ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

তারার স্টাইল

Rate this item
(0 votes)

আইয়ুব বাচ্চু টি-শার্টের প্রতি ভীষণ দুর্বল। অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই। শৈশবে ঈদ কিংবা পালা-পার্বণে টি-শার্ট থাকত পছন্দের শীর্ষে। মা-বাবার কাছে প্রথম আবদারই থাকত টি-শার্ট কেনা নিয়ে। সেই থেকে এখনো এই পোশাকটির প্রতি ভালোলাগা অটল। বলেন, 'টি-শার্ট আমার শরীরেরই একটা অংশ হয়ে গেছে। অন্য কোনো কাপড় পরে আরাম পাই না। তা ছাড়া টি-শার্টে নিজেকে বেশ তরুণ মনে হয়।' তাঁর বাসায় আলমারিজুড়ে শুধু টি-শার্ট আর টি-শার্ট। হাজারখানেকের কম হবে না। মজার ব্যাপার হলো, অধিকাংশ টি-শার্টের রংই কালো। আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে পছন্দের রং

কালো। তিনি বলেন, 'কালো হলো জগতের ভালো। তা ছাড়া কালো রঙের পোশাকে আমাকে ভালো মানায়।' কয় দিন পরপরই পছন্দের পোশাক কিনতে ঢুঁ মারেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শোরুমে শুধু টি-শার্ট নয়, হ্যাট, জিন্স প্যান্ট ও কনভার্স_সব কিছুতেই আছে তাঁর নিজস্ব পছন্দ। গানের কারণে নিউইয়র্ক গেলে 'কেঙ্গল'র হ্যাট আনতে ভোলেন না। কনসার্ট ছাড়া ঘরেও তিনি টি-শার্ট পরেন।
জেমস : নগর বাউলের জেমসকে তাঁর ভক্তরা পাঞ্জাবি ছাড়া দেখেছেন বলে মনে হয় না। কারণ, অন্য কোনো পোশাকে তিনি কখনোই বাইরে আসেন না। এমনকি ভারতীয় ছবি গ্যাংস্টারেও তাঁকে কালো পাঞ্জাবি পরতে দেখা যায়। কনসার্টেও তাঁর একই সাজ। তাঁর পাঞ্জাবিপ্রীতির ছায়া পড়েছে তাঁর ভক্তকুলের ওপরও। নগর বাউলের কনসার্টগুলোতে তাঁর ভক্তদেরও কালো পাঞ্জাবি পরে আসতে দেখা যায়। জিন্স, পাঞ্জাবি ও চাদর ছিল জেমসের নিজস্ব স্টাইল। এই পোশাকগুলোর প্রতি তাঁর টান গানের দুনিয়ার আসার অনেত আগে থেকেই। তবে শিল্পীজীবনের প্রথমদিকে সাদা, মেরুনসহ বেশ কয়েক রঙের বাহারি পাঞ্জাবি পরতেন জেমস। কিন্তু সম্প্রতি কালো রঙের পাঞ্জাবি তাঁর নিজস্ব স্টাইল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য রঙের পোশাক কখনোই গায়ে জড়ান না তিনি। এ ঈদেও তিনি কালো পাঞ্জাবি পরবেন। বিদেশে ঘুরতে কিংবা কনসার্ট করতে গিয়ে আসার সময় পাঞ্জাবি পছন্দ হলে কিনে আনতে ভোলেন না। জেমস বলেন, 'পাঞ্জাবির সঙ্গে একটা ভালো লাগা চলে এসেছে। অন্য পোশাকে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। আর কালো আমার পছন্দের রং।'
বিপ্লব : বিপ্লবের পছন্দের পোশাকটির নাম 'বিপ্লব গেরুয়া'। ফতুয়া সদৃশ এ পোশাকটি ঘিরে তাঁর ভক্তদের আগ্রহের সীমা নেই। তিনি গেরুয়াটি প্রথম গায়ে জড়ান ১৯৯৭ সালে। তার আগ পর্যন্ত তিনি টি-শার্টই পরতেন। গল্পটা বেশ মজার। শিল্পী হিসেবে বিপ্লব তখন বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট করে বেড়াচ্ছেন। সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। মঞ্চে গাইছিলেন বেজ গিটার বাজিয়ে। তিন-চারটি গান গাওয়ার পর গরমে আর ঘামে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না! সেদিন অনুষ্ঠান শেষে পরিকল্পনা করেন নতুন কোনো পোশাক পরে কনসার্ট করবেন, যা দেখে ভিন্ন মনে হবে এবং আরামও লাগবে। বাসায় গিয়ে অনেক যাচাই-বাছাই করে একটি ফতুয়া পরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাতেও বিফল হন। গরম যেন কমছেই না। আরো ঝোলাঝালা কোনো পোশাক আবিষ্কার করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই গেরুয়ার উৎপত্তি। তখন থেকে এ যাবৎ এক শর বেশি গেরুয়া বানিয়েছেন তিনি। এই ঈদের জন্য বানিয়েছেন পাঁচটি। তার মধ্যে তিনটি পরে ফেলেছেন। বাকি দুটি পরবেন ঈদের দিন। সব সময় রংচঙা গেরুয়া পরতে ভালো লাগে বিপ্লবের। তাই তাঁর প্রতিটি পোশাকই একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন। বাসা থেকে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণেও এই পোশাক পরে যান তিনি। বলেন, 'পোশাকটি আমার শরীরের সঙ্গে মানিয়ে গেছে। ভক্তরা এই পোশাক ছাড়া আমাকে নিতে চায় না।'