ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

এগোতে চাইলে যা ‘বলা যাবে না’, ‘করা যাবে না’

Rate this item
(0 votes)

চাকরির সাক্ষাত্কারে ভালো করতে হলে কী করতে হবে, অভিজ্ঞ নিয়োগকর্তার প্যাঁচালো প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দিতে হবে এসব নিয়ে অনেক পরামর্শই পাওয়া যায় বইপত্রে। কিন্তু কী কী করা যাবে না সে বিষয়টি? কিংবা কখন ‘হ্যান্ডশেক’ বা হাত মেলানোর জন্য হাতটি বাড়াবেন আর কখন হাত মেলানোর জন্য হাত বাড়ানো মোটেই ঠিক হবে না! আর চাকরির সাক্ষাত্কারে কী কথা কখনই বলা ঠিক না! এসব নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগ সাইট ‘লিঙ্কডইনে’র প্রভাবশালী কয়েকজন পেশাদারের পরামর্শ ছেপেছে বিবিসি। তাঁরা জানিয়েছেন, পেশাগত ক্ষেত্রে এগোতে চাইলে

কী বলা যাবে না বা কোন কাজগুলো করা যাবে না।

‘এড়াতে হবে’ আর ‘বলাই যাবে না’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক হ্যামিলটন ব্রাডশ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস কান লিঙ্কডইনে লিখেছেন, চাকরির সাক্ষাত্কারে কী কথা বলা এড়াতে চেষ্টা করতে হবে আর কী কখনো বলাই যাবে না। ‘আমি জানি না’ খুবই পরিচিত এই বাক্যটি যেকোনো সাক্ষাত্কারেই এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। যেই প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন তাদের কাজের ধরন এবং পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন আগে থেকেই। সম্ভব হলে বাজারে তাদের প্রতিযোগীদের সম্পর্কেও জানুন। যাতে আপনার সম্ভাব্য দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়েই আপনাকে বলতে না হয় যে ‘আমি জানি না’।

আর যদি নিজের ‘জীবনবৃত্তান্তে’ উল্লেখ করা কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আপনি ‘আটকে যান’ এবং আমতা আমতা করতে বলে ফেলেন ‘আমি জানি না’ তাহলে তা খুবই খারাপ হবে। চেষ্টা করুন বিষয়টিকে বোঝার এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে না পারলেও ভেবে দেখুন কোনোভাবে এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কিছু মনে করতে পারেন কি না, তা নিয়েই উত্তর শুরু করুন। আপনার ভাবনার জট খুলেও যেতে পারে।
সাক্ষাত্কারে যা কখনই ‘বলা যাবে না’ তা হলো—‘আমি আমার বর্তমান কর্মস্থলকে পছন্দ করি না।’ বর্তমান কর্মস্থলে আপনার যতই বাজে অভিজ্ঞতা থাকুক এমন নেতিবাচক কথা শুনে সম্ভাব্য নিয়োগদাতারা ভাবতে পারেন যে ‘আপনাকে সামলানো খুবই মুশকিল হতে পারে’।


‘হাত মেলানোয়’ সচেতন হন

পেশাগত ক্ষেত্রে নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হলে আপনি সবার আগে কী করেন। নামধাম শুনেই হয়তো প্রথমেই হাতটি বাড়িয়ে দেন ‘হ্যান্ডশেক’ করতে বা হাত মেলাতে। সতর্ক হন। সচেতন হন। কেননা, হাত মেলানো নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বা অস্বস্তিকর অনুভূতিতে পড়লে তা ‘প্রথম সাক্ষাত্টাকে’ মাটি করে দিতে পারে এমনকি ‘পরিচয়ে’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও ব্যবসায়-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড পারফর্মেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বারনার্ড মার এই ‘হাত মেলানোর’ কেতা নিয়ে লিখেছেন লিঙ্কডইনে। তিনি বলছেন, হাত মেলানোয় সবচেয়ে বাজে বিষয় মনে হয় ‘ঘর্মাক্ত’ বা ‘ভেজা’ হাত। এর পক্ষে কোনো অজুহাতই টেকে না। যদি আপনার সব সময়ই হাত ঘামতে থাকে তাহলে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে যান।

হাত মেলানোর সময় অনেকের হাত ‘মাছের মতো’ হাত গলে বেরিয়ে যেতে চায়, তাঁরা যেন ঠিকমতো দৃঢ়ভাবে হাত ধরতে পারেন না। আর হাত ঝাঁকানোর সময় তা কবজির কাছ থেকে ঝাঁকান। এর কোনোটাই ঠিক না। হাত মেলালে বলিষ্ঠভাবে ধরুন, মৃদু ঝাঁকালেও কবজি নয় হাতটাই ঝাঁকান। তাহলেই আপনার আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠবে। নয়তো মনে হবে আপনি দৃঢ় নন, পলায়নপর, ‘আপনাকে ঠেলে ঠেলে কাজ করাতে হবে।’

হাত মেলানোর সময় অনেকে ‘চোখে চোখ মেলান না’। বা হাতটা ধরেই দ্রুত ‘হাত ছেড়ে দেন’। এটা ঠিক না। এমন করার অর্থ দাঁড়াবে আপনি হয় খুবই ‘লাজুক’, ‘আত্মবিশ্বাসী নন’। অথবা যাঁর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তাঁকে ‘খাটো করে দেখছেন’। ফলে সচেতন হন।