ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আনন্দের নৌকা ভ্রমণ

Rate this item
(0 votes)

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। শুধু শিক্ষা ও গবেষণা নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির খ্যাতি 'প্রকৃতি কন্যা' বলে। গাছগাছালিতে ভরা সবুজ ছায়া সুনিবিড় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন এক নিভৃত পল্লী যা পুরোপুরি মিলে যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতার বর্ণনার সঙ্গে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পাশ দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি, বৈশাখী চত্বর, মেয়েদের তিনটি হল, উপাচার্যের বাসভবন ও বোটানিক্যাল

গার্ডেন ঘেঁষে বয়ে গেছে নদটি। নদটির নয়নাভিরাম ধ্রুপদী রূপ সবাইকে আকৃষ্ট করে। নদটির পাশ দিয়ে তৈরি হয়েছে ইটের রাস্তা। রাস্তার দু'ধারে লাগানো নানা ধরনের গাছ। তবে এ রাস্তার পাশে লক্ষ্য করার মতো একটি বিষয় হলো বিশাল লম্বা দুটি তাল গাছ। তাল গাছ দুটি পুরুষ। তাই কোনো ফল হয় না। তবে এ গাছের নিচে সব সময় পাঁচ কাটা বিশিষ্ট তারকা আকৃতির ঘিয়ে রঙের ফুল পড়ে থাকতে দেখা যায়। ইট, সিমেন্ট, বালু দিয়ে তৈরি আছে বসার স্থান। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদের পাশে ফুচকা, চটপটিসহ নানা খাবারের দোকান বসে। নদের ওপারে রয়েছে সবুজ ঘেরা আবহমান বাংলার গ্রাম। নদটি কূলভাঙা নয়, কেননা অনেক আগেই এটি মারা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিত্তবিনোদনের একটি অন্যতম স্থান হচ্ছে এ নদের পাড়। কোনো শিক্ষার্থীর মন খারাপ থাকলে তিনি নদের পাড়ে চলে আসেন। নদের জাদুকরী রূপ তার মন ভালো করে দেয়। যেমন সূর্যের আগমনে আঁধার দূর হয়ে যায়। শুধু শিক্ষার্থী নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের অনেক লোকজন প্রতিদিন এখানে আসেন। কেউ আসেন পরিবারসহ, কেউ আবার তার প্রিয় কোনো মানুষকে নিয়ে। নদ পার হওয়ার জন্য ঘাটে (যাকে 'উদীচী ঘাট' বলা হয়) সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকে। কেউ চাইলে নদের ওপারে যেতে পারেন, কেউ আবার নির্দিষ্ট দূরে নৌকায় ঘুরতে পারেন। নদের ওপারেও রয়েছে চা, পুরি-সিঙ্গারার দোকান। সময়ের সঙ্গে নদের স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব দোকনেরও স্থান পরিবর্তন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন্ধু-বান্ধবীদের জন্মদিনে বা অন্য কোনো উৎসবের দিন অন্যতম অংশ থাকে নৌকায় চড়ে নদে ঘুরে বেড়ানো। সারা বছর নদটিতে কম পানি থাকে যেন রবি ঠাকুরের সেই কবিতা 'আমাদের ছোট নদী'।

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:25