ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

নারী যখন পুরুষের চেয়ে বেশি সমালোচিত

Rate this item
(0 votes)

আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে ঘিরে দুনিয়াব্যাপী নারী স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণে অগ্রগতির বহু হিসাব-নিকেশই হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রীয় আইনকানুন এবং নানা অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। কিন্তু কতটা পাল্টেছে ‘নারী’ এবং ‘পুরুষ’কে ভিন্ন পাল্লায় মাপার সামাজিক মানদণ্ড? কিছু সংস্কৃতিতে খানিক ব্যতিক্রম থাকলেও দুনিয়ার বেশির ভাগ দেশেই এখনো একই কাজের জন্য বা একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য নারীকে

পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর সমালোচনার শিকার হতে হয়। হাফিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি বিষয় তুলে ধরেছে—

অগোছালো ঘরদোর
একটি জরিপের বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, আনুমানিক ৮৭ শতাংশ নারীই ঘরদোর অগোছালো থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে এই হার আরও কম, ৮১ শতাংশ। পুরুষেরা এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হলেও ঘরদোর গোছানোর কাজটা কিন্তু নারীকেই করতে হয়। এর কারণ হিসেবে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, ঘরদোর অগোছালো থাকলে নারীকেই এ জন্য দায়ী করা হয় এবং নারীকে পুরুষের তুলনায় অনেক কঠোর সমালোচনা করা হয়। আর আমাদের দেশে তো বেশির ভাগই পরিবারেই ঘরদোর গুছিয়ে রাখার কাজটা প্রায় এককভাবেই ‘নারীর দায়িত্ব’ হিসেবেই দেখা হয়।

ওজন বাড়লে

‘ওবেসিটি’ বা অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমস্যা। উভয়ই এ নিয়ে নানা সংকটে পড়েন। কিন্তু নানা জরিপে দেখা গেছে, ‘ওজন বেড়ে যাওয়া’ বা ‘মুটিয়ে যাওয়া’ নিয়ে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি সামাজিক চাপে থাকেন। এ ক্ষেত্রে নারীর নিকটাত্মীয় থেকে শুরু করে অফিসের সহকর্মী কেউই তাঁকে সমালোচনা করতে ছাড়েন না। আর এর সঙ্গে সৌন্দর্যের বিষয়টি যুক্ত করে সারাক্ষণই নারীর কানের কাছে মন্ত্র পড়া হয় ওজন কমানোর জন্য। কিন্তু সেই তুলনায় পুরুষদের ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে এত গঞ্জনা সইতে হয় না।

মুখর বা সপ্রতিভ হলে
কোনো নারী যদি খুব বেশি মুখর থাকেন বা আত্মবিশ্বাসী হয়ে সব সময় সপ্রতিভভাবে নিজের মতামত দেন, নিজেকে প্রকাশ করেন তা অনেক ক্ষেত্রেই ‘ভালো চোখে দেখা হয় না’। বলা হয় ‘মেয়েটা বেশি কথা বলে’, সারাক্ষণ ‘নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে’। অথচ এই একই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে একজন পুরুষকে প্রশংসা করা হয়। বলা হয়ে থাকে ‘ছেলেটা খুবই প্রাণবন্ত’, ‘সবকিছুতেই তাঁর একটা দৃষ্টিভঙ্গি’ আছে এবং তাঁর মধ্যে ‘নেতৃত্বের গুণাবলি আছে’।

সন্তান না হলে
সন্তান নেননি এমন নারীকে পাশ্চাত্য সমাজে সাধারণত ‘স্বার্থপর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বলা হয় এ সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে পস্তাতে হবে। সন্তান না নেওয়ার বিষয়টাকে ‘নারীর অপূর্ণতা’ হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো পুরুষ ‘পিতা না হলে’ তাঁকে স্বার্থপর ভাবার উদাহরণ খুব একটা চোখে পড়ে না। আর ‘বাবা হওয়াটাকে’ খুব কম সমাজেই ‘পুরুষত্বের পূর্ণতা’ হিসেবে দেখা হয়। আমাদের দেশে এই বিষয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তো আরও অনেক বেশি কঠোর এবং নারী-বিদ্বেষী। চিকিত্সাবিজ্ঞানে পরীক্ষার মাধ্যমে পুরুষের ‘সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা’ থাকলেও পরিবার ও আত্মীয়রা বিষয়টি ‘চেপে রাখেন’। কিন্তু নারী ‘সন্তান জন্মদানে অক্ষম’ হলে তাঁর বিয়ে ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে অনেক কিছুই সইতে হয়।      

সঙ্গী ও সম্পর্ক

একাধিক সঙ্গী থাকলে বা একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষকে ভিন্ন মানদণ্ডে মাপা হয়। আমাদের সামাজিক বচন-বাচনেও এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সংখ্যা যা-ই হোক, যে পুরুষেরা বহু নারীর সঙ্গে মনো-দৈহিক সম্পর্ক রাখেন, পাশ্চাত্যে তাঁদের বলা হয় ‘স্টাডস’। আর এই একই বৈশিষ্ট্যের নারীকে পাশ্চাত্যে বলা হয় ‘স্লাটস’। প্রায় একই রকম বিষয় লক্ষ করা যাবে আমাদের দেশেও।