ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

আত্মবিশ্বাসী ও সফল মানুষেরা যে কারণে আলাদা!

Rate this item
(0 votes)

একজন আত্মবিশ্বাসী ও সফল মানুষের সাথে আপনার পার্থক্যটা কী? কিংবা আরও সহজ করে বললে, আপনি কেন সফল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষদের তালিকায় নিজের নামটা লেখাতে পারছেন না? জবাবটা কিন্তু খুব সোজা। আপনি পারছেন না, কেননা আপনার মাঝে এখনো রয়ে গেছে কিছু কমতি। আত্মবিশ্বাসী মানুষেরা জীবনের সবক্ষেত্রেই ভিন্নতার পরিচয় দিয়ে থাকেন, আর এই ভিন্নতাই তাঁদেরকে করে তোলে জীবনের সবক্ষেত্রে সফল। একজন গৃহিণী কিংবা সাদামাটা মা থেকে বিলিওনিয়ার কিংবা রকেট সায়েন্টিস্ট পর্যন্ত যে কোনো কিছুতেই সফল হতে পারেন একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ। কী চাই? চাই কেবল ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

আসুন, আজ জানা যাক সেই কাজ সম্পর্কে, যেগুলো আত্মবিশ্বাসী মানুষেরা একদম ভিন্নভাবে করে থাকেন। আর এই জন্যই তাঁরা সফল।

১. তারা এমন ভাব মোটেও দেখান না যে পৃথিবীটা তাঁর। বরং এভাবে চলেন যেন পৃথিবীটা কার সেটা নিয়ে তাঁর একদম মাথাব্যথা নেই। তাঁরা কেবল নিজের কাজটার দিকেই মনযোগী হয়ে থাকেন।

২. তাঁরা কখনোই বাহানা তৈরি করেন না, নিজের সাফাইও দেন না। কাজ দিয়ে সকল প্রশ্নের জবাবটা দিয়ে দেন।

৩. তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হবার অভিনয় করেন না, বরং আত্মবিশ্বাসকে নিজের ব্যক্তিত্বের অংশ হিসাবে লালন করেন। একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিকেও আত্মবিশ্বাস দিয়ে সামলে নিতে পারেন। আর এটাই তাঁদের সাফল্য।

৪. তাঁরা মোটেও বেশি কথা বলার মানুষ নন, বেশি কাজ করার মানুষ।

৫. ভয় নামক আবেগটা তাঁরা একেবারেই বোঝেন না। ভয় বস্তুটা তাঁদের মাঝে প্রবেশই করতে পারে না।

৬. কোনো কাজ করতে গিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থাকে তাঁরা মোটেও পাত্তা দেন না। কাজের জন্য যে কোনো স্যাক্রিফাইসের বিষয়টিও খুব সহজে করতে পারেন।

৭. লোকে কী ভাবলো তাঁর সম্পর্কে, সেটা নিয়ে তাঁরা মোটেও চিন্তিত নন।

৮. তাঁরা অন্যের জীবন নিয়ে একদম ভাবেন না, কেননা তাঁরা আশা করেন অন্য কেউও তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাবে না।

৯. কোনো সমস্যা সমাধানের আশায় তাঁরা বসে থাকেন না, নিজেই পথ খুঁজে সমাধান করে ফেলেন।

১০. তাঁরা কাউকে প্রথম দর্শনেই বিচার করেন ফেলেন না, আবার নিজেকে কারো সাথে তুলনাও করতে যান না কখনো।

১১. অসম্ভব বলে কোনো কিছু তাঁদের জীবনের তালিকায় নেই। এমন মানুষদের কাছে সবই সম্ভব। নতুন যে কোনো কিছু করতে তাঁরা সর্বদা তৎপর।

১২. চেষ্টা না করে হাল মানতে তাঁরা একেবারেই নারাজ। তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত চেষ্টা করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সফল না হন।

১৩. জীবনের সত্য গুলোকে তাঁরা বেশ সহজভাবে গ্রহণ করেন, চোখ বন্ধ করে জীবনযাপনের বোকামি তাঁরা করেন না একদম।

১৪. কোনো বিষয়ে হার মেনে নেয়ার পাত্র তাঁরা নন। তাঁরা চেষ্টা করেন, ব্যর্থ হন, আবার চেষ্টা করেন। কিন্তু হার মেনে বসে থাকেন না। ব্যর্থতাকে তাঁরা ভয় না।

১৫. নিজের কাজের জন্য কারো অনুমতির অপেক্ষা তাঁরা করেন না। যেটা তাঁকে করতে হবে সেটা চট করেই করে ফেলেন।

১৬. তাঁরা পুরনোকে ভেঙেচুড়ে সর্বদা নতুন সৃষ্টিতে মত্ত থাকেন। সৃষ্টি করাই তাঁদের আনন্দ।

১৭. তাঁরা কখনোই হতাশা ও নৈরাশ্যের কথাবার্তা বলেন না। বরং সর্বদাই ইতিবাচক কথাবার্তা ও চিন্তা বিনিময় করেন।

১৮. কোনো ব্যাপারকে তাঁরা মোটেও জটিল করে তোলেন না। বরং জটিল বিষয়কে সহজ করে ফেলার জাদুকরী ক্ষমতা আছে তাঁদের মাঝে।

১৯. তাঁরা কথা দিয়ে কথা রাখেন। তাঁদের বিশ্বস্ততার জুড়ি মেলা ভার।

২০. তাঁরা যা পড়েন বা শোনেন, কখনো সেটা অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন না। এক কথায় যাচাই-বাছাই ও নিজস্ব চিন্তাভাবনা ব্যতীত কিছুই তাঁরা বিশ্বাস করেন না।

২১. তাঁরা প্রতিটি কাজ নিখুঁত ভাবে করায় বিশ্বাসী। যেটা করেন খুব ভালোভাবে করেন, নাহলে করেনই না। ততক্ষণ পর্যন্ত কাজটা করতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সেরা না হয়।

২২. উপার্জনের জন্য কাজ তাঁরা করেন না। বরং কাজটাই তাঁদের বেঁচে থাকার আনন্দ।

২৩. তাঁরা কখনো ঘণ্টা পরিমাপ করে কাজ করেন না।

২৪. তাঁরা জীবনের রেসে সর্বদা প্রথম স্থানের জন্য দৌড়ে থাকেন।

২৫. "পারফেক্ট" নয় এমন কোনো কিছু দিয়ে তাঁদেরকে খুশি করা যায় না।