ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

উন্নতি চাইলে সক্রিয়তা শুরু থেকেই

Rate this item
(0 votes)

 

 

 

 

যেকোনো পেশায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতির জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং পর্যায় ক্রমিক বাস্তবায়ন। এজন্য বছরের শুরু থেকেই আপনাকে হতে হবে সজাগ, সক্রিয়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ পেশা জীবন। তাই প্রতিদিনই আপনার কর্মস্থল নিয়ে ভাবুন, নিজের নেতিবাচক অভ্যাসগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন, নিজেকে প্রস্তুত করুন, পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করুন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফোর্বস’ সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরু থেকেই কীভাবে আপনি নিজেকে পেশা জীবনে আরও উন্নততর অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা

করতে পারেন। সাময়িকীটির দৃষ্টিতে এ বিষয়ে করণীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে তুলে ধরা হল-

যোগ্য হয়ে উঠুন পদোন্নতির
আসলে কোনো প্রতিষ্ঠানই কাউকে পদোন্নতি দেয় না বরং তা নিতে হয়! তাই বছরের শুরু থেকেই  পরিকল্পনামতো না এগোলে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন, নিজের দায়িত্ব তো বটেই তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব সহজ করতে তত্পর থাকুন। বুঝতে চেষ্টা করুন কাজটা উনি কীভাবে করাতে চান। প্রয়োজনে তার সাথে খোলাখুলি কথা বলুন। এ বিষয়ে পরামর্শ হল- আপনি কতটা পরিশ্রম করেন বা কতটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন তা উল্লেখ করবেন না। দীর্ঘসময় কোনো ব্যাপার নয়; ফলাফলই মূল বিবেচ্য।

মানসিক চাপ কমান

মানসিক চাপ কর্মস্পৃহা ও কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তাই যতটা সম্ভব চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মানসিক চাপের উত্স খুঁজে বের করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন এটা কি নিজেরই তৈরি না কি পারিপার্শ্বিক অবস্থা- অফিসের বস, সহকর্মী বা কাছের কোনো মানুষের কারণে হচ্ছে। চাপমুক্ত থাকার জন্য সাধারণ ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি বা খেলাধুলা শুরু করেন; ঘুম বাড়িয়ে দিন। পছন্দের সিনেমা দেখা, গান শোনা বা প্রিয় লেখকের বই পড়াও হতে পারে চাপ কমানোর উপায়। চাপ কমাতে আপনাকে আপনার সাধ্যমতো করতে হবে আর খেয়াল রাখতে হবে- আপনি সবকিছু  পারবেন না, সবকিছু করার দরকারও নেই।

 নিজেকে গুছিয়ে নিন

যতটা পারেন বেশি করে নিজেকে গুছিয়ে নিন। এতে আপনার কর্ম পরিবেশ সুন্দর হবে, কর্মস্পৃহা বাড়বে। বছরের শুরুতেই একটি বা দুইটি ক্ষেত্র বেছে নিন যেগুলোর প্রতি সারা বছর বিশেষ মনোযোগ রাখতে পারবেন। পেশা বিষয়ক পরামর্শকরা বলেন, যে কোনো কাজের জন্য নিজের ডেস্কটপ এবং দিন-তারিখ-সময়সীমাসহ একটি কর্মপরিকল্পনা (ওয়ার্ক-ক্যালেন্ডার) খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। নিজের উপর অর্পিত কাজ, নানা বৈঠকের খুঁটিনাটি, কর্মকৌশল এর একটা চেক লিস্ট রাখুন।

চাকরি ছাড়ুন, চাকরি নিন

আপনার বর্তমান কর্মস্থল, বস কিংবা আপনার পদ যদি মনের মতো না হয় কিংবা যদি এখানে আপনার দক্ষতা  প্রমাণের যথেষ্ট সুযোগ না থাকে তাহলে এখনই সিদ্ধান্ত নিন। অন্য চাকরিতে যোগ দিয়ে চাকরি ছাড়ার চেষ্টা শুরু করুন। চাকরি বিষয়ক সাইটগুলোতে খেয়াল রাখুন। পেশাগত এবং ব্যক্তিগত পুরোনো সম্পর্কগুলো কাজে লাগান। অনেকেই জীবিকার জন্য যা করেন তা তাদের পছন্দ নয় এবং তাঁরা তা পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুত। এমন পেশাজীবীরা নতুন বছরকে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য একটি বড় সুযোগ বলে মনে করেন।

তবে, ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের বলছেন, যদি বর্তমান দায়িত্ব ও পদ নিয়ে অখুশি হওয়া সত্ত্বেও নতুন কোনো চাকরির ব্যবস্থা না করতে পারেন তাহলে বর্তমান প্রতিষ্ঠানেই আপনার পছন্দসই ক্ষেত্রে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য চেষ্টা করুন। কারণ কাজের বিষয়ে ভালো লাগা না থাকলে ভালোভাবে কাজ করা বা পেশায় উন্নতি করা দুষ্কর।