ঢাকা,শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০১৫, ২৯ ফাল্গুন ১৪২১, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৬

দেখায় শেখায় বাণিজ্য মেলায়

Rate this item
(0 votes)

‘বাণিজ্য মেলায় কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি উপার্জনের সুযোগ মিলছে। এটা আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে প্রেরণা জোগাচ্ছে। তা ছাড়া কাজের ধরন-ধারণের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ুয়া ফারহানা ইয়াসমিন বাণিজ্য মেলায় কাজের এমন অভিজ্ঞতার কথায় জানাচ্ছিলেন। তিনি ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের প্যাভিলিয়নে কাজ করছেন। ওই প্যাভিলিয়নেরই আরেকজন কর্মী মেহেদি হাসান পড়ছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে তেজগাঁও কলেজে। তাঁর মতে, ‘কিছুদিন বাদেই স্নাতক শেষ হচ্ছে, তাই পড়াশোনা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন চাকরি পাই—এমন নিশ্চয়তা পেতেই মূলত

কাজ করা।’ শুধু ফারহানা ইয়াসমিন কিংবা মেহেদি হাসান নন, মেলা ঘুরে প্যাভিলিয়নগুলোতে দেখা মিলবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থীর। আর এই তরুণ শিক্ষার্থীরা শুধু দেশি পণ্যের স্টলগুলোতেই নয়, কাজ করছেন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্যাভিলিয়নেও। মেলায় দুই শিফটে কাজ করার সুযোগ আছে। অনেকে নিজেদের পড়াশোনা ও ক্লাসের ফাঁকে সুবিধামতো বেছে নিয়েছেন সময়।
প্রাণের প্যাভিলিয়নে কাজে করছেন ইডেন কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের একজন ঈশিতা আলম বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা খুবই জরুরি। ফলে এখানে কাজ করা আমার কাছে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো।’ এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার সোহাস আলমের যুক্তি, ‘অলস সময় কাটানোর চেয়ে কাজের মধ্যে থাকলে দক্ষতা বাড়ে। আর কাজ শেখার জন্য বাণিজ্য মেলায় খণ্ডকালীন চাকরি উত্তম জায়গা।’ সোহাস কাজ করছেন সনি র্যাংগসের বিক্রয়কর্মী হিসেবে।
মোট ৩২ জন মেয়ে কাজ করেন সিঙ্গারের প্যাভিলিয়নে। বাণিজ্য মেলায় কাজ করার মূল লক্ষ্য যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়, তা-ই জানাচ্ছিলেন মেহেরুন নেসা ও নার্গিস পারভিন, ‘অভিজ্ঞতা নিতেই মূলত কাজ করছি। সঙ্গে বাড়তি উপার্জনও হচ্ছে।’
আবার রংপুরের কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী তৃষার গল্পটি অন্য রকম। ঢাকায় বেড়াতে এসে ঢুকে গেছেন কাজে।
তাঁর কণ্ঠে উচ্ছ্বাস, ‘আমার কাছে এটি একটি অনন্য সুযোগ। ঢাকার বাইরে সাধারণত এমন কাজের সুযোগ কম। আর এখানে তো প্রতিনিয়ত বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছি। নানা রকমের ক্রেতাদের সামাল দিতে হচ্ছে। কাজের পরিবেশ বুঝতে শিখছি। এটা পেশাজীবনে কাজে আসবে।’ আর সদ্য স্নাতক কামরুল ইসলাম নিজেকে একটু ঝালাই করে নিতেই নাকি বাণিজ্য মেলায় কাজ করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মনে করেন, ‘এভাবে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা চাকরিলাভের ক্ষেত্রে কাজে আসে।’ মিজানুর রহমানের কথার প্রতিফলন দেখা গেল প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের মন্তব্যে। তাঁরা নতুনদের কাজে সন্তুষ্ট। যেমনটি বলছিলেন ব্র্যাকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনির হোসাইন, ‘নতুনেরা বিক্রিয় ও বিপণন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছে। এখান থেকে কাজের প্রতি আন্তরিকতা, সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষতা বিবেচনায় আমরা অনেককেই স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে থাকি। ফলে এটা তাদের জন্য নিজেকে প্রমাণ করার একটা সুযোগও বটে!’