ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

যত স্টাইল মিসেস সেন

Rate this item
(0 votes)

 

 

 

একবার আনন্দবাজার পত্রিকার একটা লেখায় চোখ আটকে গেল। লেখাটি ছিল সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেনের স্টাইল নিয়ে। সেখানে মুনমুন বলেছিলেন, 'আমার ওপর মায়ের স্টাইল স্টেটমেন্টের প্রভাব খুব বেশি। মায়ের মেকআপ, শাড়ি পরার ধরন, মায়ের সেই নেটের শাড়ি, সাটিনের পেটিকোট, মায়ের জুতো- অত স্টাইলিশ আমি আর কাউকে দেখিনি। সেদিন রিয়া (সুচিত্রা সেনের নাতনি) আমাকে একটা ফেরাগামোর জুতো দেখাতে নিয়ে এসেছিল। দেখেই বলেছিলাম, এক্সাক্টলি এই ডিজাইনের জুতো মা ব্যবহার করতেন। স্টাইলিংয়ে মা আলটিমেট। আমার যত স্টাইল মিসেস সেন।'শুধু মুনমুন সেনই নয়, তাঁর স্টাইল অনুকরণ

করে আসছে কলকাতা তো বটেই ঢাকার বাঙালি মেয়েরাও। পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তর- এই তিন দশক রুপালি পর্দায় তো ছিলেনই, স্যাটেলাইট টেলিভিশন আর ভিডিও প্রযুক্তির কল্যাণে সুচিত্রা সেন বিভিন্নভাবে জনপ্রিয় পরের প্রজন্মগুলোর কাছেও। তাঁর শাড়ি পরা কিংবা চুল বাঁধার কেতা ছিল সেই সময়ে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে কলকাতা, ঢাকার বাঙালি সমাজে আভিজাত্য ও ফ্যাশন-সচেতনতার প্রতীক। আজও তা অমলিন।অনেকেই জানে, সুচিত্রার প্রিয় ছিল টাঙ্গাইল শাড়ি। টাঙ্গাইল শাড়িকে জনপ্রিয় করার পেছনে সুচিত্রার অবদান আছে। সুচিত্রার কুচি দিয়ে শাড়ি পরা, আর কখনো ছোট আঁচল, কখনো বড় আঁচল রাখা, বিশেষ করে কোমরে অল্প করে পাড় গুঁজে রাখার স্টাইল খুব পছন্দ করত তখনকার মেয়েরা। আমার বড় বোনকে দেখেছি, এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় সুচিত্রা সেনের মতো করে সেজেগুজে পরীক্ষার হলে যেত। সেটা ১৯৭৮ সাল। আমার ধারণা, সে সময় ঢাকাই তরুণীদের অনেকেই এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। এখনো আমরা যখন শাড়ি নিয়ে ফ্যাশন শো করতে যাই, আমাদের মাথায় চলে আসে তাঁর শাড়ি পরার স্টাইলটি। এখনো ওরকম করে শাড়ি পরার চল রয়ে গেছে। বাঙালি মেয়েরা তাঁর যে স্টাইলটি আজও হুবহু অনুকরণ করে যাচ্ছে, তা হলো ব্লাউজ। একটা সময় মেয়েরা দর্জিবাড়িতে গিয়ে শুধু বললেই হতো, সুচিত্রা সেন গলা করাব। তাতেই হতো। এত জনপ্রিয় হয়েছে ব্লাউজের সেই গলা। তারপর একে নাম দেওয়া হলো তাঁরই নামে 'সুচিত্রা সেন গলা'। এখন যেটা হাইনেক, কনুই পর্যন্ত লম্বা হাতা, প্রিন্টেড ফেব্রিক, তা তো সুচিত্রার সেই ব্লাউজটিই। অনুকরণ করে যাচ্ছে নারীরা।সবার নজর থাকত সুচিত্রার চোখে। কী সুন্দর ন্যাচারাল মেকআপ! চোখটাকে আঁকতেন। চিবুক, ঠোঁট আর নাকের লাবণ্যের বাইরেও চোখগুলো যেন ফুটে থাকত চেহারায়। আজও তা কত যুগোপযোগী! মেয়েরা এভাবেই চোখ সাজিয়ে নিচ্ছে। ঘরে বসে কিংবা পার্লারে যেয়ে।শাড়ির সঙ্গে হাইনেক শর্ট স্লিভ ব্লাউজ সুচিত্রা সেনকে এনে দিয়েছিল বোল্ড লুক। এখনো তরুণীদের কাছে তা অনুকরণীয়। এ ছাড়া স্লিভলেসের সঙ্গে বাহুতে বাজু পরার যে ট্রেন্ড তিনি চালু করেছিলেন, তা আগে কেউ কেউ পরলেও তখন থেকেই আলাদা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে মেয়েরা। এখনো সেই ট্রেন্ড চলছে সমানতালে।নাতনি রিয়া সেন ও রাইমা সেনও কখনো কখনো দিম্মার শাড়ি পরে হাজির হচ্ছেন আচার অনুষ্ঠানে। শাড়ি পরা শিখেছেনও তাঁর কাছ থেকে। এরা কিন্তু তৃতীয় প্রজন্ম। তার মানে নতুন জেনারেশনের কাছে ফিকে হয়ে যায়নি তাঁর স্টাইল। চলছে, চলবে। আসলে কিছু স্টাইল বাদ দিলে, বাঙালি মেয়েদের যত স্টাইল