ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আমিই বলি ভালোবাসি

Rate this item
(0 votes)

কিছুদিন আগে ঢাকায় ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে বিরাট বিলবোর্ড বানিয়ে প্রেমিককে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এক মেয়ে। ‘উইল ইউ ম্যারি মি’ লেখা সে বিলবোর্ড নিয়ে ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।আবার যেমন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া রূদ্র আর মিলাও বুঝতে পেরেছিলেন ওঁরা দুজন দুজনকে পছন্দ করেন। কিন্তু বলি বলি করে কারোরই আর বলা হয়নি। শেষে একদিন না পেরে ক্যানটিনে খেতে খেতে মিলা বলেই ফেললেন, ‘আমি তোমাকে পছন্দ করি।’ শুনে রূদ্র খুশিতে লাফিয়ে ওঠেন। নিজেও যে এ কথাটা বলার জন্যই হাঁসফাঁস করছিলেন।‘ভালোবাসার কথা মুখ ফুটে আপনি কেন আগে বললেন’, এমন কথা মিলাকে

জিজ্ঞাসা করায় বলেন, ‘ছেলে বা মেয়ের আগে তো আমি একজন মানুষ। ভালো লাগা বা ভালোবাসার কথা আমি কেন জানাতে পারব না! ধরুন কাউকে আমার ভালো লাগল। সেটা তাকে না জানিয়ে নিজে নিজে কষ্ট পাওয়ার তো কোনো মানে হয় না।’ মনের কথা চেপে না রেখে মিলা হয়তো ভালোই করেছেন। কিন্তু রূদ্র কেন সময় নিচ্ছিলেন ভালোবাসার কথা জানাতে? ‘যদি মিলা না বলে দেয়, এই ভয়েই কিছু বলতে পারছিলাম না। আমি সাহস সঞ্চয় করছিলাম। অবশ্য বলতে বলতে কত দিন লাগত কে জানে। তার চেয়ে ও বলাতে সুবিধাই হয়েছে। আর এখানে ছেলেমেয়ে কোনো বিষয় না, বলাটাই আসল। ভালোবাসার কথা জানাটাই আসল।’
ভালোবাসার কথা আগ বাড়িয়ে বলবে, তাও একটা মেয়ে! এও কি ভাবা যেত! মেয়েরা তো মরে গেলেও মনের কথা মুখ ফুটে আগে বলবে না। প্রেম বা বিয়ের ক্ষেত্রে সব সময় ছেলেরাই এগিয়ে আসবে, এটাই যেন ছিল অলিখিত নিয়ম। তবে এই নিয়মও পাল্টে যাচ্ছে। মনের কথা জানিয়ে দিতে ছেলেদের পাশাপাশি এখন মেয়েরাও অকপট, ওপরের দুটি ঘটনা তার প্রমাণও দেয়।
তাহলে ‘বুক ফাটে তা মুখ ফোটে না’ বলে যে প্রবচন ছিল সে কথার দিন কি শেষ? হয়তো। একসময় ছেলেমেয়েদের মধ্যে কথা কম হতো। মেলামেশা আরও কম। আজকাল যোগাযোগের হাজারটা মাধ্যম। মনের কথা জানিয়ে দেওয়াটাও এখন সহজ। একটা সময় যেমন মেয়েরা আগে মনের কথা প্রকাশ করলে সেটাকে খুব একটা ভালোভাবে নেওয়া হতো না। অনেকেই তকমা এঁটে দিত ‘নির্লজ্জ মেয়ে’। 
তবে এ যুগে মা-বাবারা বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে নিতে চাচ্ছেন না। ‘খারাপ হবে কেন? আবার বিয়ের প্রস্তাবটাই সব সময় কেন ছেলেদের পক্ষ থেকেই আসতে হবে?’ বলছিলেন রেজওয়ানা খালেদ। কয়েক দিন আগেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেপক্ষ থেকে প্রস্তাব আসি আসি করছিল। এদিকে মেয়ে বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাবে। তার আগেই মেয়েকে তার পছন্দের ছেলের হাতে তুলে দিতে চান। তাই নিজেরাই প্রস্তাব নিয়ে একদিন হাজির হয়ে যান ছেলের বাড়িতে। দুজনের যেহেতু আগে থেকে একটা সম্পর্ক ছিল, ছেলের বাড়ির লোকজনও তাই আর আপত্তি করেনি। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায়।
সমাজ কীভাবে নেবে, সেটি ভেবে অনেক মেয়ে ও তাঁর পরিবার মেয়ের পছন্দের কথা ছেলেপক্ষকে জানান না। এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন মনে করেন, ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনো এই বিষয়কে ভালোভাবে নেওয়া হয় না। কিন্তু মনের কথা মনে রেখে দেওয়া কোনো সমাধান না। আবার অপর পক্ষ থেকে ‘না’ সূচক শব্দ শুনলেই জীবন থেমে যাবে বা হেয় হবে, এটি ভাবাও ঠিক নয়।’ 
আসলে বিয়ের প্রস্তাব বা ভালো লাগার কথা এক পক্ষ থেকে বললেই হয়। বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না, সেদিন আর নেই। এখন কষ্ট বুকে চেপে না রেখে, মুখ ফুটে বলে দিন ভালোবাসার কথা। দিন শেষে একটু ভালোবাসা, একটু ভালো থাকার জন্যই তো এত কিছু।

 

 

 

 

Last modified on Sunday, 09 March 2014 21:41