয়ার রকমফের আর সুগন্ধি হানিস্যাকল। আছে বর্ণিল অ্যাজালিয়াও। ছোটখাটো টিলা, গড়ানো রাস্তা আর সবুজের সমারোহ ভার্জিনিয়াকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। একদিন আমরা গেলাম গ্রেট ফলসে। যাওয়ার পথেই সিনানদহ নদী ও চার্লস শহরটা দেখা হয়ে গেল। এখানকার প্রকৃতি যতটা শৈল্পিক, তার চেয়েও বেশি সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। শহর ছাড়িয়ে খানিকটা দূরেই কিছু খামারবাড়ির দেখা মেলে। অবশ্য অনুমতি ছাড়া এসব বাড়িতে ঢোকা নিষেধ।গ্রেট ফলস পার্ক এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় দুপুর। জায়গাটির অবস্থান ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফেক্স কাউন্টিতে। টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি আমরা। কোনো ভিড় নেই। ফলে শব্দদূষণও নেই। কান পাতলে শোনা যায় শুধু জল গড়ানোর শব্দ। গাড়ি রাখার জায়গা থেকে কয়েক পা এগোলেই গ্রেট ফলস। যেখানে দাঁড়ালে জুতমতো জল গড়ানোর দৃশ্যটা দেখা যাবে, এমন কয়েকটি স্থানে ঝুলবারান্দার মতো করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সেখানে দাঁড়িয়েই গোটা জলপ্রপাতের দৃশ্য দেখে। পাড় ধরে খানিকটা এগোনোর পরই সঙ্গী মেহেদী একটি স্মারক দণ্ড দেখাল। তাতে কোন সালে জলপ্রপাতের জল কতটা উঁচুতে উঠেছে তার মাপজোখ লিপিবদ্ধ আছে। দণ্ডটির নাম ‘হাই ওয়াটার মার্কস’। ১৯৩৬ এবং ১৯৪২ সালে সবচেয়ে বেশি পানি উঠেছিল এখানে।

আমরা অনেকটা সামনে গিয়ে একটা ঝুলবারান্দায় দাঁড়াই। মাথার ওপরে ঝকঝকে নীলাকাশ। চারপাশে ছড়ানো সোনা রোদ। অনেক ওপর থেকে সফেদ জলরাশি সমান্তরালভাবে ভেসে এসে লাফিয়ে পড়ছে অনেক নিচে। তারপর পাথুরে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আরও নিচে গড়িয়ে পড়ছে। এভাবেই একটি গভীর জলধারা ছুটে চলছে বন-প্রান্তর, লোকালয় ছাড়িয়ে আরও অনেক দূরে। আর এখান থেকেই বিখ্যাত পটোম্যাক নদীর জন্ম। মার্কিন মুলুক ভ্রমণে এ নদীই ছিল আমার পুরোটা জুড়ে।

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:19