ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

বিয়ে সম্পর্কে মানুষের যে ধারণাগুলো ভুল

Rate this item
(0 votes)

বিয়ে নিয়ে মানুষের অনেক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কারো মতে বিয়ে হচ্ছে  স্বর্গসুখ লাভের উপায়। আবার কারো মতে বিয়ে হচ্ছে বাড়তি দায়িত্ব ও চাপ নেয়া। কিন্তু মজার বিষয় হলো বিয়ে সম্পর্কে অনেকেই অনেক ধারনা পোষণ করে থাকেন যা পুরোপুরি ঠিক নয়।

সম্প্রতি ভারত ভিত্তিক গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকে মনে করে বিয়ের পর তার ব্যক্তিগত নানা সমস্যার সমাধান হবে, তার নানা রকম ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন নাও ঘটতে পারে। বিয়ে মানুষের ইচ্ছা পূরণের একমাত্র উপায় নাও হতে পারে।

আসুন জেনে নিই বিয়ে সম্পর্কে মানুষের কতিপয় ভুল ধারণা:

একাকীত্ব থেকে মুক্তি:
অনেকে মনে করেন বিয়ে করার পর সে একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু সবসময় এটি সত্য নাও হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এক নারীর বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্দশার মধ্য দিয়ে একাকী দিন কাটিয়েছেন। তিনি মনে করেছিলেন বিয়ের পর হয়তোবা এ সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেছে, তার স্বামী কখনোই তার একাকীত্ব দূর করতে সময় দিত না। ছুটির দিনেও কখনো তার সাথে বেড়াতে যেত না।

সুখী পরিবার:
প্রত্যেকেই আশা করেন বিয়ের পর তারা একটি সুখী পরিবার গড়ে তুলবেন। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা তারা ভিন্ন একটি পরিবারে এসে অনেক সময় খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। সকলের মন জয় করে চলা তার পক্ষে অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে।

যেকেনো সময় সেক্স:
অনেকেই ধারণা করেন বিয়ের পর যেকোন সময় সেক্স করা যাবে। কিন্তু সেক্স বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ইচ্ছা ও শারীরিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। দু’জনের মধ্যে মতের মিল না হলে তা সম্ভব নয়।

আর্থিক নিরাপত্তা:
অবিবাহিতরা ধারণা করেন, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর যৌথ আয় সংসারজীবনে আর্থিক নিরাপত্তা দেবে। আসলে তা হয় না। নিজ নিজ আয়ে সংসারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। নিজের খরচের জোগান নিজেকেই দিতে হয়। এ বিষয়ে দম্পতির কেউ কাউকে তেমন একটা সহায়তা করেন না।

অন্যের স্বজন নিজের হয় না:
বিয়ের পর নতুন আত্মীয়স্বজন-পরিজন নিয়ে সুখে বাস করার স্বপ্ন দেখেন অবিবাহিত নারী-পুরুষ। বিয়ের পর পর উভয়েই চেষ্টা করেন সঙ্গীর স্বজনকে আপন করে নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখে না। দিন শেষে নিজের রক্তের বন্ধনই প্রধান হয়ে দেখা দেয়। যখন কোনো সংকট দেখা দেয়, তখন এই সত্য প্রকট হয়। অন্য পরিবার থেকে আসা কেউ, সে যতই ভালো হোক না কেন; পক্ষপাতিত্ব চলে যায় নিজের স্বজনের দিকে। এ ক্ষেত্রে স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে, নতুন স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দেখান কিন্তু বেশি কিছু আশা করবেন না।

সন্তান জন্মদান:
বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন সন্তানের সংখ্যার উপর পরিবার সুখ নির্ভর করে। কিন্তু অনেক সময় স্বামী ও স্ত্রীর অনিচ্ছাবশতও সন্তান জন্ম নেয়। এসব ক্ষেত্রে কারো কিছু করার থাকে না। আবার দেখা যায় স্ত্রীর অনিচ্ছা থাকলেও স্বামীর জোরে স্ত্রী সন্তান নিতে বাধ্য হয়।