ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

প্রিয়জনের খারাপ সময়ে ৭ করণীয়

Rate this item
(0 votes)

বড় হোক কী ছোট- যেকোনো কারণে মনমেজাজ বিগড়ে যেতে পারে সঙ্গী বা প্রিয়জনের। দিনের শুরুতেই এমনটা হলে বাকি দিন ভালো যাওয়া দুষ্কর। কফির কাপে চুমুক বিস্বাদ লাগে, কাজে মন বসে না, কাটে না সময় আর কিছুতে...। এ ক্ষেত্রে আপনার সাধারণ কিছু কাজই জাদুমন্ত্রের মতো ফল দিতে পারে। মুহূর্তেই ভালো হয়ে যেতে পারে প্রিয়জনের মন-খারাপ অবস্থা, উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে দিনটি।

এখানে বিশেষজ্ঞরা সাতটি অতি সাধারণ উপায় বাতলে দিয়েছেন। তাতে চোখের পলকে বদলে যায় পরিস্থিতি।

 

১. একটু হাসির ঝিলিক : একেবারে সরল আর নির্বোধের মতো শোনালেও হাসির মন্ত্রে মানুষ মুগ্ধ না হয়ে পারে না। হাসির ঝলকে সুখের মাত্রা একলাফে বেড়ে যায়। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, আন্তরিক হাসির ঝলকে একজন আগন্তুককেও সহজ করে নেওয়া যায়।

 

২. ছোট্ট অথচ সুন্দর নোট : মন খারাপ কোনো মানুষের কাছে দুই-এক কলম দারুণ কিছু লিখে একটি নোট পাঠিয়ে দিন। কাউকে উদ্দেশ করে লেখা একটি নোট প্রমাণ করে, আপনি তাকে কতটা পছন্দ করেন এবং তার প্রতি কতটা খেয়াল রাখেন। আর এই অনুভূতি তার অন্ধকার দিনটিকেও আলোয় ভরিয়ে দেবে। এ ছাড়া কেউ একজন আপনাকে নিয়ে ভাবছে- এ কথাটি ভাবতে কার না ভালো লাগে।

 

৩. একগুচ্ছ ফুল : মনমরা ভাবকে এক ঝটকায় হাওয়ায় মিলিয়ে দিতে পারে একগুচ্ছ ফুল। গবেষণায় দেখা গেছে, কাছের মানুষ বা প্রেমিক-প্রেমিকার ক্ষেত্রেই শুধু নয়, অফিসে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ কয়েকটি ফুল সামনে চলে এলে দেহ-মন চনমনে হয়ে ওঠে এবং কাজে উৎপাদনশীলতা বেড়ে যায়।

 

৪. হালকা প্রশংসা : যেকোনো মানুষকে খুশি করতে সবচেয়ে সহজ সম্ভাব্য উপায়টি হলো প্রশংসা। তাই প্রিয়জনের মুখে চট করে হাসি ফোটাতে কয়েকটি প্রশংসাবাক্যই যথেষ্ট। গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, কারো উপকার করলে মনটা যেমন তৃপ্তিতে ভরে ওঠে, হালকা মেজাজের প্রশংসাও কারো কাছে নগদ পুরস্কারের মতো মনে হয়।

 

৫. আন্তরিক আলিঙ্গন : গোটা একটি দিন স্রোতের বিপরীতে কাটিয়ে একজন যা কিছু খুইয়েছে, একটি আন্তরিক আলিঙ্গন তার সবই ফিরিয়ে দিতে পারে। দুজন মানুষ পরস্পরকে জড়িয়ে ধরলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। কাডল হরমোন নামে পরিচিত এই উপাদানটি দেহ-মনে সুখানুভূতি ছড়িয়ে দেয়।

 

৬. সৌজন্যবোধ : কার দিনটি কেমন গেছে তা আপনি বলতে পারেন না। কিন্তু তার ভেতরের অবস্থা কী তা উপলব্ধি করতে পারেন। কিছু সাধারণ সৌজন্যবোধ তার মনকে ভালো করে দিতে পারে। অফিস বা বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তার সঙ্গে থেকে দরজাটা খুলে ধরা বা কারো আগমনে এলিভেটরের সামনে থেকে অভ্যর্থনা জানানোর মতো সৌজন্যতা তার মুখে হাসি ফোটাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সৌজন্য অনেকটা বিজয়ের বোধ সৃষ্টি করে। তাই মনটা মুহূর্তেই উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।

 

৭. চায়ের বিলটা দিয়ে দেওয়া : গবেষণায় দেখা গেছে, পরার্থপরতা এমন এক বিষয় যা বহুমাত্রিক দৈহিক ও মানসিক সুখের সমন্বয় ঘটায়। পরিচিত বা অপরিচিত কারো সঙ্গে বসে চা খাচ্ছেন রেস্টুরেন্টে, নিজেই এগিয়ে গিয়ে বিলটা দিয়ে দিলেন। অন্যের মুড তৎক্ষণাৎ ভালো হয়ে যাবে।